Monday, October 2, 2023
বাড়িরাজ্যউন্নততর রেল সংযোগের সহ ব্যাপক উন্নয়নের সাক্ষী উত্তর পূর্বাঞ্চল: মুখ্যমন্ত্রী

উন্নততর রেল সংযোগের সহ ব্যাপক উন্নয়নের সাক্ষী উত্তর পূর্বাঞ্চল: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ৬ আগস্ট: রাজ্যে রেল পরিষেবার উন্নয়নে আরো একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকারের। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে রবিবার ত্রিপুরার তিনটি রেলওয়ে স্টেশন সহ দেশের মোট ৫০৮টি রেলওয়ে স্টেশনকে আধুনিকীকরণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হল। যার সাক্ষী হলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব নেওয়ার পর উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির চেহারা আমূল বদলে গিয়েছে। এখন উত্তর পূর্বাঞ্চলে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি হয়েছে ত্রিপুরায়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও রেল যোগাযোগ সম্প্রসারিত হচ্ছে। চলতি বছরেই আগরতলা হয়ে বাংলাদেশে রেল যোগাযোগ চালু হবে। সেটা হলে মাত্র ১০ ঘন্টাতেই আগরতলা থেকে কোলকাতা পৌঁছানো যাবে। আগরতলা রেল স্টেশনের আধুনিকীকরণে ২৩৫ কোটি টাকার অধিক ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে।

রবিবার সারা দেশে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে এই প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে উদয়পুর রেলওয়ে স্টেশনে আয়োজিত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

৬ আগস্ট, ২০২৩, রবিবার দিনটি রাজ্যের জন্য আরো একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। এদিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশের মোট ৫০৮টি রেলওয়ে স্টেশনকে আধুনিকীকরণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ভিডিও কনফারেন্সের অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকেন কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও। এরমধ্যে রাজ্যের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় উদয়পুর রেলওয়ে স্টেশনে। ত্রিপুরার মোট তিনটি রেলওয়ে স্টেশনকে আধুনিকীকরণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এরমধ্যে রয়েছে উদয়পুর রেলওয়ে স্টেশন, কুমারঘাট রেলওয়ে স্টেশন ও ধর্মনগর রেলওয়ে স্টেশন। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পে সারা দেশে ৫০৮টি রেলওয়ে স্টেশনকে আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি অত্যন্ত আনন্দের দিন। প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাভাবনা খুবই অভূতপূর্ব। আজ তাঁর হাত ধরে সারা দেশে মোট ৫০৮টি রেলওয়ে স্টেশনকে আধুনিকীকরণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে। আগে ত্রিপুরার মানুষ কখনো ভাবতে পারেনি যে রেল যোগাযোগ ক্ষেত্রে ত্রিপুরা রাজ্য এতদূর এগিয়ে যাবে। ষাটের দশকে ধর্মনগরে মিটার গেজ ট্রেনের সূচনা হয়েছিল। তখন অনেকেই সেই ট্রেন দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন। আবার নানা মহল থেকে এটাও বলা হয়েছে রেল নাকি বহু আন্দোলনের ফসল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব নেন তখন থেকেই উন্নয়নের ক্ষেত্রে উত্তর পূর্বাঞ্চলের চেহারাই বদলে গিয়েছে। এক্ট ইস্ট পলিসির মাধ্যমে দ্রুত এই অঞ্চলের উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে। ২০১৪ সালের পর থেকে উত্তর পূর্বাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জাতি জনজাতির মধ্যে ঐক্যের বন্ধন অটুট হয়েছে। এর আগে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীও এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করে গেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী ডা: সাহা আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ত্রিপুরা দ্রুত উন্নয়নের দিশায় এগিয়ে যাচ্ছে। এখন আগরতলা, উদয়পুর হয়ে সাব্রুম পর্যন্ত রেল চালু হয়েছে। রেলওয়ে লাইন এখন আগরতলা হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এবছরই আগরতলা থেকে বাংলাদেশ রেল যোগাযোগ চালু হবে। এতে মাত্র ১০ ঘণ্টায় বাংলাদেশ হয়ে কোলকাতায় পৌঁছানো যাবে। যা কোনদিন ভাবা যায় নি। আর এটা সম্ভব হচ্ছে একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর সদর্থক চিন্তাভাবনার কারণে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, উদয়পুর রেলওয়ে স্টেশন, কুমারঘাট রেলওয়ে স্টেশন ও ধর্মনগর রেলওয়ে স্টেশনের আধুনিকীকরণের জন্য ৯৬ কোটি টাকার অধিক অর্থ মঞ্জুর হয়েছে। এর পাশাপাশি আগরতলা রেলওয়ে স্টেশনের আধুনিকীকরণের জন্য ২৩৫ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হবে। এতে এসকালেটর থেকে শুরু করে আধুনিক শৌচালয় সহ বিভিন্ন উন্নত মানের ব্যবস্থাদি রাখা থাকবে।

রেল যোগাযোগ পরিষেবায় ত্রিপুরাকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রেল মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে ত্রিপুরা থেকে ১২/১৩টি নতুন এক্সপ্রেস ট্রেন বাইরের রাজ্যে চলাচল করছে। আক্ষরিক অর্থেই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের স্বার্থকতা এসেছে রাজ্যে।

এদিন উদয়পুর রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া, পদ্মশ্রী বিক্রম বাহাদুর জমাতিয়া, বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, উদয়পুর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন শীতল চন্দ্র মজুমদার, মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার সহ অন্যান্য অতিথিগণ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য