বাড়িরাজ্যনিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন বিজেপি, কংগ্রেস এবং সিপিআইএম মনোনীত প্রার্থী। এর মধ্যে...

নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন বিজেপি, কংগ্রেস এবং সিপিআইএম মনোনীত প্রার্থী। এর মধ্যে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৯ এপ্রিল : সাময়িক কিছু অস্থিরতার মধ্য দিয়ে ৫৬ ধর্মনগর আসনের ভোট গ্রহণ চলছে বৃহস্পতিবার। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কিছু ভোটকেন্দ্রে প্রশাসনের বেসামাল অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। এদিন সকাল ৭ টা থেকে শুরু হয় ভোট। গণনা ৪ মে সকাল আটটা থেকে। এই বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ছয় জন মনোনীত প্রার্থী লড়াই করছেন। মোট ভোটারের সংখ্যা ৪৬ হাজার ১৪২ জন। ভোটদাতাদের জন্য ৫৫ টি পোলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে ৩২ টি শহরাঞ্চলে এবং ২৩ পোলিং স্টেশন গ্রাম অঞ্চলে। সকাল থেকে ভোটকেন্দ্র গুলির মধ্যে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। প্রত্যেকটি পোলিং স্টেশনের মধ্যে মাইক্রো অবজার্ভার রয়েছে। সর্বমোট ৭৫ জন মাইক্রো অবজার্ভার। উৎসবের মেজাজে চলছে ভোট। কিন্তু ভোট শুরু হওয়ার পর লক্ষ্য করা গেছে কিছু কিছু ভোটকেন্দ্রে ভিভিপ্যাট মেশিন নষ্ট হওয়ার। সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ইঞ্জিনিয়ার এবং সেক্টর অফিসার মিলে সমস্যার সমাধান করেন। ৫৬ নং আসনের ৩২ নং বুথের চন্দ্রপুর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে জহর চক্রবর্তী ভোট দেন।

 এদিকে ২৪ নং বুথের চন্দ্রপুর স্থিত এগ্রিকালচার অফিসে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন কংগ্রেস প্রার্থী চয়ন ভট্টাচার্যী। ৩২ নং বুথের ধর্মনগর বালিকা বিদ্যালয়ে সিপিআইএম প্রার্থী অমিতাভ দও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিজেপি মনোনীত প্রার্থী জহর চক্রবর্তী নিজের ভোটাধিকারের পর বলেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করছে। সকলে নিজের ভোট নিজে দিচ্ছেন। এটাই ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারের সুশাসন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন এবারের নির্বাচনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি কোন অভিযোগ তুলতে পারেননি। সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এবং কর্মী সমর্থক শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনের কাজ সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারছেন। তিনি বিরোধীদের আরো আক্রমণ সুরে বলেন তারা নাকি সমস্ত কেন্দ্রে পুলিং এজেন্ট দিতে পারেনি।

অন্য জায়গা থেকে নিয়ে এসে পোলিং এজেন্ট নিয়োজিত করেছেন। এর থেকে প্রমাণিত হয় বিরোধীরা শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় এসে অবতীর্ণ হয়। সারা বছর তারা জনগণের পাশে থাকে না। এটাই দেশের মধ্যে বারবার প্রমাণিত হয় এবং আজকে পুনরায় প্রমাণিত হয়।এদিকে কংগ্রেস প্রার্থী চয়ন ভট্টাচার্যী জানান, ধর্মনগর বাসীর সঙ্গে গণতান্ত্রের উৎসবে তিনি সামিল হয়েছেন। কিন্তু কংগ্রেসের প্রতিপক্ষ দুর্বৃত্তরা বুধবার রাত থেকে বনগাঁও, বন বাড়ি গিয়ে ভোটাররা যাতে ভোট দিতে না আসে তার জন্য হুমকি দিয়ে এসেছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে দুজন পুলিং এজেন্টকে উদ্দেশ্যপ্রণীতভাবে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে।

 বিষয়টির প্রশাসনের নজরে আনার পর প্রশাসন হস্তক্ষেপ গ্রহণ করে। তখন ৫৫ টি বুথে পোলিং এজেন্ট নিয়োজিত করতে সক্ষম হয়েছে কংগ্রেস। তিনি অভিযোগ তুলেন সকাল থেকে কিছু লোক ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট না দিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। কংগ্রেসের বিশ্বাস যদি মানুষ সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তাহলে গণতন্ত্রের জয় হবে। এদিকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআইএম প্রার্থী অমিতাভ দত্ত জানান, শাসক দলের দুর্বৃত্তরা ভোটারদের লাইন থেকে বের করে দিচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আরো লক্ষ করা যাচ্ছে বেশ কিছু ভোটকেন্দ্রের সামনে প্রচুর পরিমাণে মানুষজন জমে আছে। নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। বিষয়টি জেনারেল অবজারভার এবং পুলিশ অবজারভারের নজরে আনা হয়েছে। তিনি আরো বলেন বামফ্রন্টের দুজন পুলিং এজেন্ট নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তারা বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। তবে এর চাইতেও আশ্চর্যের বিষয় হল তাদের মধ্যে একজন নিজের ভোটাধিকার পর্যন্ত প্রয়োগ করতে পারেনি। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে ভোট গ্রহণ পর্ব।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য