বিলোনিয়া (ত্রিপুরা), ২৫ এপ্রিল (হি.স.) : আগরতলা রেলস্টেশনে ৬৪ লক্ষাধিক টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে তদন্তে নেমে এবার দক্ষিণ ত্রিপুরার বন দফতরে বড়সড় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার সূত্র ধরেই শনিবার সকালে বিলোনিয়ায় অবস্থিত দক্ষিণ জেলার ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার (ডিএফও) গৌরব রবীন্দ্র ওয়াগের বাসভবনে হানা দেয় ভিজিল্যান্স টিম।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ ভিজিল্যান্সের একটি বিশেষ দল ডিএফও-র বাসভবনে পৌঁছে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিসিএম) সঞ্জয় শীল। দীর্ঘ সময় ধরে ডিএফও গৌরব রবীন্দ্র ওয়াগে, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং বাসভবনের কর্মীদের পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তল্লাশি চলাকালীন নিরাপত্তা রক্ষীরাও উপস্থিত ছিলেন।
তদন্তের স্বার্থে ভিজিল্যান্স আধিকারিকরা বাসভবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং একটি ড্রোন ক্যামেরা বাজেয়াপ্ত করেছে বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া এই সামগ্রীগুলি খতিয়ে দেখে আর্থিক লেনদেনের কোনও অসঙ্গতি বা প্রমাণ মিলছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই আগরতলার বাধারঘাট রেলস্টেশনে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ ধরা পড়েন ডিএফও-র এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। সেই ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে জোরদার তদন্ত শুরু হয়। বর্তমানে ওই আত্মীয় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সঙ্গে বন দফতরের একাধিক কর্মীর যোগসাজশ থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই ঋষ্যমুখ বন বিভাগের এক ফরেস্ট রেঞ্জার এবং রাজনগরের তৃষ্ণা অভয়ারণ্যের এক ফরেস্ট অফিসারের নাম উঠে এসেছে বলে সূত্রের দাবি। এছাড়াও আরও কয়েকজন কর্মী গোপন আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ভিজিল্যান্স বর্তমানে টাকার উৎস, লেনদেনের পদ্ধতি এবং এতে কারা কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে। প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ এবং গ্রেফতারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ত্রিপুরার প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

