Wednesday, October 20, 2021
বাড়িরাজ্যশারদ উৎসবের ছোঁয়া মহালয়ার ভোরে

শারদ উৎসবের ছোঁয়া মহালয়ার ভোরে

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৬ অক্টোবর : পুরনো ঐতিহ্য অনুযায়ী মহালয়ার সকালে প্রাত ভ্রমণে বের হন অনেকেই। দীর্ঘদিন ধরে এই রীতি চলে আসছে। তবে মাঝে করোনার জেরে এই প্রাতঃ ভ্রমণে কিছুটা ব্যঘাত ঘটেছিল। বুধবার মহালয়ার পুনঃ প্রভাতে জনঢল পরিলক্ষিত হয় শহর আগরতলা ও শহরতলিতে। এদিন বিভিন্ন স্থানে ভোরে মানুষ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পরেন প্রাতঃ ভ্রমণে। প্রাতঃ ভ্রমণে বের হওয়া অনেকেই কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

 তাদের বক্তব্য একটা বছর করোনার আতঙ্কে উৎসবের আমেজ ফিকে হয়ে গিয়েছিল। এই বছর কোরনার ভ্রূকুটি কাটতেই রাস্তায় বেড়িয়েছেন। অনেক নতুন মানুষের সঙ্গে আত্মীয়তা তৈরি হয়েছে। মহালায়র মধ্য দিয়ে উৎসবের আমেজে মাতল রাজ্যের মানুষ। দীর্ঘ এক বছরের অবসান শেষে মা আসছেন। আর তাই পরিবার নিয়ে এই উৎসবের আমেজ ভাগ করে নিতে প্রাতঃ ভ্রমন বলে জানান অনেকেই। রাজধানীর কলেজটিলা এলাকায় ব্যাপক ভিড় পরিলক্ষিত হয়। সব বয়সের মানুষের মিলিন ক্ষেত্রে পরিণত হয় মহালয়ার সকাল। তবে কেউ কেউ বলেন প্রত্যেক দিন সকালে হাটা উচিৎ। এই ক্ষেত্রে মহালয়া বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। এম বি বি কলেজ এলাকা একটা বিশেষ স্থান। তাই বার বার আসতে ইচ্ছে করে বলেন জানান এক প্রাতঃ ভ্রমণকারী। 

এদিকে ভাদ্র পূর্ণিমার পরবর্তী প্রতিপদ থেকে অমাবস্যা তিথি পর্যন্ত পিতৃপক্ষ। অমাবস্যা পিতৃপক্ষের শেষ। মহাভারতে কর্ণের আত্মা স্বর্গে অবস্থান কালে খাদ্যদ্রব্য হিসেবে তাকে স্বর্ণ এবং রত্ন দেওয়া হয়। কর্ণ এর কারণ জানতে চাইলে তাঁকে বলা হয়, দাতা কর্ণ সারা জীবন স্বর্ণ এবং রত্ন দান করে গিয়েছেন। পিতৃপুরুষের উদ্দেশে খাদ্য বা জল দান করেননি। এই কারণে তাঁকে স্বর্গে স্বর্ণ এবং রত্ন খাদ্য হিসাবে দেওয়া হচ্ছে। কর্ণ বলেন, পিতা এবং পিতৃপুরুষের সম্বন্ধে তিনি অবহিত ছিলেন  না। যুদ্ধের আগের রাতে তাঁর মা তাঁকে পিতা এবং পিতৃপুরুষের সম্বন্ধে অবহিত করেন। পিতৃপুরুষের উদ্দেশে খাদ্যদ্রব্য এবং জল প্রদান না করা কর্ণের অনিচ্ছাকৃত ভুল। কর্ণকে ভুল সংশোধন করার জন্য ইন্দ্র ১৬ দিনের জন্য মর্তে গিয়ে পিতৃপুরুষের উদ্দেশে অন্ন এবং জল দানের অনুমতি দেন। এই ১৬ দিন পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয়। পূর্ব পুরুষের মৃত্যুর তিথিতেই  তর্পণ করা উচিত। সম্ভব না হলে পিতৃপক্ষের শেষ দিন অর্থাৎ অমাবস্যায়। পূর্বপুরুষ, ঋষি, পিতামাতা এবং গুরুর উদ্দেশে খাদ্যদ্রব্য ও জল নিবেদনে তাঁদের তুষ্ট করাই হল তর্পণ।  পুরাণে বলা হয়েছে পিতৃপুরুষ তুষ্ট হলে, তাঁদের আশীর্বাদে দীর্ঘায়ু, ধন সম্পত্তি, জ্ঞান, শান্তি এবং মৃত্যুর পর স্বর্গ ও মোক্ষ লাভ হয়। বুধবার রাজধানীর লক্ষ্মীনারায়ন বাড়ীর ঘাটে এই তর্পণ করা হয়। সকাল থেকেই ভীড় জমান অনেকেই। মহালয়ার তাৎপর্য তুলে ধরেন পুরোহিত।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য