Tuesday, July 23, 2024
বাড়িরাজ্যস্বাস্থ্য পরিষেবায় ব্যাপক অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে রাজ্য সরকার: মুখ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য পরিষেবায় ব্যাপক অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে রাজ্য সরকার: মুখ্যমন্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১৬ জুন : রক্তদান ও রক্ত মজুতের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে। রক্তের চাহিদা অনুযায়ী রক্ত সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত রক্ত সংরক্ষণ করে রাখা যায়। অন্যথা সেটা নষ্ট হয়ে যায়। তাই মুমূর্ষু মানুষের জীবন রক্ষার জন্য ১৮ থেকে ৬৫ বছরের সকল অংশের মানুষকে স্বেচ্ছা রক্তদানে এগিয়ে আসতে হবে। এর পাশাপাশি রাজ্য সরকার চিকিৎসা পরিষেবার জন্য ব্যাপক অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার মতো মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনাতে মানুষকে সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

                 রবিবার ভারতীয় জনতা পার্টি ৮ নং টাউন বড়দোয়ালী মন্ডলের ৩৩ নং ওয়ার্ডের সদস্যদের উদ্যোগে বড়দোয়ালি আপনজন ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

                      অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্বেচ্ছা রক্তদানের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোভিড মহামারির সময়েও রাজ্যে রক্তের স্বল্পতা দেখা দিয়েছিল। ব্লাড ব্যাঙ্কে পর্যাপ্ত রক্ত না থাকলে ডাক্তার ও রোগীদের অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়। কোভিডের সময়ে এই সমস্যা হয়েছিল। এছাড়া নির্বাচন চলাকালীন সময়েও সকলের ব্যস্ততার জন্য রক্তদান করা হয়ে উঠে না। একারণে ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়। তাই সেই সময়ে আমি সকলের কাছে আহ্বান রেখেছিলাম রক্তদান করার জন্য। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা, ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও রাজনৈতিক সংগঠনের কাছে রক্তদানের জন্য আহ্বান করা হয়েছিল।

                            মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের মোট জনসংখ্যার অনুপাতে ১ শতাংশ রক্তের ইউনিট ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে থাকা দরকার। কারণ ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে রক্তের পর্যাপ্ত মজুত না থাকলে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে গিয়ে অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হয় চিকিৎসকদের। এতে রোগী ও তাদের আত্মীয়দের সমস্যায় পড়তে হয়। তাই স্বেচ্ছা রক্তদানের কোন বিকল্প হতে পারে না। রক্তদান হচ্ছে মানব জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দান। রক্তদান সম্পর্কে অনেকের মনে ভীতি বা আশঙ্কা কাজ করে যে রক্ত দিলে শরীরে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই ভয় ভীতি দূর হয়ে গেছে। এখন রাজ্যে স্বেচ্ছা রক্তদানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসছেন মানুষ। তবে ছাত্রছাত্রীদেরও রক্তদানে আরো উদ্বুদ্ধ হতে হবে। ১৮ বছর থেকে ৬৫ বছর পর্যন্ত সকলে রক্তদান করতে পারেন। আর রক্তদান করা শরীরের জন্যও ভালো। কারণ রক্তদান করলেই শরীরে নতুন রক্ত তৈরি হয়। এতে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এছাড়া রক্তদানের মাধ্যমে অনেক রোগ থেকে আমরা রেহাই পেতে পারি। সাধারণত পুরুষরা তিন মাস এবং মহিলারা চার মাস পরপর রক্ত দিতে পারেন। রক্ত আমাদের অনেক কিছু শেখায়। এরমধ্যে থাকে না কোন জাতিভেদ। রক্তের কোন ধর্ম বর্ণ হয় না।

                                 তথ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে বর্তমানে ৬টি রক্তের সেপারেশন সেন্টার রয়েছে। এরমধ্যে চারটি সরকারি এবং দুটি বেসরকারি। এর পাশাপাশি ১২টি সরকারি ও ২টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক রয়েছে রাজ্যে। আমাদের সবসময় রক্তের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে সার্জারি করার সময়, অ্যানিমিয়া রোগী, দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগী, থ্যালাসেমিয়া রোগী সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত রক্তের প্রয়োজন হয়। আর স্বেচ্ছা রক্তদানের মাধ্যমেই এই রক্তের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। এদিন চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

                        অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, ক্লাব সম্পাদক সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। অনুষ্ঠানে রক্তদান শিবির ঘুরে দেখে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের উৎসাহিত করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা।

                          এদিকে এদিনই ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস এসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত অপর একটি স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। কৃষ্ণনগরস্থিত সংগঠনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই মেগা রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময়ে স্বেচ্ছা রক্তদানের পরিমান কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবে এখন আবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ স্বেচ্ছা রক্তদানে এগিয়ে আসছেন। রক্তদান এখন অনেকাংশে গণ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এই কর্মসূচিতে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, টিআইডিসির চেয়ারম্যান নবাদল বনিক, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ড. বিশাল কুমার সহ আয়োজক সংগঠনের অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকগণ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য