Thursday, May 30, 2024
বাড়িরাজ্যন্যায্য পাওনার দাবিতে সড়ক অবরোধ ইট ভাট্টা শ্রমিকদের, শ্রম দপ্তরে গেলেন বামেদের...

ন্যায্য পাওনার দাবিতে সড়ক অবরোধ ইট ভাট্টা শ্রমিকদের, শ্রম দপ্তরে গেলেন বামেদের প্রতিনিধি দল

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৬ মে : গোটা মরশুম কাজ করানোর পর বাড়ি যাওয়ার সময় আসলে বহিঃরাজ্যের শ্রমিকদের মজুরি প্রদানে তালবাহানা রাজ্যের ইট ভাট্টার মালিকদের ট্র্যাডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষার মরশুম শুরু হওয়ার সাথে সাথে ইট ভাট্টা গুলিতে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এই সময় বহিঃরাজ্য থেকে ইট ভাট্টা গুলিতে কাজ করতে আসা শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্য মজুরি মালিকদের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে খুশি মনে বাড়িতে ফিরে যায়।

 কিন্তু রাজ্যের একাংশ ইট ভাট্টা মালিক এই শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো শ্রমের মজুরি নিয়ে তালবাহানা করে। রবিবারের পর সোমবারও ফের এই ধরনের একটি ঘটনা প্রকাশ্যে এল। সোনামুড়া মহকুমার অন্তর্গত ভেলুয়ারচর এলাকার বাবা ইট ভাট্টায় কাজ করতে আসে বহিঃরাজ্যের শ্রমিকরা। শুরুতে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও, শ্রমিকরা বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সময় আসার সাথে সাথে মালিক পক্ষের তালবাহানা শুরু হয়ে যায়। অভিযোগ গত এক মাস ধরে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দিচ্ছে না মালিক পক্ষ। ন্যায্য পাওনার জন্য তারা মালিকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। বাধ্য হয়ে সোমবার দুপুরে শ্রমিকরা পায়ে হেঁটে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। বিশালগড় মহকুমার অন্তর্গত দুর্গানগর এলাকায় পৌঁছানোর পর শ্রমিকরা ন্যায্য পাওনার দাবিতে সড়ক অবরোধে সামিল হয়।

 শ্রমিকদের একটাই দাবি তাদের ন্যায্য পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হোক। এক মাস ধরে তারা নিজের পকেটের টাকা খরচ করে খাচ্ছে। মালিক কোন টাকা দিচ্ছে না। ইট ভাট্টায় কাজ বন্ধ হওয়ার পর থেকে মালিক ইট ভাট্টায় আসনে না। ফলে তারা মালিকের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না। শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের ফলে রাস্তার দুই পাশে আটকে পরে যানবাহন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বিশালগড় থানার পুলিশ। পুলিশ শ্রমিকদের সাথে দীর্ঘ সময় আলোচনা করে আশ্বাস প্রদান করে মালিকের সাথে কথা বলে তাদের ন্যায্য পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পুলিশের কাছ থেকে এই আশ্বাস পেয়ে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এদিকে এ বিষয় নিয়ে সোমবার ত্রিপুরা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শ্রম দপ্তরের কমিশনারকে অবগত করতে যায় এক প্রতিনিধি দল।

 উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন দাস সহ অন্যান্যরা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন দাস জানান, রাজ্যে বিভিন্ন ইটভাট্টার শ্রমিকরা বিভিন্নভাবে বঞ্চনার শিকার। বর্তমানে তাদের কাজ নেই। কারণ এই মরশুমে শ্রমিকদের কাজ থাকে না। এই সময় তাদের সমস্ত মজুরি মিটিয়ে নিজ নিজ রাজ্যে পাঠানোর জন্য মালিকদের বন্দোবস্ত করতে হয়। কিন্তু দেখা গেছে রাজ্যে বিভিন্ন ইটভাট্টার শ্রমিকরা বকেয়া মজুরি পাচ্ছে না। ফলে শ্রমিকরা কাজ শেষে বাড়িও ফিরতে পারছে না। এবং মজুরি চাইতে গিয়ে তারা শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে অধিকাংশ মালিক শ্রমিকদের সাথে তালবাহানা করছে। এ বিষয় নিয়ে সোমবার ত্রিপুরা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শ্রম দপ্তরের কমিশনারকে অবগত করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে তাদের বকেয়া মজুরি মিটিয়ে দিয়ে নিজ নিজ রাজ্যে ফেরানোর জন্য বন্দোবস্ত করতে মালিকদের বাধ্য করার জন্য। শ্রম দপ্তরের কমিশনার অসীম সাহা আশ্বস্ত করেছেন এ বিষয়ে তিনি দেখবেন। ডেপুটেশনের পর এই কথা জানান তপন দাস।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য