স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১৭ নভেম্বর : মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান চাকরিচ্যুত শিক্ষক কমল দেব। তিনি বৃহস্পতিবার আগরতলা প্রেস ক্লাবের সামনে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ২৮ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন লক্ষ্মী পূজা পর থেকে দীপাবলীর মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই চাকরিচ্যুত ১০,৩২৩ -এর সমস্যার সমাধানের বিষয়ে আইনি পরামর্শ দাতাদের সাথে আলোচনা করে কোন একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। কিন্তু ৪৭ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও মুখ্যমন্ত্রী এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি।
বরং মুখ্যমন্ত্রী গন্ডাছাড়া এবং কুমারঘাটে গিয়ে প্রচার করছে, যারা চাকরিচ্যুত হয়েছে তারা লাল বাড়ির লোক। পূর্বাতন সরকার তাদের বেছে বেছে চাকুরি দিয়েছে। সুতরাং বর্তমান সরকার তাদের চাকরি দেয়নি এবং খায়নি। আর মুখ্যমন্ত্রীর এ ধরনের বেফাঁস মন্তব্যের পর হতাশাগ্রস্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ছয়জন জনজাতি চাকরিচ্যুত শিক্ষক প্রয়াত হয়েছেন। তাহলে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ২০১৪ সালে এবং ২০১৭ সালে যখন উচ্চ আদালত এবং শীর্ষ আদালত রায় দেওয়ার পরেও কেন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারের প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এবং এর চাকুরিচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকাদের দ্বারাই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্যে হতাশ হচ্ছে চাকুরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকারা এবং তাদের পরিবার। বহু অসুস্থ চাকুরিচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকা রাজ্যের অভিভাবকের এই ধরনের মন্তব্য শুনতে পেয়ে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন বলে বলে জানান তিনি। তিনি দাবি জানান, মুখ্যমন্ত্রী ই ডব্লিউ এস -এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্টিকরণ এনে বিদ্যালয় মুখী করতে পারে। সরকার ইচ্ছে করলে এটা মানবিকতার দৃষ্টিভঙ্গিতে পালন করতে পারে।
এদিকে চাকরিচ্যুত শিক্ষক অজয় দেববর্মা জানান সরকারের ভুল পলিসির কারণে তাদের ৩৩ মাস ধরে চাকুরিচ্যুত হয়ে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট কোথাও চাকরিচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকারা দোষী বলে প্রমাণিত হয়নি। ইতিমধ্যে যদি সরকার ইতিবাচক ভূমিকা না নেয় তাহলে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন এদিন।

