Wednesday, May 18, 2022
বাড়িরাজ্যএ ডি সি নিঃস্ব করে দিয়েছে তিপ্রা মথা : মানিক

এ ডি সি নিঃস্ব করে দিয়েছে তিপ্রা মথা : মানিক

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৩ এপ্রিল : এ ডি সি -তে যারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাদের এক বছর হয়ে গেছে। কিন্তু তাদের সরকার বললে ভুল হবে। আর এটা যদি সরকার বলা হয় তাহলে বিভ্রান্ত সৃষ্টি হবে। কারণ এ ডি সি অবস্থা কি, রাজ্যের মানুষ জানে। রাস্তাঘাট ভেঙে চৌচির, সরকারি কর্মী নেই, অফিসার নেই, জল, বিদ্যুৎ নেই, হাসপাতালে ডাক্তার নেই, নার্স নেই সব নিঃস্ব হয়ে গেছে। খবর কে রাখছে। এর জন্য একটি কথা বলা হচ্ছে না। রবিবার উপজাতি যুব ফেডারেশনের ১৬ তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে আগরতলা টাউন হলে বক্তব্য রেখে এ কথা বলেন বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার।

তিনি বলেন, গ্রেটার তিপরাল্যান্ডের অর্থটা কি? এটা বাঙালির ত্রিপুরা, উপজাতিরো ত্রিপুরা, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সকলের ত্রিপুরা। দেশ ভাগ করার আওয়াজ তো প্রথম কংগ্রেসের তুলেছিল। তখন এর বিরোধিতা করেছিল বিধানসভা থেকে বামফ্রন্ট। নৃপেন চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় হিন্দুস্তান পাকিস্তান নিয়ে চলছিল জল্পনা-কল্পনা। সেই সময় চেয়েছিল আসাম সীমান্ত পর্যন্ত হিন্দুস্তান করে দেওয়ার। বিধানসভা থেকে বামফ্রন্ট এর বিরোধিতা করেছিল। শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার বলে জানান তিনি। শিক্ষা, কাজ এইগুলি দাবী বেকার যুবক-যুবতীদের। রেগা, লাইনম্যান-এ গুলির কাজ নেই। এগুলি টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে মন্ডলের নেতারা। কিন্তু প্রতিশ্রুতি ছিল ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার। বছরে ৫০ হাজার চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পালন করেনি সরকার। শনিবার সন্ধ্যায় মন্ত্রী বলছেন সাড়ে ১১ হাজার চাকরি দিয়েছেন। আর কয়েক মাস পর বিধানসভা নির্বাচন। লজ্জা করছে না এভাবে কথাগুলো বলার জন্য। কি হয়েছে প্রতিশ্রুতি। মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে তথ্য দিচ্ছেন মন্ত্রী।

জনশিক্ষা যে স্বপ্ন ছিল সেই শিক্ষা বাস্তবে মাটিতে করে দেখিয়েছে বামফ্রন্ট সরকার। আর শিক্ষাকে এখন কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর এই অবস্থায় উপজাতি দরদিরা কোথায়। একটি কথাও বলা হচ্ছে না উপজাতি দরদী দের পক্ষ থেকে। পেট্রোল ডিজেল ও রান্নার প্রয়োজনীয় সামগ্রী সবকিছুর দাম বাড়ছে। সরকার কারো কথা শুনছে না। এইগুলি বাদ দিয়ে বাঁচা সম্ভব নয়। আর এইগুলো নিয়ে যাতে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়, তার জন্য বিভাজন তৈরি করতে চাইছে। এবং উপজাতি দরদীদার গ্রেটার তিপরাল্যান্ডের কথা বলছে। তাই একে উপেক্ষা করে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তোলে এগিয়ে যেতে হবে বলে জানান তিনি। আর বলেন, উপজাতিদের উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে উপজাতি যুব ফেডারেশন ভূমিষ্ঠ হয়েছিল। কেন টি ওয়াই এফ গঠন করা হয়েছে তা জানতে হবে কর্মীদের। কারণ অতীত এবং বর্তমানের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। এটা অস্বীকার করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সামন্ত রাজন্যের আমলকে উচ্ছেদ করে ত্রিপুরার বুকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রজাতন্ত্র সরকার চাই। তা নিয়ে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। ত্রিপুরা কোন দিকে থাকবে ভারতের দিকে নাকি পাকিস্তান দিকে, শেষ পর্যন্ত তৎকালীন মহারাজা ত্রিপুরাকে ভারতের সাথে রাখার জন্য চেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময় প্রয়াত হন মহারাজা। এরপর রাজ অন্দরের একটা অংশ ত্রিপুরাকে পাকিস্তানের সাথে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত করেছিল। এটা যখন প্রকাশ্যে আসে তখন ত্রিপুরায় গণতান্ত্রিক আন্দোলনে উপজাতি জনগণ জনশিক্ষা সমিতির মাধ্যমে প্রতিহত করে ভারতের সাথে যুক্ত হয় ত্রিপুরা। তারপর জন শিক্ষা সমিতির উদ্যোগে চার শতাধিক স্কুল তৈরি হয়েছিল। কিন্তু উপজাতিদের বিকাশের জন্য তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের কোন উপলব্ধি ছিল না। কিন্তু জনশিক্ষা সমিতি জাতি উপজাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনের রূপ নিয়ে এগিয়ে যেতে শুরু করে।

উপজাতি জনশক্তিকে ১৯৬৭ সালে মাঠে নামায় শাসক এবং শোষকরা। এবং তাদের স্লোগান ছিল বিশুদ্ধ উপজাতি ঐক্য ও আন্দোলন। কিন্তু তৎকালীন সরকার তাদের বিপথে পরিচালনা করার চেষ্টা করেছিল। আর সেখানেই শ্রেণীহীন শোষণমুক্ত সমাজ গড়তে গোড়াপত্তন করেছে উপজাতি যুব ফেডারেশন। নারী পুরুষের মধ্যে কোনরকম ভেদাভেদ থাকবে না, জাতি কৃষ্টি সংস্কৃতি এগুলির উপর কোন ধরনের আঘাত আসবে না। আর এর প্রতিহত করতেই টি ওয়াই এফ -এর অগ্রযাত্রা। আর তখন গণমুক্তির পরিষদ এবং টি ওয়াই এফ যদি অগ্রগামী না হতো তাহলে বামফ্রন্ট সরকারের উদ্ভবদয় হয় না। সুতরাং মাটি ফুঁড়ে উঠেনি বামফ্রন্ট সরকার। তারপর বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় ধীরে ধীরে উপজাতিদের দাবি দাওয়া পূরণ করে উন্নয়নের দিশা দেখিয়েছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, জমি হস্তান্তর, এ ডি সি সবদিক দিয়ে জাতি উপজাতি সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে দিশা দেখিয়েছিল। বর্তমানে ককবরক ভাষা যে অষ্টম তপশিলি করার জন্য দাবি উঠছে তা তৎকালীন সময়ের স্বীকৃতি ছিল না। ত্রিপুরার কৃষ্টি-সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বামফ্রন্ট সরকার ভূমিকা নিয়েছে বলে জানান বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার। কি হয়নি বামফ্রন্ট সরকারের আমলে নগর হয়েছে, স্কুল কলেজ মেডিকেল কলেজ রাস্তাঘাট সবকিছু হয়েছে। প্রশাসনিক উঁচু স্তর থেকে শুরু করে একদম নিচের স্তর পর্যন্ত উপজাতীয় অংশের মানুষদের নিয়োজিত করে সাজানো হয়েছে। বামফ্রন্ট সরকারের জন্য এটা ছিল গর্বের। এতে মৌলিক পরিবর্তন এসেছিল উপজাতিদের মধ্যে। ব্যাপক উচ্ছাস দেখা গেছে সেই উপজাতিদের মধ্যে। পরবর্তী সময় সন্ত্রাসবাদীদের কাঁধে ভর করে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার তা রাজ্য থেকে বামফ্রন্ট সরকারকে উচ্ছেদ করেছিলো। তারপর নিয়ম ভেঙে আগরতলা শহরে সাড়ে তিন শতাধিক নিয়োগ করে। কোন উপজাতিকে নিয়োগ করা হয়নি। পরবর্তী সময় রাজ্যের মানুষ আবারো কংগ্রেস সরকারকে উচ্ছেদ করে বামফ্রন্ট সরকারকে প্রতিষ্ঠা করে। পরে বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠা হয়ে ফরেস্ট আইন এবং উপজাতিদের অধিকার ফিরিয়ে দেয় বলে জানান তিনি।

এদিন সকালে টাউন হলে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন টি ওয়াই এফ -এর সভাপতি রাজেন্দ্র রিয়াং। তিনি বলেন, টি ওয়াই এফ -এর মূল লক্ষ্য হলো সকলের জন্য কাজ চাই। কিন্তু স্বাধীনতার পর দেশে বেকারত্ব এতটা বৃদ্ধি পূর্বে কখনো দেখা যায়নি। দেশে বেকারত্বের হার বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১২.০২ শতাংশ। সারা দেশের মতো একই অবস্থা ত্রিপুরাতেও। সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেগুলি পালন করছে না। সুতরাং রাজ্যের বেকাররা এখন বুঝতে পারছে কত ভাওতাবাজি করে বিজেপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই কাজ, গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে এই সম্মেলন বলে জানান তিনি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য