Wednesday, June 19, 2024
বাড়িরাজ্যসারপ্রাইজ ভিজিটে গিয়ে মন্ত্রী ক্ষোভ উগড়ে দিলেন কর্মচারীদের বিরুদ্ধে

সারপ্রাইজ ভিজিটে গিয়ে মন্ত্রী ক্ষোভ উগড়ে দিলেন কর্মচারীদের বিরুদ্ধে

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৯ আগস্ট : বুধবার মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস কলেজ টিলা স্থিত ফিশারি অফিসে সারপ্রাইজ ভিজিটে যান। সেখানে গিয়ে ব্যাপক অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেন দপ্তরের মন্ত্রী। মন্ত্রী লক্ষ্য করেন বহু কক্ষ খালি পড়ে আছে। কক্ষের মধ্যে টেবিল চেয়ার খালি পড়ে আছে। কর্মীরা সকাল ১১ টা বেজে গেলেও অফিসে উপস্থিত হয়নি। চায়ের কাপ প্লেট যত্রতত্র ভাবে পড়ে রয়েছে।

তারপর মন্ত্রী গলা উচিয়ে জবাব চায় অফিসের আধিকারিকের কাছে। কর্মচারীদের অ্যাটেনডেন্সের খাতা নিয়ে কে কে অফিসের উপস্থিত রয়েছেন সে বিষয়ে হিসেব নেন। কিন্তু বহু কর্মচারী অফিসে অনুপস্থিত থাকায় চরম অসন্তুষ্ট হয় মন্ত্রী। পরে তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, সারপ্রাইজ ভিজিটে এসেছিলেন তিনি। পরিদর্শনে এসে তিনি লক্ষ্য করেছেন অধিকাংশ কর্মচারী সময় মত অফিসে আসেন না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দপ্তরের আধিকারিককে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন এই অফিসে নিজের বলে মনে করে কেউ কাজ করছে না। অত্যন্ত নোংরা অবস্থায় রয়েছে অফিসটি। এ ধরনের অনিয়ম প্রত্যক্ষ করে তিনি অফিসের আধিকারিককে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রী আরো বলেন সরকার কর্মচারী নিয়োগ করেন মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য। কিন্তু অফিসে তারা আসে না, কিছু না করে শুধু বসে বসে আড্ডা দেয় আর পলিটিক্স করার কথা বলে। সেই অতি অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসতে কর্মচারীদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তবে বলার অপেক্ষা রাখে না, কোনক্রমে চাকরি পেয়ে গেলেই হলো, জনগণের জন্য কাজ করার মানসিকতা যে নেই কতিপয় কর্মচারীর সেটা অফিসগুলিতে গেলে ভালো করেই চাক্ষষ করা যায়। যে কোন সুযোগ সুবিধা পেতে মানুষকে অফিসে দুয়ারে দুয়ার ঘুরতে হয়। পায়ের জুতো ছিঁড়ে গেলেও কাজ হয় না।

 মর্জি মাফিক অফিসে আসে যায় তারা। অফিসে আসলো তারা বাড়ির কাছে চাকুরির করতে তারা রাজনৈতিক সংগঠনগুলির সাথে জড়িয়ে পড়েন। এই অভিযোগগুলি রীতিমতো সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম দখল করলেও হুশ ফিরে না সিংহভাগ কর্মচারী মহলের। অতিত অভ্যাস শুধু কর্মচারী সংগঠনের অফিসে বসে ডিএ বাড়ানোর জন্য কিভাবে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা যায় এরই চিন্তাভাবনা করেন তারা। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো রাজ্যের বাজারগুলির মধ্যে মাছের দাম আকাশ ছোঁয়া। নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো লক্ষ্য নেই দপ্তরের। বাজারে গিয়ে মহকুমা প্রশাসনের পালিয়ে আসতে হচ্ছে। বাজারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ফরমালিন মাছ। বিষাক্ত মাছ খেয়ে মানুষ অসুস্থতায় ভুগছে। সুতরাং খবর শিরোনামে আসলেও দপ্তর কুম্ভ-নিদ্রায় আচ্ছন্ন। তাই মন্ত্রী সারপ্রাইজ ভিজিটে গিয়ে দপ্তরের কর্মচারীদের হাল হাকিকৎ দেখে আসলেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য