স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২৩ ডিসেম্বর : ফল প্রকাশ করে অতিসত্বর এসটিজিটি ২০২২ উত্তীর্ণদের রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলগুলোতে শিক্ষক পদে নিয়োগের দাবিতে শনিবার উজ্জয়ন্ত স্টেট মিউজিয়ামের সামনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেন পরীক্ষার্থীরা। প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ পরীক্ষার্থী নিজেদেরকে উত্তীর্ণ বলে ধরে নিয়েছে। যদিও তাদের ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এদিন এই কর্মসূচিতে শামিল হন চাকরি প্রত্যাশী পরীক্ষার্থীরা।
শিক্ষক স্বল্পতা দূরীকরণের লক্ষ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা শিক্ষামন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহার কাছে নিয়োগের দাবী জানান তারা। তারা জানিয়েছে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ পরীক্ষার্থী এস টি জি টি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন। ফলাফল প্রকাশ না হলেও এমনটাই তাদের ধারণা বর্তমানে রাজ্যে নবম এবং দশম শ্রেণীতে শিক্ষক স্বল্পতা ব্যাপক হারে তৈরি হয়েছে। পরীক্ষা নেওয়ার প্রায় এক বছর দুই মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও তাদের ফলাফল প্রকাশ এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। বিভিন্ন সময়ে তারা বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয়ে ফল প্রকাশ এবং শিক্ষক পদে নিয়োগের দাবিতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীদের কাছে আর্জি জানিয়েছে। এমনকি ব্যক্তিগতভাবে তারা মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছে। তাদেরকে বলা হয়েছে যেহেতু শিক্ষা দপ্তর বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে, মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহা ই পারবেন তাদের এই সমস্যার সমাধান করতে।
তারা বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চাইলেও মুখ্যমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে তারা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। যার কারনে তাদের এই সমস্যা দূর করার জন্য তারা মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা জানতে পেরেছিল গ্রীষ্মকালীন অধিবেশনে এস টি জি টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দু একটি কথা বলেছিলেন। কিন্তু তারপর থেকে এখন পর্যন্ত তারা জানেন না তাদের বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কি ভাবনা-চিন্তা রয়েছে। শিক্ষা দপ্তর থেকে ২৩০ টি পদে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। তাদের দাবি এই সংখ্যাটা একেবারেই কম। কারণ টেট উত্তীর্ণদের চাকরি দেওয়ার পর এখনো পর্যন্ত শিক্ষক স্বল্পতা দূর হয়নি। আর মাধ্যমিক স্তরে এখন পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি। চলতি বছরেও বহু শিক্ষক অবসরে চলে যাবেন। ফলে শিক্ষক সংকট বেড়েই যাবে। এক্ষেত্রে শিক্ষক পদে তাদেরকে নিয়োগ না করা হলে শিক্ষার মান আরো অবনতির দিকে চলে যাবে। এর জন্য শিক্ষার মান যাতে বজায় থাকে এবং শিক্ষক স্বল্পতা যাতে দূরীকরণ করা যায় এর জন্যই তারা শিক্ষক পদে নিয়োগের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

