স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১৬ জুলাই : . এডিসি এলাকায় মানুষের মধ্যে চলছে অভাব ও অনটন। ভোগবিলাস সে ব্যস্ত মথা। জনগণের অর্থ অনর্থক ব্যয় হচ্ছে। মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে এডিসি প্রশাসন গত দুবছর পাঁচ মাসে ব্যর্থ হয়েছে। রবিবার সিপিআইএম রাজ্যের দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনটাই দাবি করলেন টিটিএএডিসি -র প্রাক্তন মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য রাধাচরণ দেববর্মা। তিনি বলেন, এডিসির মানুষ বহু আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তিপ্রা মথাকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। কিন্তু তারা পুরোপুরি ভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
লক্ষ্য করা যাচ্ছে এডিসি প্রশাসনকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য তিনজন এডভাইজার রয়েছে। তারা হলেন দলের চেয়ারম্যান প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন, দলের সভাপতি বিজয় রাঙ্খল ও জে.কে রাঠে। এছাড়া একজন প্রাক্তন বিচারপতিকে লিগ্যাল এডভাইজার হিসেবে মোটা অংকের বিনিময়ে বসানো হয়েছে। অপরদিকে চিফ এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে রাজস্থান থেকে এনে সঞ্জীব কুমার নামে একজনকে নিযুক্ত করেছে। কিন্তু এই পাঁচটি মাথা বসিয়ে কি কাজ হচ্ছে সেটা রাজ্যের মানুষ এবং এ.ডি.সি এলাকার মানুষ জানে না। এছাড়া আটটি জোনাল এবং ৪৪ টি সাব জোনাল আছে। এগুলোর মধ্যে বামফ্রন্টের সময় একজনই চেয়ারম্যান ছিলেন। এম.ডি.সি কিংবা বিধায়ক হতে পারেন। এই জোনাল এবং সাব জোনালের মধ্যে চেয়ারম্যান, ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান সহ তিন থেকে চারজন দায়িত্ব নিয়ে বেতন ভাতা গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে এডিসি প্রশাসনের মাথা ভারী হয়ে আছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আপরদিকে বেতন ভাতা ও গাড়ির জন্য বহু অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। যার ফলে এডিসি -র অবসরে যাওয়া প্রায় ৯০ জন কর্মচারীর বেতন ভাতা এবং পেনশন সঠিকভাবে দিতে পাচ্ছে না বলে দাবি করেন। তিনি বলেন এই মথা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৫-১৬ হাজার জমিয়া পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হতো তা পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে মানুষ আর্থিক ভাবে এক ভয়ঙ্কর অবস্থার মধ্যে রয়েছে। গত চার মাসে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৪ দিন রেগার কাজ হয়েছে এ ডি সি এলাকায়। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো জম্পুই হিল এলাকা, মিজোরাম সীমান্তবর্তী এলাকা সহ আশপাশে মাত্র ১৪ দিন রেগার কাজ হয়েছে। কৃষি মন্ত্রীর বিধানসভার লেফুঙ্গা ব্লক এলাকায় গত চার মাসে মাত্র ১৭ দিন কাজ হয়েছে। টেপানিয়া ব্লক এলাকায় হয়েছে মাত্র ১৩ দিন। এবং যে মজুরি পাওয়ার কথা তা পাচ্ছে না শ্রমিকরা। আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রেগা কাজ শ্রমিকদের মাধ্যমে না করিয়ে ড্রজারের মাধ্যমে করানো হচ্ছে।
যে পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে চলেছে তাতে শাসক দল বিজেপি এবং তিপ্রা মথার তদারকির জন্য গরীব মানুষ না খেয়ে মরবে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। প্রত্যান্ত এলাকার গুলির মধ্যে পানীয় জল, বিদ্যুৎ, কৃষি সবকিছুই মুখ থুবড়ে পড়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরো বলেন এডিসি এলাকায় শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। যে স্কুলগুলি ঝড়ে ভেঙে পড়েছিল সেই স্কুলগুলি সংস্কার করারূপ কোন উদ্যোগ নেই। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এডিসি প্রশাসন ১০০ টি স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে। যে স্কুলগুলি রয়েছে এগুলোর মধ্যে অধিকাংশই একজন শিক্ষক দ্বারা পরিচালনা হচ্ছে। যার ফলে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা রাজ্য কমছে। তিনি ভিলেজ কমিটির নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে ভিলেজ কমিটির নির্বাচনের জন্য। মেয়াদ ২০২১ সালে উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ভিলেজ কমিটির নির্বাচন করা হচ্ছে না। কিন্তু সব নির্বাচনী সংগঠিত হয়েছে এ সময়ের মধ্যে। তাই সরকারের কাছে দ্রুত ভিলেজ কোনদিন নির্বাচন করার জন্য দাবি জানান তিনি। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এদিন প্রাক্তন এমডিসি সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

