স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৫ জুলাই : ব্যক্তিগত স্বার্থ সিদ্ধি না হওয়ায় নিজেদের আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে এইবার বিজেপি দলে যোগদান করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্র লাল সিংহ-র ছেলে আশিস লাল সিংহ ও প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র প্রশান্ত ভট্টাচার্য। নিজের স্বার্থ সিদ্ধি না হলে দল ত্যাগ করে অন্য দলে যোগদান করা এই রাজ্যের একাংশ রাজনৈতিক নেতার কাছে তা ট্র্যাডিশন হয়ে গেছে। এইবার নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি না হওয়ায় অনুগামীদের নিয়ে বিজেপি দলে যোগদান করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্র লাল সিংহ-র ছেলে আশিস লাল সিংহ ও প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রশান্ত ভট্টাচার্য। আশিস লাল সিংহ একটা সময় তৃনমূল কংগ্রেসের নেতা ছিলেন।
তিনি চেয়েছিলেন প্রদেশ তৃনমূল কংগ্রেসের সভাপতি হতে। কিন্তু ওনার স্বপ্ন অধরা থেকে যায়। অপরদিকে প্রশান্ত ভট্টাচার্য একটা সময় কংগ্রেসের মিডিয়া ইনচার্জ ছিলেন। তিনিও চেয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের ভালো পদে বসতে। সম্প্রতি আশিস কুমার সাহা প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ার পর প্রশান্ত ভট্টাচার্য বুঝে গেছেন ওনার স্বপ্ন আর বাস্তবে পরিণত হবে না। তারপরই তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করেন। এইদিন আশিস লাল সিংহ ও প্রশান্ত ভট্টাচার্য নিজেদের আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে অনুগামীদের নিয়ে বিজেপি দলে যোগদান করেন। প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে তাদেরকে বিজেপি দলে বরন করে নেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য, প্রদেশ বিজেপির সাধারন সম্পাদক অমিত রক্ষিত সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা। প্রদেশ বিজেপির সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য জানান, এইদিন প্রদেশ কংগ্রেস থেকে প্রশান্ত ভট্টাচার্য, প্রদেশ কংগ্রেসের সদর জেলা সম্পাদক সুদর্শন মজুমদার, জেলা সম্পাদক রাজীব দাস, সদস্য আশিস দেব, সিআইটিইউ-র রাজ্য কমিটির সদস্য সুরজিত ভট্টাচার্য, তৃনমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি আশিস লাল সিংহ, সাধারন সম্পাদক কোহেলি দাস, সম্পাদক কৃষ্ণ কান্ত দেবনাথ, সদস্য বিশ্বনাথ ঘোষ ও স্বপ্নদীপ চক্রবর্তী বিজেপি দলে যোগদান করেছেন।এইদিন যে সকল নেতৃত্বরা বিভিন্ন দল ত্যাগ করে বিজেপি দলে যোগদান করেছেন তারা ইতিপূর্বে কোন না কোন রাজনৈতিক দলের ভালো পদে ছিলেন। কিন্তু নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি না হওয়ায় এইদিন তারা সুযোগ বুঝে বিজেপি দলে যোগদান করেছেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে যে সকল নেতারা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি না হওয়ায় দল পরিবর্তন করে নিজেদের নিতি আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে বিজেপি দলে যোগদান করেছে, তারা আগামিদিনে আদৌ কতটা মন প্রাণ দিয়ে বিজেপির হয়ে কাজ করবেন। আদৌ কি তারা জনগণের জন্য কাজ করবেন নাকি নিজেদের পুড়ানো দলের সংস্কৃতিকে বিজেপি দলে আমদানি করবেন। উত্তরটা হয়তো সময়ই দেবে। দল পরিবর্তন করে এই সকল নেতা ব্যক্তি স্বার্থের কথা ভুলে আদৌ জনগণের জন্য কাজ করেন নাকি পুড়ানো দলের সংস্কৃতি বিজেপি দলে আমদানি করার চেষ্টা করেন সেটাই এখন দেখার।

