স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৬ মার্চ : শনিবার আগরতলা টাউন হলে ত্রিপুরা তপশিলি জাতি সমন্বয় সমিতির দশম রাজ্য সম্মেলন শুরু হয়েছে। দুদিন ব্যাপী চলবে সম্মেলন। সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে দলের পরিভাষায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বক্তব্য রেখে বলেন, দেশের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী রাজ্যে জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এগুলি অনিবার্য ছিল না। পুঁজিবাদীদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে।
ফলে পশ্চাদপদ ও দলিত অংশের মানুষ তাদের উপর বিভিন্নভাবে বহুমুখী সংকট এসে চাপছে। এদিন বিরোধী দলনেতা দুর্নীতি নিয়ে সরকার এবং মন্ত্রীদের একহাত নিলেন। তিনি বলেন, জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী হয়ে বিকাশ দেববর্মা আড়াই বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, কিন্তু জনজাতিদের বিকাশ হচ্ছে না। একই সঙ্গে নাম না করে আরো এক মন্ত্রীকে সোর্স মানির জন্য খোঁচা দিলেন বিরোধী দলনেতা। তাহলে সরকারের দুর্বলতা কোন জায়গায় সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ত্রিপুরার মানুষের এখন সবচেয়ে বড় কাজ হল গণতন্ত্র উদ্ধার করা। তাহলে তপশিলি জাতির সমন্বয় সমিতির সম্মেলন সার্থক হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা এবং তিপরা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ একে অপরের বিরুদ্ধে যে ভাষায় বক্তব্য করছেন মনে হচ্ছে যেন রাম রাবণের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। কিন্তু মন্ত্রী সভার মধ্যে কোন বিরোধ নেই, দিল্লি ভালো, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সংসদ বিপ্লব কুমার দেব ভালো এবং মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা ভালো না বলে দাবি করছে তিপরা মথা। অথচ তারপরেও মুখ্যমন্ত্রী তিপরা মথাকে ডেকে বলছেন না তোমাদের সঙ্গে আর আমরা ঘর করতে পারবো না।
তোমরা সরকার থেকে বের হয়ে যাও। কিন্তু না বলার কারণ মুখ্যমন্ত্রী ও তিপরা মথা দলের সুপ্রিমো সিপিআইএমকে আটকানোর জন্য রাজ্যে দরকার। পাশাপাশি কটাক্ষ করে বলেন, আগামী দিন এডিসি যদি তিপরা মথার হাতছাড়া হয়ে যায়, তাহলে দর কষাকষিতে প্রভাব পড়বে। তাই মথা আবেগ, সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি, আবেগ সহ সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করছে এডিসি পুনরায় দখল করতে। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে যে কোন মূল্যে এডিসি দখল করতে চাইছে। যাতে আগামী দিন তিপরা মথাকে আঙ্গুল দিতে না পারে। তাই ভারতীয় জনতা পার্টি এবং তিপরা মথার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আর বামেদের কাছে আসন্ন এডিসি নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম। ২০১৮-এর পর সমস্ত নির্বাচন থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। কারণ দুর্নীতিই ভারতীয় জনতা পার্টির নীতি হয়ে গেছে। লুটই হলো তাদের লক্ষ্য সর্বত্র। এটা জনগণের কাছে ব্যাপকভাবে পৌঁছাতে হবে। তাহলে কিভাবে কোনঠাসা হবে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা বলেন, সিপিআইএম থেকে বিজেপি-র লোকেরা বেশি দিন গুনে। কারণ, সরকারের ৩৬ মাস চলে গেছে, আর মাত্র ২৪ মাস। এখন বুঝতে পারছে সবকা সাথ, সবকা বিকাশের নামে কিছু মানুষের হাতের সবকিছু চলে গেছে। আগামী দিন তাদের নিজেদের মধ্যে দুই দল যখন মারামারি করবে তখন সে সুযোগ নিতে হবে সিপিআইএমের। সিপিআইএমের মানুষের কাছে যেতে হবে বলে জানান তিনি। আয়োজিত অধিবেশনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের নেতৃত্ব ড. বিক্রম সিং, রতন ভৌমিক, সুধন দাস সহ অন্যান্যরা।

