স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২৮ ডিসেম্বর : ভুল চিকিৎসার কারণে আবারো মৃত্যু হল ১০ বছরের এক শিশু সন্তানের। এমনটাই অভিযোগ উঠল মৃতের পরিবারের তরফে। ঘটনা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আগরতলা জিবি হাসপাতালে। মৃত শিশুর নাম আয়ুষ মালাকার। গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে কৃষক প্রীতম দাসের বিরুদ্ধে।
সিধাই মোহনপুর এলাকার কলকলিয়ার কারিপুরের দশ বছরের শিশু সন্তান আয়ুষ মালাকারের ইউরিনাল সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যার জন্য আয়ুষ মালাকারের পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসক প্রীতম দাসের দারস্ত হয়। আয়ুষ মালাকারের পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে আগরতলার এডভাইজারি চৌমুহনীতে চিকিৎসক প্রীতম দাসের ব্যক্তিগত চেম্বারে আয়ুষ মালাকারকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে তার পরিবারের লোকজন। সেখানে চিকিৎসক প্রীতম দাসের তত্ত্বাবধানে চলতে থাকে আয়ুস মালাকারের চিকিৎসা। চিকিৎসক প্রীতম দাসের কথা অনুযায়ী তার চেম্বার থেকেই সমস্ত ঔষধ করা হয়েছে আয়ুষ মালাকারের চিকিৎসার জন্য। আগরতলা জিবি হাসপাতালে ১০ বছরের এই ছোট্ট সন্তানের গোপনাঙ্গে অস্ত্রোপচার করার জন্য চিকিৎসক প্রীতম দাস দিনক্ষণ ঠিক করেছিলেন গত বৃহস্পতিবার। এই অপারেশন করে আয়ুষ মালাকারকে সুস্থ করে তোলার জন্য তিনি ১ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসক প্রীতম দাসকে এখন পর্যন্ত আয়ুষ-মালাকারের পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়ে গেছে।
সেদিন অপারেশন টেবিলে আয়ুষ মালাকারকে নিয়ে যাওয়ার পরেও চিকিৎসক প্রীতম দাস অপারেশন করেননি। এরপর চিকিৎসক প্রীতম দাস অপারেশন করার জন্য পুনরায় দিনক্ষণ ঠিক করেন ২৮ ডিসেম্বর। সেই অনুযায়ী আয়ুষ মালাকারকে বুধবার আগরতলা জিবি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বৃহস্পতিবার অপারেশনের টেবিলে তোলার পর আয়ুষ মালাকারের জন্য প্রীতম দাসের চেম্বার থেকে পুনরায় ওষুধ কিনে আনা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য কোন ওষুধই আর কাজে এলোনা। আয়ুষ মালাকারের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসক প্রীতম দাসের গাফিলতির কারণে অপারেশন টেবিলে প্রাণ হারিয়েছে তাদের এই ১০ বছরের ছোট্ট সন্তান আয়ুস। শিশুটি মৃত বলে অপারেশন টেবিল থেকেই চলে যায় চিকিৎসক প্রীতম দাস। –
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই জিবি হাসপাতালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দশ বছরের শিশুসন্তান আয়ুষ মালাকারের পরিবারের লোকজন অঝোরে চিৎকার করতে থাকে। সন্তান হারানোর যন্ত্রণায় কাতর আয়ুষ মালাকারের পরিবার। চিৎকার করে কান্না করতে থাকে আয়ুশের মা। আয়ুষের পরিবারের পাশাপাশি এলাকার লোকজনও উপস্থিত ছিল জিবি হাসপাতালে। উত্যক্ত পরিস্থিতি শান্ত করতে জিবি হাসপাতালে ছুটে আসে পুলিশ। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয় টিএসআর জওয়ানদের।

