বাড়িরাজ্যজাতীয় সড়কের বেহাল দশার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে কংগ্রেসের জাতীয় সড়ক অবরোধ

জাতীয় সড়কের বেহাল দশার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে কংগ্রেসের জাতীয় সড়ক অবরোধ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৩ জুলাই: জাতীয় সড়কের বেহাল দশার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার গোটা রাজ্য জুড়ে আন্দোলনে নেমেছে কংগ্রেস। দিকে দিকে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। নিম্নমানের কাজের অভিযোগ সহ ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। এবং এই দিন ধর্মনগর, কমলপুর, খোয়াই এবং কৈলাসহর সহ একযোগে বিভিন্ন জেলায় আন্দোলন সংগঠিত করে সরকারকে কাঠগড়ায় তোলার চেষ্টা করে। বৃহস্পতিবার ধর্মনগরের কালিকাপুর এলাকায় ২০৮ নং জাতীয় সড়কে জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে সড়ক অবরোধ করা হয়। উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা চয়ন ভট্টাচার্য, নিরুপম দে ও ইন্দ্রজিৎ পাল সহ একাধিক নেতৃত্ব। তাদের বক্তব্য ত্রিপুরা রাজ্যের রাস্তাঘাটের করুণ দশা, পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। কালিকাপুরের রাস্তাটি সম্প্রতি তৈরি করা হলেও মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। আরো দাবি করেন, বিকল্প জাতীয় সড়ক নির্মাণের জন্য কেন্দ্র সরকার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও তা সঠিক কাজে ব্যবহার করা হয়নি।

 সাধারণ মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেই কংগ্রেস রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে। এই কর্মসূচির জেরে জাতীয় সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ আন্দোলনকারীদের প্রথমে পথঅবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হলেও কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ধর্মনগর থানার পুলিশ ডিসিএম এর উপস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে এবং প্রায় ৭০ জন কংগ্রেস নেতা ও কর্মী-সমর্থককে আটক করে নিয়ে যায়। এদিকে ২০৮ নং জাতীয় সড়কের বেহাল অবস্থার প্রেক্ষিতে কমলপুর ব্লক কংগ্রেসের উদ্যোগে জাতীয় সড়কের এরারপাড় চৌমুহনিতে পথ অবরোধ শুরু করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। দীর্ঘক্ষণ কথা বলে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয় প্রশাসন। তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় অবিলম্বে জাতীয় সড়ক যেন সরকার সংস্কার করে। অন্যদিকে ১০৮বি খোয়াই-আগরতলা জাতীয় সড়কের বেহাল অবস্থা ও দ্রুত সংস্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটা নাগাদ খোয়াইয়ের ধলাবিল এলাকায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করে কংগ্রেস। অবরোধ ঘিরে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন, কংগ্রেস নেতা কার্তিক দেবনাথ, প্রদ্যুৎ ভট্টাচার্য, অশোক বৈদ্য। অবরোধের ফলে সড়কের দুই প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।

বহুবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। পাশাপাশি জাতীয় সড়কের বেহাল দশার প্রতিবাদে ঊনকোটি জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পথ অবরোধ করা হয়। এদিন সকাল ১১ টা থেকে কৈলাসহর-ধর্মনগর এবং কৈলাসহর-কুমারঘাট সংযোগকারী এনএইচ-২০৮ জাতীয় সড়কের চিরাকুটি এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কৈলাসহরের বিধায়ক বিরজিৎ সিনহা, জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহাম্মদ বদরুজ্জামান, কংগ্রেস নেতা রুদ্রেন্দু ভট্টাচার্য, তরুণ সাহা-সহ বিপুল সংখ্যক কংগ্রেস কর্মী-সমর্থক। অবরোধস্থলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক বিরজিৎ সিনহা অভিযোগ করেন, কংগ্রেস সরকারের আমলে এই জাতীয় সড়ক নির্মাণের অনুমোদন মিললেও বিজেপি সরকারের আমলে কাজ শুরু হওয়ার পর ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। তাঁর দাবি, দিল্লি থেকে ত্রিপুরা পর্যন্ত শুধু কাটমানির খেলা চলেছে। সেই কারণেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশ বেহাল হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন আগেই রাজ্যের এক মন্ত্রীর গাড়ি জাতীয় সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে আটকে পড়েছিল। প্রতিদিন রাজ্যে প্রবেশ করা পণ্যবাহী যানবাহনগুলিকেও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। পথ অবরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী। তবে এই দিন সারা রাজ্য জুড়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। প্রশাসনের অবরোধ নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খায়।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য