স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩ মার্চ :ইলেকট্রিক টমটমের ব্যাটারি চুরিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কদমতলা থানাধীন পত্যেকরায় গ্রাম। উত্তেজিত জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুরুতরভাবে আহত হলেন দুই পুলিশ অফিসার সহ ১৩ নম্বর টি এস আর ব্যাটেলিয়নের তিন জওয়ান। আহত হয় ধৃত চোরও। গোটা ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জানা যায়, সোমবার রাত আনুমানিক পৌনে এগারোটা নাগাদ পত্যেকরায় গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এসসি বয়েজ হোস্টেল সংলগ্ন এলাকায় বাসিন্দা সুমন দেবনাথের বাড়ির সামনে রাখা ব্যাটারি চালিত টমটম থেকে ব্যাটারি চুরির চেষ্টা চালায় দুই দুষ্কৃতী। বিষয়টি নজরে আসে তাঁর ছেলে অলক দেবনাথের।তখন তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে একজন চোর পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অপর এক চোরকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কদমতলা থানার পুলিশ। পুলিশ ধৃত চোরকে থানায় নিয়ে যেতে চাইলে উত্তেজিত এলাকাবাসী তার তীব্র বিরোধিতা করে। অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই টমটমের ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটলেও বারবার অভিযোগ জানিয়েও পুলিশ কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। সেই ক্ষোভ থেকেই ধৃত চোরকে পুলিশের হাতে না তুলে স্থানীয়দের হাতে ছেড়ে দেওয়ার দাবি ওঠে।
এই দাবি ঘিরে পুলিশ ও গ্রামবাসীদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশ ও ধৃত চোরের উপর হামলা চালায়। এতে গুরুতরভাবে আহত হন কদমতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর সঞ্জিব সরকার—মাথা ফেটে যায়। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত হন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর জগদানন্দ গোস্বামী।
এছাড়াও আহত হয়েছেন ১৩ নং টিএসআর ব্যাটেলিয়ন-এর তিন জওয়ান—নিপেন্দ্র রিয়াং, অসিত লাল দাস ও তনু সিং ত্রিপুরা। আহত হয় ধৃত যুবক কবির হোসেন। তার বাড়ি চুরাইবাড়ি থানাধীন উত্তর ফুলবাড়ি ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বলে জানা গেছে। আহত সকলকে কদমতলা সামাজিক হাসপাতালে ভর্তি। তবে চোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। কদমতলা থানার অফিসার ইনচার্জ গুরুপদ দেবনাথ জানিয়েছেন,এই মামলায় একাধিক ব্যক্তি রয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।গোটা ঘটনায় ১২ নম্বরের একটি মামলা হাতে নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও টি.এস.আর মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছুটে যান ধর্মনগর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত কর্মকার। ইতিমধ্যে পুলিশের উপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগে স্হানীয় এলাকার অলক দেবনাথ, রাহুল দেবনাথ ও সুমন দেবনাথ নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

