স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১৯ আগস্ট : বাবার জন্য ঘরে অসুবিধা হচ্ছে। তাই জেলা শাসকের কাছে চিঠি দিয়ে দাবি করেছে যাতে কোন বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে যায় তার বাবাকে। এবং এই বক্তব্যটি এক কুলাংগা পুত্রের। তার অভিযোগ গর্ভবতী অবস্থায় তার মাকে ফেলে চলে যায় তার বাবা।
২৫ বছর কোন খোঁজ খবর পায়নি তার মা। বর্তমানে তারা সিপাহীজলা জেলার মেলাঘর তেলকাজলা এলাকার বাসিন্দা। জানা যায় ২৭-২৮ বছর আগে তার মা গর্ভবতী থাকাকালীন অবস্থায় ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তারপর তাদের এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে এই ছেলে বড় হয়ে বিয়েও করেছে। গত ১৫-২০ দিন আগে হঠাৎ মরণ দেবনাথ অসুস্থ হয়ে ওনার ভাইয়ের বাড়িতে এসে হাজির হয়। সেখানে কিছুদিন থাকার পর উনার ছেলের হাতে তুলে দেয় অসুস্থ মরণ দেবনাথকে। ছেলের কাছে কয়েকদিন থাকার পর এখন ছেলেও অসুস্থ বাবার সেবা করতে অস্বীকার করছে। ছেলে দেবব্রত দেবনাথের বক্তব্য সে জন্ম হওয়ার পর থেকে বাবার আদর স্নেহ কেমন পায়নি।
কোনদিন যোগাযোগও করেনি তার বাবা। আজ এত বছর পর অসুস্থ হয়ে ফিরে এসেছে। তাই বাবার জন্য ছেলের কোন মায়া হচ্ছে না। যার ফলে অসুস্থ বাবাকে দেখাশোনা করার কোন ইচ্ছেই নেই তার। হঠাৎ বাড়িতে চলে আসায় এত বছর পর মরন দেবনাথের স্ত্রী স্বামীকে দেখে অভিমানে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে। তাই দেবব্রত দেবনাথ সিপাহীজলা জেলার জেলা শাসকের কাছে আর্জি জানিয়েছে তার বাবা মরণ দেবনাথকে যেন সরকারিভাবে কোন বৃদ্ধাশ্রমে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে ঘরের এক কোণেতে পড়ে রয়েছেন অসহায় বৃদ্ধ। ঘরে মেঝেতে পড়ে থেকে কাঁপছেন মরণ দেবনাথ। এ যেন এক বিধাতার দেওয়া কষ্ট। যা লুকাতে পারছেন না তিনি। ছেলে, স্ত্রী সবই থাকার পরেও পরিবারের সাথে থাকার ভাগ্য নেই মৃত্যুর পথযাত্রী মরণ দেবনাথের। কিন্তু বিধাতার লেখন কে খন্ডিতে পারে। পাষণ্ড পুত্র এবং স্ত্রী যেন আর সহ্য করতে পারছে না এই অসহায় দিশাহীন অসুস্থ বৃদ্ধকে।

