Wednesday, February 8, 2023
বাড়িরাজ্যঘরে ঘরে বিজেপি কর্মসূচির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

ঘরে ঘরে বিজেপি কর্মসূচির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২৭ নভেম্বর : সালটা ছিল ২০১৮! রাজ্যে এসে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ২৯৯ টি প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠিত করেছে। দু একটি বাদে বাকি সব প্রতিশ্রুতি অপূর্ণ রেখে পৌনে পাঁচ বছর অতিক্রান্ত করেছে রাজ্যের বর্তমান জোট সরকার। এই সরকারের যত বয়স বেড়েছে বেকার নারী, যুবক সকলে জনস্বার্থমূলক দাবি দেওয়া নিয়ে ময়দান মুখী হয়েছে।

মন্ত্রী সভার মন্ত্রীরা পূর্বতন সরকারের প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণ কাজের ফিতা কেটে কাঁধে তুলেছে রিপোর্ট কার্ডের ঢাক। আর এখন যখন নির্বাচন এগিয়ে আসছে তখন নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার আগেই রিপোর্ট কার্ড নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছে তথাকথিত জনদরদী সরকার। সরকারি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে প্রতিশ্রুতি ছিল বছরে পঞ্চাশ হাজার চাকুরি এবং মিসকল দিলে বেকার যুবক-যুবতীদের মিলবে চাকরি। বাম আমলে জমিয়ে রাখা সাড়ে সাত লক্ষ বেকার সেই প্রতিশ্রুতির উপর আস্থা রেখেছিল।

 তাই হাওড়া নদীতে বামেদের বিসর্জন দিয়ে ২০১৮ সালে সরকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাত দিন এক করে বড় ভূমিকা পালন করেছে যুবকরা। অথচ কোথায় কি। সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পৌনে পাঁচ বছরও মেলে নি মিসকল দেওয়ার নম্বর। মনে যন্ত্রণা নিয়ে হতাশ বেকারমহল! এখন যখন প্রতিদিন মন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও এবং মহাকরণ অভিযান করছে তখন মহাকরণের ফাইলের দোয়াই দিয়ে মন্ত্রী বাবুরা নিজেদের মুখ লুকাচ্ছেন। কিন্তু তাতেও প্রতারণা ঢেকে রাখতে পারছে না। শুধু তাই নয় স্কুল কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষকের চরম সংকট, ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার সংকল্পবদ্ধ সরকারের চরম ব্যর্থতা, গ্রাম পাহাড়ে রাস্তাঘাটের ওষ্ঠাগত প্রান। মন্ত্রী বাবুদের চলাচল করার জন্য রাজধানীর ভিআইপি রাস্তা সংস্কার করে বাকি অলিগলি রাস্তা সংস্কার করার ছিটেফোটা উদ্যোগ নেই।

এদিকে প্রতি ঘরে সুশাসনের বিজ্ঞাপন থেকে সংবাদ মাধ্যমের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করেছে রাজ্যের মাস্টারমাইন্ড তথ্যমন্ত্রী। হাসপাতাল গুলিতে চিকিৎসকের চরম সংকট। কর্মী নিয়োগের চলছে তালবাহানা। আউটসোর্সিং নিয়োগ করে ঢাক ঢোল বাজাচ্ছে মন্ত্রীরা। একদিকে যেমন রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে অপরদিকে কর্মসংস্কৃতি ব্যাহত। তাই এই সুশাসনের ঠ্যালায় সাধারণ মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। যেন মনে হচ্ছে বাম আমলকে পিছু ঠেলে দিচ্ছে সুশাসন জামানা। পূর্বতন সরকারের আমলে যেমন দেখা যেত সাড়ে চার বছর মানুষের কথা না শুনলেও নির্বাচন এগিয়ে আসতে ঘরের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে মানুষের জন্য জনদরদী হয়ে পড়তো বামফ্রন্টের নেতারা, তেমনি বর্তমান সুশাসন জামানার গেরুয়া নেতারাও সেটাই করছে। প্রতিদিন সকালে উঠে হরির নাম জপ করে শুরু হয় মিথ্যা ভাষণ এবং মানুষকে আবারো প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার প্রত্যাবর্তন করার দৌড়ঝাঁপ। এরই মধ্যে রবিবার থেকে আবারও শুরু হয়েছে বিজেপি’র ঘর ঘর চলো অভিযান। ঘরে ঘরে তো যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এলাকায় মন্ত্রী, বিধায়ক, কাউন্সিলর সহ সমস্ত কার্যকর্তা যুবক থেকে শুরু করে প্রবীণদের তিতি বিরক্ত মুখ দেখে নিজেদের আর কন্ট্রোল করতে পারছে না। মন্ত্রী বিধায়ক সহ কার্যকর্তারা মানুষের কাছ থেকে শুনতে চাইছে দাবিদাওয়া। হয়তো তৈরি হবে আবারো নতুন করে প্রতারণার দলিল।

রবিবার নির্ধারিত সময় বারোটায় শুরু হয় ঘর ঘর বিজেপি অভিযান। নিজ বিধানসভা এলাকায় অভিযানের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী তথা আট নং টাউন বড়দোয়ালির বিধায়ক ডাঃ মানিক সাহা। নেতাজি স্কুল মাঠে প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত শোনার পর তিনি কার্যকর্তা ও কর্মীদের সাথে নিয়ে একটি মিছিল করে। তারপর প্রতিটি বাড়িতে বিজেপির পতাকা ও স্টিকার লাগানোতে অংশগ্রহণ করেন। একই সাথে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠার পর সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকায় কি কি কাজ হয়েছে তার রিপোর্ট কার্ড তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য কার্যকর্তারা। সরকারের সাফল্য গুলি জনগণের কাছে তুলে ধরতে এই ঘর ঘর চলো অভিযান বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার জন্য সরকার কি কি করছে সে বিষয়টাও তুলে ধরা হচ্ছে। এদিন প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে বিভিন্ন অজানা বিষয়ে অবগত করেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। 

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য