Friday, March 21, 2025
বাড়িরাজ্যউগ্রপন্থার সমস্যা থেকে এখন মুক্ত ত্রিপুরা: মুখ্যমন্ত্রী

উগ্রপন্থার সমস্যা থেকে এখন মুক্ত ত্রিপুরা: মুখ্যমন্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২৪ সেপ্টেম্বর :  উগ্রপন্থার সমস্যা থেকে এখন সম্পূর্ণ মুক্ত ত্রিপুরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী অমিত শাহের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সমগ্র উত্তর পূর্বাঞ্চলের পাশাপাশি, ত্রিপুরাতেও উগ্রপন্থা দমনে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বিগত কয়েক বছরে। এরই একটি প্রতিফলন ত্রিপুরায় এনএলএফটি এবং এটিটিএফ বৈরী গোষ্ঠীর ৫৮৪ সদস্যের আত্মসমর্পণ।

মঙ্গলবার সিপাহীজলা জেলার জম্পুইজলায় টিএসআর ৭ম ব্যাটেলিয়নের সদর কার্যালয়ে আত্মসমর্পণকারী উগ্রপন্থীদের স্বাগত জানিয়ে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।তিনি বলেন, হিংসা ও উগ্রপন্থা দিয়ে কোন সমস্যার সমাধান করা যায় না। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার জনজাতিদের সার্বিক বিকাশে অগ্রাধিকার দিয়ে নানারকম প্রকল্প রূপায়িত করেছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার এবং দুই বৈরী গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির অংশ হিসেবে এই আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এনএলএফটি (ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা) ও এটিটিএফ (অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স ) বৈরী গোষ্ঠীর ৫৮৪ সদস্য আত্মসমর্পণ করে। গত ৪ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহার উপস্থিতিতে ভারত সরকার, ত্রিপুরা সরকার, এনএলএফটি এবং এটিটিএফ-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বিশ্বমোহন দেববর্মা, এনএলএফটি (বিএম), পরিমল দেববর্মা, সভাপতি, এনএলএফটি (পিডি), প্রসেনজিৎ দেববর্মা, সভাপতি, এনএলএফটি (ওআরআই) এবং অলিন্দ্র দেববর্মা, সভাপতি, এটিটিএফ মুখ্যমন্ত্রীর সামনে একে সিরিজের রাইফেল নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজকের এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান শান্তি চুক্তির ফলাফল। যা শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ত্রিপুরার এগিয়ে চলার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। যতক্ষণ শান্তি সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা আসবে না ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সমৃদ্ধি আসবে না।

মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণের পর উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির উন্নয়নে বিশেষ অগ্রাধিকার দেন। তিনি জোর দিয়েছিলেন যে উত্তর-পূর্বের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা লক্ষ্য করছি যে উত্তর পূর্বাঞ্চল একটা সময় সন্ত্রাসবাদে জর্জরিত থাকলেও এখন এই সমস্যা থেকে প্রায় মুক্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে এই অঞ্চলে প্রায় ১২টি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার মধ্যে তিনটি ত্রিপুরার সাথে সম্পর্কিত। কারণ রাজ্য ও দেশে শান্তি না থাকলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। আজ থেকে আমরা বলতে পারি ত্রিপুরা সন্ত্রাসমুক্ত রাজ্য। এর পাশাপাশি রাজ্য এবং কেন্দ্র উভয় সরকারই জনজাতি জনগণের উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। যারা এতদিন ধরে আত্মগোপন করে কষ্টকর অবস্থায় জীবনযাপন করেছেন এখন মূলস্রোতে ফিরে আসার জন্য আমি তাদেরকে স্বাগত জানাই। এদিন এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব জে কে সিনহা,  রাজ্য পুলিশের ডিজিপি অমিতাভ রঞ্জন, ডিজিপি (গোয়েন্দা) অনুরাগ, রাজ্য স্বরাষ্ট্র সচিব ড. পি কে চক্রবর্তী, সিপাহীজলা জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল সহ অন্যান্য আধিকারিকগণ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য