স্যন্দন প্রতিনিধি। আগরতলা। ১৮ জানুয়ারি : ত্রিপুরা পাওয়ার ট্রান্সমিশন লিমিটেডের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৭৯ টিলা স্থিত উর্জা ভবনে স্বাস্থ্য শিবির এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের তিনজন অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এবং কর্মচারীদের সম্বর্ধনা প্রদান করা হয়। আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ, ত্রিপুরা পাওয়ার ট্রান্সমিশন লিমিটেড জেনারেল ম্যানেজার রঞ্জন দেববর্মণ সহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা মন্ত্রী রতন লাল নাথ বক্তব্য রেখে বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎ পরিবহন এবং বিদ্যুৎ বিতরণের কাজ আগে একসাথেই হতো।
বর্তমানে এগুলি উৎপাদন, পরিবহন এবং বিতরণ পৃথক করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন বিদ্যুৎ বর্তমানে এমন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এসে পৌঁছেছে যে বিদ্যুৎ না থাকলে মোবাইল পর্যন্ত চার্জ দেওয়া যায় না। শুধু তাই নয় একটি হাসপাতাল পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়ে বিদ্যুতের কারণে। সুতরাং আধুনিক পৃথিবীর মূল চালিকা শক্তি হলো বিদ্যুৎ বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বলছে যে ব্যক্তি মানসিক, শারীরিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক দিক দিয়ে সুস্থ, তাকেই সুস্থ বলা হয়। মানুষকে এই ক্ষেত্রে কিভাবে সুস্থ রাখা যায় সেদিকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে।
২০১৭-১৮ সালে ত্রিপুরা রাজ্যে মানুষের বার্ষিক আয় ছিল এক লক্ষ ৪৪৪ টাকা, ছয় বছরে আয় বেড়ে হয়ে হয়েছে এক লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা। দারিদ্র দূরীকরণ নিয়ে ত্রিপুরা ১০০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছেন ৮২ নম্বর। কিন্তু প্রথম স্থান অধিকার করে আছে তামিলনাড়ু। তারা একশোর মধ্যে ৮৬ নম্বর পেয়েছে। সকলের জন্য সুস্বাস্থ্যে ত্রিপুরা একশোর মধ্যে পেয়েছে ৬৭ নম্বর। গুজরাট প্রথম স্থান দখল করে আছে। গুজরাট পেয়েছে ৮৫ নম্বর। বাড়ি বাড়ি, বাড়ি পরিশ্রুত পানীয় জল ২০১৮ সালের আগে ছিল ৩ শতাংশ, বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ৮৪ শতাংশ। নীতি আয়োগ রিপোর্টে সকলের জন্য পানীয় জল এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে ত্রিপুরা পেয়েছে একশোর মধ্যে ৮৩ নম্বর। একইভাবে নীতি আয়োগের রিপোর্টে সকলের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নে ত্রিপুরা পেয়েছে একশোর মধ্যে ৫৭ নম্বর। তিনি তথ্য দিয়ে আরও বলেন, ২০১৬ সালে ত্রিপুরায় পুরুষরা তামাক জাতীয় দ্রব্য সেবন করতো ৬৮ শতাংশ, বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬ শতাংশ। মদ্যপান করত ৫৭ শতাংশ, বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ৩১ শতাংশ। এই তথ্য দ্বারা প্রমাণিত ত্রিপুরার মানুষ স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন। তাই আজকের স্বাস্থ্যসেবের অনেকটাই কাজে আসবে সকলের জন্য বলে আশা ব্যক্ত করেন মন্ত্রী রতন লাল নাথ। অনুষ্ঠানের শেষে অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার এবং কর্মচারীদের মধ্যে সুব্রত দত্ত চৌধুরী, সুবল বিশ্বাস এবং অরুণ কুমার আচার্যীকে সম্মাননা তুলে দেন মন্ত্রী রতন লাল নাথ।

