Friday, February 6, 2026
বাড়িরাজ্যপাহাড় প্রমাণ বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, পরিষেবা ক্ষেত্রে সংকটের আশঙ্কা , বিল প্রদানে...

পাহাড় প্রমাণ বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, পরিষেবা ক্ষেত্রে সংকটের আশঙ্কা , বিল প্রদানে গ্রাহকদের এগিয়ে আসার আবেদন জানালো নিগম

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৬ ফেব্রুয়ারি : রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যবস্থাকে সচল রাখতে ক্রমশ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহকের বিল পরিশোধে অনীহা। ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেডের দাবি, সময়মতো বিল না মেটানোর ফলে শুধুমাত্র প্রশাসনিক কাজই নয়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতের পরিকাঠামোগত উন্নয়নও বড় সংকটের মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সহযোগিতা ছাড়া পরিষেবা ক্ষেত্রকে সুসংহত রাখা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে বলেই সতর্ক করেছেন নিগমের ব্যবস্থাপক অধিকর্তা বিশ্বজিৎ বসু।

নিগম সূত্রে জানা গেছে, অমরপুর বিদ্যুৎ উপ-বিভাগের অধীন একাধিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রেখে পরিষেবা চালু রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন বহু গ্রাহক। সম্প্রতি কালামাটি, বিবারাম, গতিরাম, সোমবাজয় এবং হাতিরায় পাড়ার বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তাঁরা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবেন না। দীর্ঘদিনের বকেয়া থাকায় নিগম ওই এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নিলে গ্রামবাসীদের একাংশ রাস্তায় বসে প্রতিবাদে সামিল হন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, বিদ্যুতের বিল দেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়, তবে পরিষেবা চালু রাখতে হবে। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীরা লিখিতভাবে নিগমকে আশ্বাস দেন যে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাঁরা বকেয়া বিল পরিশোধ করবেন। এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই পুনরায় বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু করা হয়েছে। তবে নিগমের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যদি ভবিষ্যতেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

পরিসংখ্যান বলছে, শুধুমাত্র এই পাঁচটি এলাকাতেই বিদ্যুৎ বিলের মোট বকেয়া প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকারও বেশি। কালামাটি গ্রামে ৩২ জন গ্রাহকের বকেয়া ১০ লক্ষ টাকার বেশি, বিবারাম পাড়ায় ৪৫ জন গ্রাহকের বকেয়া ৭ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা, গতিরাম পাড়ায় ১৮ জন গ্রাহকের বকেয়া ৪ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা, সোমবাজয় পাড়ায় ৪৬ জন গ্রাহকের বকেয়া ৯ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা এবং হাতিরায় পাড়ায় ৩০ জন গ্রাহকের বকেয়া ৫ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা রয়েছে।

শুধু এই কয়েকটি এলাকা নয়, গোটা অমরপুর বিদ্যুৎ বিভাগের চিত্রই উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে নিগম। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অমরপুর বিদ্যুৎ উপ-বিভাগে মোট ১৫ হাজার ৬৭ জন গ্রাহক থাকলেও ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বিল পরিশোধ করেছেন মাত্র ৪ হাজার ৩১০ জন। অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার ৭৫৭ জন গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেননি, যা শতাংশের হিসাবে মাত্র ২৮ শতাংশ মানুষ বিল জমা দিয়েছেন বলে নির্দেশ করছে।

একই চিত্র ধরা পড়েছে অন্যান্য উপ-বিভাগেও। যতনবাড়ি বিদ্যুৎ উপ-বিভাগে ১০ হাজার ৪১৮ জন গ্রাহকের মধ্যে বিল পরিশোধ করেছেন মাত্র ১ হাজার ৭২৯ জন, যা শতাংশের হিসাবে মাত্র ১৬ শতাংশ। করবুক বিদ্যুৎ উপ-বিভাগে ৭ হাজার ৬১৭ জন গ্রাহকের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৬৪৪ জন বিল মিটিয়েছেন, অর্থাৎ এখানে বিল জমার হার ২১ শতাংশ। অম্পী বিদ্যুৎ উপ-বিভাগে ৯ হাজার ৯৮ জন গ্রাহকের মধ্যে বিল পরিশোধ করেছেন মাত্র ২ হাজার ৩৯৮ জন, যা শতাংশের হিসাবে ২৬ শতাংশ।

সব মিলিয়ে অমরপুর বিভাগের চারটি উপ-বিভাগে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের হার মাত্র ২৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে অভিহিত করেছেন বিদ্যুৎ নিগমের কর্তৃপক্ষ।

ব্যবস্থাপক অধিকর্তা বিশ্বজিৎ বসু জানান, বিদ্যুৎ পরিষেবা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যয়বহুল পরিষেবা ক্ষেত্র। বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয়, রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামতি এবং নতুন পরিকাঠামো নির্মাণ—সব ক্ষেত্রেই বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। যদি গ্রাহকেরা সময়মতো বিল পরিশোধ না করেন, তাহলে পরিষেবা সচল রাখা যেমন কঠিন হয়ে পড়ে, তেমনি উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নও বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ পরিষেবার সঙ্গে প্রতিটি পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্য সরাসরি যুক্ত। ফলে পরিষেবা ব্যবস্থার ভেঙে পড়া মানে সামগ্রিকভাবে জনজীবনে বড় প্রভাব পড়া।

নিগমের মতে, একাংশ গ্রাহক নিয়মিত বিল মিটিয়ে পরিষেবা সচল রাখতে সহযোগিতা করলেও বড় অংশের গ্রাহক বিল বকেয়া রেখে পরিষেবা দাবি করার ফলে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী রাখা অত্যন্ত জরুরি।

এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ নিগম সমস্ত গ্রাহকদেরকে সময় মতো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে পরিষেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য এগিয়ে আসার জন্য কাছে আবেদন জানিয়েছে।  গ্রাহকদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবাকে উন্নত ও স্থিতিশীল রাখা অসম্ভব বলেও নিগমের ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য