Tuesday, June 28, 2022
বাড়িরাজ্যআগে ওয়ার্ক ক্যালচার চলত কমিউনিস্টদের ভাব ধারায় : মুখ্যমন্ত্রী

আগে ওয়ার্ক ক্যালচার চলত কমিউনিস্টদের ভাব ধারায় : মুখ্যমন্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১০ এপ্রিল : আগে ওয়ার্ক ক্যালচার চলত কমিউনিস্টদের ভাব ধারায়। তারা কাজ কম করতেন। ফাঁকি দিতেন বেশী। এটা বর্তমানে সম্ভব নয়। যারা সরকারী কর্মী ও দলীয় কর্মী তারা সমাজের লোক। কেউ বড় ছোট নয়। কাজ বড় হয়, মানুষ বড় হয় না। কাজই শেষ কথা। ফাঁকি দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। সেই দিশাতে চলে রাজ্য সরকার। ত্রিপুরার মানুষের ভালবাসা আছে। তাই কোন ফাঁকি দিয়ে কাজে বিশ্বাসী নয়। রবিবার আজাদি কা অমৃত মহোৎসব উপলক্ষ্যে সদর মহকুমা শাসকের উদ্যোগে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে মেগা রক্তদান ও সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।

 আগে বহু পদক্ষেপ নেওয়া হলে ত্রিপুরার চরিত্র বদলে যেত। কিন্তু পূর্বতন সরকার কাজের নামে মহানুভবতা দেখাত। অথচ কাজের কাজ কিছুই করত না। অন্য রক্তদান করত আর নাম কামাতো তারা। আজকে এটা সম্ভব নয়। ত্রিপুরার মানুষ উদার, কিছু করতে জানে। প্রধানমন্ত্রী ত্রিপুরার মানুষকে সম্মান দিয়েছেন। আগে বঞ্চনা, লাঞ্ছনা, নিপীড়িত, কেন্দ্র দেয়না এই শব্দ গুলি শোনা যেত। এখন ত্রিপুরাতে এই শব্দ গুলি নেই। ত্রিপুরায় উন্নয়ন, পরিকাঠামোর বিস্তার, গুনগত মান  সম্পন্ন  উৎপান, আত্ম নির্ভর এই শব্দ গুলি ত্রিপুরার বাতাসে চলে এসেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এতদিন অব্যবস্থার কারনে রাজ্যের উন্নয়ন হচ্ছিল না। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে  বিজেপি সরকার এসেছে। ত্রিপুরায় ছিল কমিউনিস্ট সরকার। সেই সময় কর্মচারীদের এডহক পদন্নোতি, আধুনিক ব্যবস্থার সম্প্রসারণ হয়নি। কর্মচারীদের মধ্যে বিভাজন করে পদণ্ণোতি আটকাতে মামলা করা হয়। এতে এস টি, এস সি-রা সব চাইতে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এটা হয়েছে পুরনো সরকারের কারনে। বর্তমান সরকার এডহক পদন্নোতি করে চলনশীল সরকারের প্রমান দিয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।  টি এস আর-র অবসরের বয়স বাড়িয়েছে বর্তমান সরকার। আগে নির্বাচন পার দিতে। কিন্তু সুফল মিলত না কর্মচারীদের। বর্তমান সরকার সেই পথে হাটেনা। বিধানসভায় তিন বছর বাড়ানো হয়েছে টি এস আর-দের চাকুরী অবসরের সময়সীমা। কোন কর্মচারীকে কিতজ্ঞ থাকার জন্য সরকার কাজ করে না। এই সরকার সবকা সাথ সবকা বিকাশে বিশ্বাসী। ত্রিপুরা হেলথ সার্ভিস করা হয়েছে। এর জন্য আন্দোলন করতে হয়নি। বর্তমান সরকার যা বলে তা করে দেখায় বলে জানান তিনি।

আগে রক্তদান দিয়ে রাজনীতি করত সরকার। মানুষকে বলত প্রান দিয়েছে বলে। এখনও রক্তদান করা হয়। কিন্তু প্রান দিয়েছে বলে প্রচার করা হয় না। এটা মানুষের কর্তব্য। প্রাতিষ্ঠানিক রক্তদানকে শূন্যে নামিয়ে এনেছিল পূর্বতন সরকার। প্রাতিষ্ঠানিক রক্তদান অত্যন্ত জরুরী। এই প্রথা নষ্ট করে দিয়েছিল। এতে রোগীরা বিপাকে পড়ত। ২০১৮ সাল থেকে ফের প্রাতিষ্ঠানিক রক্তদানে জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এখন ত্রিপুরা বানিজ্যিক গেইটওয়ে হচ্ছে। আগে এটা ছিল ড্রাগসের গেইটওয়ে। বর্তমান সরকার মিশন মুডে কাজ করে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার জন্য বদ্ধ পরিকর বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন রক্তদান জীবন দান, নেশা মুক্ত ত্রিপুরা, অন্ন যোজনা ও পি ডি এস, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, সড়ক সুরক্ষা জীবন সুরক্ষার উপর একটি সচেতনতা মূলক মিছিলের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ৬ অ্যাম্বুলেন্সের গাড়ির চাবি তুলে দেন সি এম ও-র হাতে। উপস্থিত ছিলেন মেয়র দীপক মজুমদার, জেলা শাসক দেবপ্রিয় বর্ধন, সদর মহকুমা শাসক অসীম সাহা সহ অন্যান্যরা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য