স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৫ ফেব্রুয়ারি: বুধবার এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এডি নগর পুলিশ লাইনের মনোরঞ্জন দেববর্মা স্মৃতি স্টেডিয়ামে ত্রিপুরা পুলিশ সপ্তাহ ও প্যারেড ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রেখে বলেন, ত্রিপুরা পুলিশে কৃতিত্বের ইতিহাস সারা ভারতবর্ষের মানুষ জানে। ত্রিপুরা পুলিশ আগামী দিনও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের পাশাপাশি অপরাধীরা তাদের অপরাধের কায়দা কৌশল পরিবর্তন করে ফেলেছে। তাই পুলিশকেও প্রযুক্তির পরিবর্তন করতে হচ্ছে। নাহলে এই ধরনের ঘটনার তদন্ত করা খুব কঠিন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সরকার পুলিশকে বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। এছাড়াও স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে সরকারের যা যা করার প্রয়োজন অবশ্যই করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন ত্রিপুরা রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পুলিশ নিরন্তর কাজ করছে। গত ২ দশকের মধ্যে অপরাধের মাত্রা বর্তমানে সর্বনিম্ন।
২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে অপরাধের মাত্রা ৮.৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০২৪ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৪,০৩৩ টি, ২০২৫ সালে মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩,৬৯৮ টি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, সাইবার সংক্রান্ত ঘটনা যাতে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার জন্য রাজ্যের সাইবার স্টেশন আরো আধুনিক পর্যায়ে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাতে সাইবার অপরাধ আরো কঠোরভাবে মোকাবেলা করা যায়। পরবর্তী সময় এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা যথেষ্ট উন্নত হয়েছে আগে তুলনায়। দেশের ২৮ টি রাজ্যের মধ্যে ত্রিপুরার আইন-শৃঙ্খলা অত্যন্ত ভালো। যার ফলে রাজ্যে ইনফ্রাস্ট্রাকচার উন্নত হচ্ছে এবং দেশ, বিদেশ থেকে পর্যটকরা ত্রিপুরা আসছে। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন সবাই শান্তি চায়। আর এই শান্তি প্রতিষ্ঠা হয় পুলিশি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। একই সঙ্গে বিরোধীদের নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে দীর্ঘ ৩ দশক রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা কি অবস্থায় ছিল সেটা সকলেই দেখেছে। তারা আবার চাইছে রাজ্যে অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করার।
কিন্তু সরকার অত্যন্ত সচেতন। কোন অবস্থাতেই যাতে অশান্তি সৃষ্টি না হয় তার জন্য ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া আছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত কুড়ি বছরের মধ্যে অপরাধমূলক ঘটনা ইতিহাস হয়েছে। বর্তমানে ৮.৩ শতাংশ অপরাধমূলক ঘটনা কমেছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন এদিন অনুষ্ঠানের পর রাজ্যের বিভিন্ন থানায় ২২টি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির গাড়ি দেওয়া হয়েছে এবং ১২২টি মোটর বাইক দেওয়া হয়েছে। যা পুলিশ সঠিক সময় মত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করে বলেন, পুলিশ হল মানুষের শক্তির উৎস। তাদের কাজের মধ্যে দিয়ে মানুষের মন জয় করে নিতে হবে। এইদিন অনুষ্ঠান থেকে প্রত্যেক থানার মধ্যে স্মার্ট লেখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ এস ফর স্টেট সেনসিটিভ অ্যান্ড স্ট্যাটিজিক, এম ফর মডার্ন মোবাইল মেটিকুলাস, এ ফর এলার্ট অ্যাকাউন্টেবল, আর ফর রিরায়েবল রেস্পন্সিভ এন্ড রেজিনেন, টি ফর টেক্স সেভি টেড এন্ড ট্রান্সপারেন্স। প্রতিদিন পুলিশ কর্মীরা থানায় এসে একবার পড়ার জন্য আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে রাজ্য পুলিশের পুরস্কারপ্রাপ্ত বিভিন্ন কর্মীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে এক রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। মোট পাঁচ শতাধিক কর্মী রক্তদান শিবিরে অংশ নেন। চারদিন ব্যাপি চলবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। নেশা রুখতে বাইক মিছিল এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে। আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের মহান নির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকর সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিক।

