স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৯ জুলাই : গোমতী নদীর গ্রাসে মেলাঘরের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা। টেন্ডার জটে থমকে বোল্ডারের কাজ, ক্ষোভে ফুঁসছেন নদী পাড়ের বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর বক্তব্য, যত সময় যাচ্ছে, ততই বাড়ছে জলের তোড়, আর তার সাথেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নদীর ভাঙন। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বহু বিঘা জমি। ইতিমধ্যেই অনেকের ঘরবাড়ি গ্রাস করেছে গোমতী নদী। কারোর আবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু দাঁড়িয়ে আছে একেবারে খাদের কিনারায়। নদী যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে যেকোনো মুহূর্তে তলিয়ে যেতে পারে ঘর। আর তাই বাধ্য হয়ে, বুকভরা কান্না আর চরম অসহায়ত্ব নিয়ে নিজেদের ঘরবাড়ি নিজেরাই ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন মেলাঘর পুর সভার ৭ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা,
অভিযোগ, মেলাঘর পুরসভার এই ৭ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নদী লাগোয়া পরিবারগুলোকে বাঁচাতে বোল্ডার দিয়ে বাঁধ দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। গত ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে বোল্ডারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন এই এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ। দফায় দফায় মিলেছে শুধু আশ্বাস। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ছয় মাস আগে এই দুই ওয়ার্ডের ভাঙন রোধে বোল্ডার ফেলার টেন্ডার প্রক্রিয়া হয়েছিল। কিন্তু, টেন্ডারের দরপত্র নিয়ে শুরু হয় চরম টানাপোড়েন ও ঝামেলা। আর সেই আইনি ও প্রশাসনিক জটেই আটকে যায় পুরো কাজটি। থমকে যায় বোল্ডার ভাঙন রোধের কাজ। প্রশাসনের উদাসীনতা আর দরপত্রের জটিলতায় আজ বিপন্ন কয়েক শতাধিক পরিবার। একদিকে মাথার উপর ভাঙনের খাঁড়া, অন্যদিকে সর্বস্ব হারানোর যন্ত্রণা। মেলাঘরের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এই নদী পাড়ের বাসিন্দাদের এখন একটাই প্রশ্ন—কবেই বা স্থায়ী সমাধান মিলবে গোমতীর এই আগ্রাসন থেকে?

