স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১০ জুলাই : বুক ভরা স্বপ্ন আর আশা নিয়ে মাথার গোঁজার ঠাঁই তৈরি করেছিলেন মেলাঘর পুর সভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বক্সিবাড়ির বাসিন্দা ইসমাইল মিয়া। যখন সাধের পাকা ঘর তুলেছিলেন, তখন নদী ছিল বহুদূরে। কিন্তু গোমতী নদী ভাঙন এখন তার ঘরের দোরগোড়ায়। জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে গোমতীর জল ফুলে-ফেঁপে উঠতেই বিলীন হওয়ার মুখে ইসমাইল মিয়ার শেষ সম্বল। নিরুপায় হয়ে, নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আগেই মিস্ত্রি এবং এলাকার মানুষদের নিয়ে নিজের সাধের ঘর নিজেই ভেঙে সরিয়ে নেওয়ার করুণ লড়াই চালাচ্ছেন তিনি। শুধু ইসমাইল মিয়া নন, মেলাঘর পৌরসভার ৭ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নদী সংলগ্ন প্রায় ৩০০টি পরিবার আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে।
নদীর ভাঙনে এক লহমায় শেষ হয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সংসার। মেলাঘর পৌর সভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বক্সীবাড়ির ইসমাইল মিয়ার চোখে এখন শুধুই জল আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। এর আগেও গোমতীর গ্রাসে হারিয়েছেন নিজের একটি ঘর। এবার শেষ আশ্রয়টুকু বাঁচাতে নিজেই হাতুড়ি তুলে নিয়েছেন নিজের ঘরে। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে গোমতী নদী এখন রুদ্ররূপ ধারণ করেছে। জলস্তর বাড়ার সাথে সাথে তীব্র হয়েছে নদী ভাঙন। যার জেরে ইসমাইল মিয়ার পাকা ঘরটি যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়, আজ বাধ্য হয়েই ঘরের দরজা-জানলা সহ সব অংশ ভেঙে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। বাস্তুভিটা হারানোর এই নির্মম যন্ত্রণা শুধু ইসমাইল মিয়ার একার নয়।
মেলাঘর পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নদী লাগোয়া এলাকার আবু তাহের মেম্বার এবং মনিরুজ্জামানের বসতভিটাও আজ ধ্বংসের একেবারে শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে। নদী পাড়ের প্রায় ৩০০টি পরিবার আজ একই রকম আতঙ্কের প্রহর গুনছেন। যেকোনো মুহূর্তে নদী গ্রাস করে নিতে পারে তাদের বাপ-ঠাকুরদার ভিটে। কিন্তু অভিযোগ, এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও স্থানীয় প্রশাসন সম্পূর্ণ নির্বিকার ও উদাসীন। বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান বা সরকারি সাহায্য। সব হারিয়ে এখন শুধুই হাহাকার মেলাঘরের গোমতী পাড়ের এই বিস্তীর্ণ এলাকায়। এখন দেখার, এই ৩০০টি পরিবারের অস্তিত্ব রক্ষা করতে এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কোনো কড়া পদক্ষেপ নেয় নাকি অসহায় মানুষগুলোকে এভাবেই রাক্ষুসী গোমতীর মুখে ফেলে রাখা হয়।

