স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৩১ জুলাই : বৃহস্পতিবার আগরতলা প্রজ্ঞা ভবনে আগরতলা গভমেন্ট মেডিকেল কলেজ এবং ইন্ডিয়ান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় মেডিকেল অফিসার এবং কমিউনিটি হেলথ অফিসারদের জন্য একটি রাজ্য-স্তরের প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। প্রদীপ প্রজ্বলন করে প্রশিক্ষণ শিবিরের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। শিবিরের মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা তপন মজুমদার, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধিকর্তা সহ অন্যান্য আধিকারিক। অনুষ্ঠানে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রেখে বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার উপর একটি পোস্ট গ্রেজুয়েশনের কোর্স রয়েছে।
দেশের স্বনামধন্য এইমস হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে হাসপাতাল পরিচালনার উপর সেই হাসপাতালের ডাইরেক্টরের অগাধ জ্ঞান রয়েছে। তারপর উনাকে ত্রিপুরায় আগরতলা গভমেন্ট মেডিকেল কলেজে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি রাজ্যে প্রতিনিধি দলকে নিয়ে এসে সমস্ত কিছু পরিদর্শন করে গেছেন। তারপর ওনার সাথে কথা হয়েছে। উনাকে জানানো হয়েছে ত্রিপুরাতে হাসপাতাল পরিচালনার উপর কোর্স করার সুযোগ চালু করার জন্য। পরে এই বিষয়ে সার্বিক আলোচনার পর এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে দিল্লি গিয়ে কেন্দ্র সরকারের কাছে মৌ স্বাক্ষর করা হবে। যাতে আগামী দিন রাজ্যের হাসপাতাল পরিচালনা করার ক্ষেত্রে কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয় রাজ্যের চিকিৎসকদের। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এজিএমসি তে গিয়ে দেখা যায় রোগীরা মাটিতে শুয়ে থাকে, সেখানে মাত্র ৭২৭ জনের মতো শয্যার ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানে বাড়িয়ে ১৪১৩ টি করা হয়েছে। আরো ১০০টি শয্যার ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিধায়কদের দাবি মেনে বিভিন্ন জায়গায় আরবান পি এইচ সি দেওয়া হয়েছে। অথচ দেখা যাচ্ছে সমস্ত ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ব্যবস্থা করার পরেও রোগীর হার অত্যন্ত কম। কারণ আগরতলা শহরে বুকে আইজিএম হাসপাতাল এবং জিবি হাসপাতাল আছে। মানুষ আইজিএম এবং জিবি হাসপাতালের ছুটে যাচ্ছে। আগামী দিন কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো লিভার, হার্ট এবং ভ্রুনমেরু প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বিরোধীদের আক্রমণ করে বলেন, বড় বড় কথা বলে কাজের কাজ কিছু না করে নি। মুখ্যমন্ত্রী আর বলেন এতদিন যারা ত্রিপুরা পরিচালনা করেছে তারা ডিভাইড এন্ড পলিসির মধ্যে থেকে কাজ করেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে নিশানা করে বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের সময় চাকরি বিলি হতো পার্টি অফিস থেকে। পার্টি অফিস থেকে কম্পিউটারে বোতাম টিপে দেখা হতো যে চাকরি পাওয়ার যোগ্য সে দলের লোক কি না। না হলে চাকরি মিলতো না। উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১০,৩২৩ -কে বেআইনিভাবে চাকরি দিয়েছেন। আপনাদের সরকার তাদের সর্বনাশ করেছে, আবার যারা চাকুরির যোগ্য ছিল তাদেরও সর্বনাশ করে গেছেন। এগুলি ইতিহাস। কিন্তু বর্তমান সরকারের সৎ সাহস আছে বলে মঞ্চে ডেকে অফার বিলি করা হয়। গত সাত বছরে ১৯ হাজার চাকরির মধ্যে একটি চাকরির ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ করে কেউ দেখাতে পারেনি আদালতে। পুরো স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাকরি প্রদান করছে বর্তমান সরকার। কিন্তু এখন আপনারা আবার বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন সরকার আসার পর ২৯ মাসে তিনি ২৯ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা প্রদান করেছেন সরকারি কর্মচারীদের। পরবর্তী সময়ে আরো বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের সাথে মহার্ঘ ভাতা হার যাতে রাজ্যে আরও কমানো যায় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের সময়ের বদলি নিয়ে বিধলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন সে সময় টাকার বিনিময়ে বদলি হতো। বর্তমানে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বদলি নীতি চালু হয়েছে। কেউ একটি অভিযোগও তুলতে পারবে না বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী কৈলাশহর এবং বিশালগড় হাসপাতালের জন্য দুটি অত্যাধুনিক রক্ত পরিবহন ভ্যানেরও উদ্বোধন করেন। যা রাজ্যজুড়ে সময়োপযোগী এবং নিরাপদ রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।

