স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৬ ফেব্রুয়ারি : বেতন নিয়ে প্রতিমাসে হয়রানির শিকার সমগ্র শিক্ষার শিক্ষকরা। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের রায় কার্যকর না করে সরকার এসএলপি করেছে। একাধিক সমস্যা সরকারের দৃষ্টিতে আনতে সারা রাজ্য জুড়ে ডেপুটেশন প্রদান করল সমগ্র শিক্ষার শিক্ষকরা। শুক্রবার সারা রাজ্যের সব জেলার জেলা শিক্ষা অধিকর্তার নিকট ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। তারই অঙ্গ হিসেবে পশ্চিম জেলার সমগ্র শিক্ষকরা কুঞ্জবন স্থিত পশ্চিম জেলার জেলা শিক্ষা অধিকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, সরকার নিয়মিত কর্মচারীদের এখন পর্যন্ত ৩৩ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা প্রদান করেছে।
কিন্তু সমগ্র শিক্ষার শিক্ষকরা এক শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পায়নি। বরং দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত কর্মচারীদের জানুয়ারি মাসের বেতন হয়নি। প্রতিমাসে বেতন হয় পাঁচ থেকে ছয় তারিখ। তাই আগামী সোমবারের মধ্যে যদি বেতন না হয় তাহলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। পাশাপাশি এই বিষয়গুলোর কারণে সরকারের দিকে আঙ্গুল তুলে তারা বলেন সমগ্র শিক্ষার শিক্ষকদের বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ আদালত থেকে দুবার সর্বশিক্ষা শিক্ষকদের নিয়মিতকরণ করার যে রায় দিয়েছে সেটা পর্যন্ত মান্যতা না দিয়ে পাল্টা শীর্ষ আদালতে গিয়ে এস.এল.পি করেছে ত্রিপুরা সরকার। তাই অবিলম্বে এসএলপি তুলে নিয়ে সরকার যাতে ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায় কার্যকর করে সমস্ত সমগ্র শিক্ষার শিক্ষকদের নিয়মিত করণ করে।
এদিকে খোয়াই জেলা শিক্ষা আধিকারিকের কাছে ডেপুটেশন প্রদান করেন খোয়াই সমগ্র শিক্ষার শিক্ষক-শিক্ষিকরা। এদিন প্রতিনিধিদল খোয়াই জেলা শিক্ষা আধিকারিক নীলমণি দেববর্মা কাছে ডেপুটেশন প্রদান করেন। ডেপুটেশনের পর তারা জানিয়েছেন, জেলায় সমগ্র শিক্ষার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এখনো বেতন পাননি। বেতন না পাওয়ায় চরম আর্থিক সমস্যার মুখে পড়েছেন।
জেলা শিক্ষা আধিকারিক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। সিপাহী জলা জেলা শিক্ষা আধিকারিক কণিকা দেববর্মার নিকট ডেপুটেশন প্রদান করে সর্ব শিক্ষার শিক্ষক শিক্ষিকারা। শুক্রবার বেলা দুইটায় বিশ্রামগঞ্জ বিদ্যা জ্যোতি স্কুলের কমপ্লেক্স এর মধ্যে সিপাহীজলা শিক্ষা আধিকারিক অফিস। সিপাহী জলার প্রায় ১৫০ জন সর্বশিক্ষার শিক্ষক শিক্ষিকারা একত্রিত হয়ে জেলা শিক্ষা আধিকারিক এর কাছে ডেপুটেশন দিয়ে তাদের বেতন দাবি করেছেন। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সর্বশিক্ষা সংগঠনের নেতৃত্ব তাপস পাল জানান এই মাসে তাদের বেতন হয়নি। গত বছর ডিসেম্বর মাসেও তাদের বোতন নির্ধারিত সময়ে না হওয়ায় তারা ডেপুটেশন দিয়েছিলেন। এরপর তাদের বেতন হয়েছিল। একইভাবে ফেব্রুয়ারি মাসের ৬ তারিখ অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও তারা তাদের পারিশ্রমিক পায়নি। জেলা শিক্ষা আধিকারিক কনিকা দেববর্মা তাদেরকে বলেছেন স্টেট নোডাল এজেন্সি একাউন্টে টাকা নেই। জেলা শিক্ষা আধিকারিক অফিস থেকে পিএফএমএস করে ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত টাকা না আসায় তাদের বেতন দেওয়া যায়নি। তবে তারা চেষ্টা করছেন অতি দ্রুত যাতে তাদের বেতন দিয়ে দেওয়া যায়। মাসের ৬ তারিখ বেতন না পাওয়ার কারণে পরিবার-পরিজনদের নিয়ে ভীষণভাবে সমস্যায় রয়েছে সর্বশিক্ষার শিক্ষক শিক্ষিকারা। তারা জেলা শিক্ষা আধিকারিক এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছে যাতে করে অতি দ্রুত তাদের বেতনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। জেলা শিক্ষা আধিকারিক এর কাছ থেকে আশ্বাস পেয়ে সর্ব শিক্ষার শিক্ষক-শিক্ষিকারা বাড়ি ফিরে যায়।সমগ্র শিক্ষার শিক্ষকরা এদিন সারা রাজ্য জুড়ে দাবি জানিয়েছে সরকার যাতে তাদের সমস্যার সমাধানের প্রতি গুরুত্ব দেয়।

