বাড়িরাজ্যবিদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে দগ্ধ কিশোরী, উত্তাল আমবাসা

বিদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে দগ্ধ কিশোরী, উত্তাল আমবাসা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৬ এপ্রিল :  বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে উন্নয়নের বড় বড় দাবি, আর বাস্তবের মধ্যে ফারাক যেন দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বেহাল বিদ্যুৎ পরিষেবার জেরে এবার পহেলা বৈশাখের রাতেই রণক্ষেত্রে পরিণত হলো ধলাই জেলার আমবাসা শহর। ছিঁড়ে পড়া হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ পরিবাহী তারে গুরুতর জখম হলো এক কিশোরী। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিস্ফোরিত হলো জনরোষ। জানা গেছে, আমবাসা পুর পরিষদের পুরাতন কার্যালয়ের ঠিক উল্টোদিকে হঠাৎ করেই একটি হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ তার ছিঁড়ে পড়ে।

 সেই সময় বাড়ির ছাদে খেলছিল ১৩ বছরের কিশোরী মন্টি মোদক। মুহূর্তের মধ্যে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দমকল কর্মীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে কুলাই স্থিত ধলাই জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে আগরতলার জিবি হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে কিশোরীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ঘটনার পরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা আমবাসা শহরের নিকটবর্তী ৮ নম্বর আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন। তাদের অভিযোগ, গত পনেরো দিনের মধ্যে একই ধরনের তিনটি দুর্ঘটনা ঘটলেও বিদ্যুৎ নিগম কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

আমবাসা পুর পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোপাল সূত্রধরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিদ্যুৎ নিগমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন এবং মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে পথ অবরোধ চললেও বিদ্যুৎ নিগমের কোনও আধিকারিক ঘটনাস্থলে আসে নি। এতে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠে। ক্ষুব্ধ জনতা পরে আমবাসা বিদ্যুৎ নিগমের অফিসে গিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পুলিশ বাধা দিতে গেলে আমবাসা থানার ওসি নন্দন দাস গুরুতরভাবে আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান মহকুমা পুলিশ আধিকারিক নিরূপণ দত্ত এবং ধলাই জেলার পুলিশ সুপার ঋষিকেশ দেশাই। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী। ঘটনার পর আমবাসা মহকুমা শাসকের তরফে আমবাসা বিদ্যুৎ নিগমের ডিএমজি ও সিনিয়র ম্যানেজারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে। তবে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। বারবার একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে, তারপরেও নিগমের কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তা এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।এখন দেখার বিষয় দপ্তরের অভিভাবক কি ভূমিকা গ্রহণ করে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য