স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৬ এপ্রিল : সুশাসন জমানায় দুঃশাসন কায়েম করে আছে রাজধানীর লেইক চৌমুহনি বাজারে। রাজন্য আমল থেকে বাজারটি সুনামের সাথে পরিচালনা হলেও বর্তমানে ব্যাংক ব্যালেন্স নিয়ে ব্যবসায়ীদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ক্রমশ চরম আকার ধারণ করে। ফলে পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন করে অস্থায়ী কমিটি গড়ে দিতে হল বিধায়ক তথা মেয়র দীপক মজুমদারের। তবে আড়ালে কি রহস্য সেটাই বড় প্রশ্ন! বেআইনি কার্যকলাপে জর্জরিত লেইক চৌমুহনি বাজার। রাজন্য আমল থেকে বাজারটি সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হলেও বর্তমানে গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। এক প্রকার ভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বাজারের পুরনো কমিটি।
বাজারের একটা বড় অংশের নেতৃত্বের ব্যাংক একাউন্ট পাহাড় সমান হয়েছে, আর সেই অ্যাকাউন্টের দিকে নজর গেছে অতি লোভী দাবিদারদের। তাই লেজে গোবরে একাকার হয়েছে বাজারের পুরনো কমিটি এবং দাবিদারদের মধ্যে ঝামেলা। জানা যায়, ২০২৩ সালে অবৈধভাবে গঠিত হয়েছিল লেক চৌমুহনী বাজার কমিটি। এমনই অভিযোগ বাজারে ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি এই কমিটির অনৈতিক কাজকর্মে বাজার ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুব্ধ। দুদিন পূর্বে এই কমিটির বিরুদ্ধে নালিশ জানাতে মেয়রের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন বাজার ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা সেদিন বর্তমান বাজার সম্পাদক তপন মালাকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ করেন মেয়রের কাছে।
অবৈধভাবে দোকান ঘর বসিয়ে অর্থ নয় ছয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ তারা করেন সেদিন। মেয়র তাদেরকে আশ্বস্ত করেছিলেন বাজারে যাবেন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলবেন। সোমবার লেক চৌমুহনী বাজারে যান মেয়র এবং বাজার ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনেন। প্রত্যেক বক্তাই বর্তমানের এই অবৈধ কমিটির কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ তাদের বক্তব্যে তুলে ধরেন। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেয়র বলেন, লেইক চৌমুহনী বাজার কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ার পর একাধিক বার এই বাজার পরিদর্শন করেছেন। এবং অবৈধভাবে নির্মাণ ভেঙ্গে দেন তিনি। বাজার সম্পর্কে শুধু বাজার ব্যবসায়ীরা না এলাকাবাসীও অভিযোগ করেছে বলে জানান তিনি। বাজারের প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যাতে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয় তা লক্ষ্য রাখা হবে। নতুনভাবে বাজারে যে ঘর তৈরি করা হবে তা স্বচ্ছ ভবে দেওয়া হবে। পুরানো কমিটির তালিকা অনুযায়ী কোন কিছুই করা হবে না। পরবর্তীতে সকলের মতামত অনুযায়ী পুরনো কমিটিকে ভেঙে দিয়ে মেয়র লেইক চৌমুহনী বাজারে একটি অস্থায়ী কমিটি গঠন করে দেন। গৌতম সরকার, উৎপল আচার্য, লিপিকা দেব, পোলেস্টার ক্লাবের পীযূষ কান্তি দে, রাধানগর উন্নয়ন সংঘ থেকে ঝুটন লস্কর, হারাধন সংঘের অনুপম দে-কে নিয়ে উপদেষ্টা কমিটি সহ মোট ১৫ জনের একটি অস্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ভোটার তালিকা তৈরি করে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠিত হবে বলেও জানান মেয়র দীপক মজুমদার। তবে সন্ধ্যার পর থেকে এই বাজারে একাধিক অপরাধমূলক কার্যকলাপ সংঘটিত হচ্ছে বলে প্রশাসনের কাছে আগে থেকেই খবর রয়েছে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কোনরকম ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি এলাকার বিধায়ক তথা মেয়র দীপক মজুমদারের।

