বাড়িরাজ্যপাহাড়ে মথার নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাস, মানুষের বাড়িঘর ও বিজেপি-র দলীয় কার্যালয় পুড়িয়ে দিচ্ছে,...

পাহাড়ে মথার নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাস, মানুষের বাড়িঘর ও বিজেপি-র দলীয় কার্যালয় পুড়িয়ে দিচ্ছে, বন্ধ করে দিচ্ছে বাজার হাট, বাড়ি ঘর ছাড়া বহু মানুষ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৮ এপ্রিল : সারা রাজ্যে উগ্র রাজনৈতিক দল তিপরা মথার নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাস শুরু হয়েছে। পাহাড়ে আতঙ্ক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে এই আঞ্চলিক দল। বিপর্যস্ত জনজীবন। বাড়িঘর ছাড়া হয়ে অন্যথায় আত্মগোপন করে পান রক্ষা করছে মানুষ। অভিযোগ পেট্রোল ঢেলে ১৯ আমতলী গোলাঘাটি কেন্দ্রের বিজেপি দলের ৮ নং বুথের বাথান মুড়া এলাকার বুথ সভাপতি সনজিৎ দেববর্মা তার স্ত্রী গোলাপি দেববর্মা এবং তার চার বছরের একমাত্র ছোট সন্তান পিরা দেববর্মাকে বসত ঘরের মধ্যে জ্যান্ত মেরে ফেলার জন্য আগুন ধরিয়ে দেয়। জয়ের আনন্দে উল্লসিত মথা দলের কর্মী সমর্থকরা এই ঘটনার সংঘটিত করেছে বলে অভিযোগ। কোনরকমে সন্তানকে কোলে নিয়ে এবং স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ঘর থেকে দৌড়ে জঙ্গলে পালিয়ে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করে বিজেপি দলের বুথ সভাপতি। কিন্তু মথা দলের কর্মীদের দেওয়া আগুনে পুড়ে যায় তার বাড়ির ঠাকুর মন্দির এবং বসতঘরের দরজা জানালা সহ বহু সরঞ্জাম। পরে প্রতিবেশীরা দৌড়ে এসে তার ঘরের আগুন নেভায়। শনিবার সকালে সংবাদ মাধ্যমে মুখোমুখি হয়ে এই কথা বলেন বিজেপি দলের বুথ সভাপতি সনজিৎ দেববর্মা। এদিকে

এডিসি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর খোয়াই জেলার বিভিন্ন স্থানে রাতভর চলে নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাস। বাড়িঘর ছাড়া বহু বিজেপি কর্মী। বাড়িঘর ছাড়া বিজেপি কর্মীরা আশ্রয় নিয়েছে বিজেপি খোয়াই জেলা কার্যালয়ে। শনিবার বিজেপি খোয়াই জেলা কার্যালয়ে ছুটে যান মন্ত্রী টিঙ্কু রায়। সাথে ছিলেন বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, প্রদেশ বিজেপির সাধারন সম্পাদক বিপিন দেববর্মা সহ অন্যান্যরা। জেলা কার্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া বিজেপি কর্মীদের সাথে কথা বলেন মন্ত্রী টিঙ্কু রায়। পড়ে তিনি জানান খোয়াই জেলার বিভিন্ন স্থানে কিছু কিছু ঘটনা ঘটেছে। যার কারনে বেশকিছু বিজেপি কর্মী বাড়িঘরে যেতে পারে নি। সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় বিধায়কের সাথে কথা বলেছেন। পুলিশের সাথেও কথা বলেছেন। পুলিশও বিষয়টি দেখছে। বিজেপি কর্মীরা যেন বাড়িঘরে যেতে পারে, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাসের আগুনে পুড়ল মান্দাইস্থিত বিজেপি কার্যালয়। শুক্রবার রাতে দুষ্কৃতিরা মান্দাইস্থিত বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে বিজেপি অফিসের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত মান্দাই বিজেপি কার্যালয় পরিদর্শনে যান মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বিজেপি অফিস সরজমিনে ঘুরে দেখেন। কথা বলেন বিজেপি দলের স্থানীয় কর্মী সমর্থকদের সাথে। অপরদিকে মনু-বনকুল কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত বিজেপি’র

তিনটি দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। ২৮ শিলাছড়ি-মনু বনকুল কেন্দ্রে গণদেবতাদের রায়ে বিজেপি দলের মনোনীত প্রার্থী তথা ঐ কেন্দ্রের বিদায় এমডিসি কংঅজং মগ আবারও ৪৯৪ ভোটে জয় লাভ করেন। ২৮-টি আসনের মধ্যে ২৪-টি আসনে জয়লাভ করেন প্রদ্যুৎ কিশোর মানিক্যের দল তিপরা মথা দল। আর এই জয়তে খুশিতে আত্মহারা হয়ে তিপরা মথা দলের কর্মীরা শুক্রবার ৩৯ মনু-বনকুল বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চালিতা বনকুল বটতলা বাজারের, চালিতা বনকুল মডেল মারগো পাড়ার এবং বিষ্ণুপুর এলাকা সহ মোট তিনটি বিজেপি দলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে দেয় বলে অভিযোগ বিজেপি দলের পক্ষ থেকে। আর এই অভিযোগ জানান, ৩৯ মনু-বনকুল বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি দলের বিধায়ক মাল্রাফ্রুই মগ। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে রাজনৈতিক ভাবে। সাথে ঘোড়া কাপ্পা এলাকায় বহু বাঙালি পরিবারের বাড়িতে হামলা হচ্ছে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করে শুক্রবার রাতে। শনিবার সকাল থেকে মনুবনকুল এলাকায় বনকুল নতুন বাজার ও বনকুল পুরান বাজারে সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে তিপ্রা মথা দলের উগ্র সমর্থকরা।

তবে এখন পুরো সাব্রুম মহকুমা জুড়ে গুঞ্জন উঠছে, কেন পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে না ভারতীয় জনতা পার্টির কার্যকর্তারা নাকি ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বরা বুঝে গেছে যে এখন আর ময়দানে লড়াই করার মত তাদের কর্মী সমর্থক নেই। এদিকে মথার দুর্বৃত্ত বাহিনীর আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে বিজেপি কর্মীরা আশ্রয় নিয়েছে ভগৎ সিং যুব আবাসে। উল্লেখ্য, আগরতলায় বসে সামাজিক মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের শান্তি বজায় রাখার জন্য বার্তা দিচ্ছেন প্রদ্যোত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো তাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে চলছে দুর্বৃত্তপনা। জনজাতির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে জনজাতি। দলীয় কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না তিনি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য