স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১৬ মে : মঙ্গলবার আগরতলা পুর নিগমের কনফারেন্স হলে মন্ত্রী প্রনজিৎ সিংহ রায়ের পৌরহিত্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মেয়র দীপক মজুমদার, ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, কর্পোরেটার, ট্রাফিকে এস পি সহ পুলিশ আধিকারিকেরা। এদিন মূলত অবৈধ পার্কিং এবং যানজট নিরসনে স্টেক হোল্ডারদের নিয়ন্ত্রন। মন্ত্রী প্রনজিৎ সিংহ রায় জানান আগরতলা শহরে ক্রমান্বয়ে গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। প্রতি ৬ জনের পেছনে একটি করে গাড়ি রয়েছে। তার সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সকলের ব্যবহারের উপযুক্ত এবং শৃঙ্খলার মধ্যে চালাতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ইচ্ছা করলেই আগরতলা শহরের রাস্তার পরিধি বাড়ানো সম্ভব নয়। নো পার্কিং জোন চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ৫ বছরে নিগম এলাকায় নতুন কোন পারমিট দেওয়া হয়নি। ১৬ হাজার অটোর পারমিট গোটা রাজ্যে দেওয়া হয়েছে। পারমিট না দেওয়ার পরেও কেন গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ট্রাফিক কর্মীদের নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। বিকল্প ব্যবস্থার চিন্তা করার আহ্বান জানান তিনি। এতে করে মূল সড়ক গুলি যান মুক্ত করা সম্ভব বলে জানান মন্ত্রী। ৪৮ টি পার্কিং জোন চিহ্নিত রয়েছে। সেই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে জানান তিনি।যান চলাচল এবং যানজট সম্পর্কে আরো আলোচনা করতে গিয়ে রাজ্যের বর্তমান অর্থমন্ত্রী তথা প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় বলেন গত পাঁচ বছরে আগরতলা পুর নিগমের অন্তর্গত এলাকায় নতুন করে কোন যাত্রীবাহী অটোর পারমিট দেওয়া হয়নি। কেবলমাত্র যে সমস্ত পুরনো অটোগুলো এভারেজ দেখিয়ে নতুন অটো ক্রয় করেছেন তাদেরকেই পারমিট দেওয়া হয়েছে। বাম আমলে এমন বহু অটো চলাচল করতো যাদের কোন ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছিল না। সেই সমস্ত অটোগুলোকে বৈধ কাগজপত্রের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি
তিনি এও বলেছেন আগরতলা শহরে যেমন লোকসংখ্যা বেড়েছে, ঠিক তেমনি বেড়েছে যানবাহনের সংখ্যাও। শহরকে কিভাবে যানজট মুক্ত রাখা যায় এর জন্য তিনি বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি পশ্চিম জেলার ট্রাফিক সুপার মানিক দাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন ট্রাফিক দপ্তরের কর্মীদের গুরুত্ব সহকারে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দপ্তরের কর্মীরা গুরুত্ব সহকারে দায়িত্ব পালন করছেন কিনা সেটা তদারকির দায়িত্বে থাকতে হবে পদাধিকারীদের। বৈঠকের পর পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার জানিয়েছেন পোস্ট অফিস চৌমুহনী থেকে কামান চৌমুহনী পর্যন্ত কোন ধরনের যান চলাচল করতে পারবে না। এই অঞ্চলকে ওয়াকিং জোন হিসেবে ঘোষনা করা হবে। রাস্তার দু’ধারে বেআইনিভাবে যানবাহন রাখতে রাখতে দেওয়া হবে না। রাস্তার পাশে কিছু কিছু ব্যবসায়ী রাস্তা দখল করে বেআইনিভাবে ব্যবসা করছেন। তাদেরকেও সরিয়ে দেওয়া হবে। আগরতলা শহরে ৪৮ টি ট্রাফিক ইউনিট রয়েছে যেখানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এই সমস্ত পার্কিং গুলোকে আরো ভালো করে সাজিয়ে তোলা হবে। বৈঠকে যে সমস্ত পরিকল্পনা গুলো নেওয়া হয়েছে সেই সমস্ত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে আগামী দিনের শহর আগরতলা যে আরো বেশি স্মার্ট হয়ে উঠবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

