স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৮ ফেব্রুয়ারি : রবিবার খুমুলুঙে এবং টাকারজলায় ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে যোগদান সভা অনুষ্ঠিত হয়। যোগদান সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ডাক্তার মানিক সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। খুমুলুঙে আয়োজিত যোগদান সভায় মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রেখে বলেন, বিশ্রামগঞ্জে এডিসি অংশ নাকি নগর পঞ্চায়েতের জন্য নিয়ে গেছে প্রশাসন। এই কথাগুলি বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ছাড়া কিছু নয়। তিপরা মথার বিরুদ্ধে নাম না করে খুমুলুঙে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।
তিনি আরো বলেন যারা অফিসার রয়েছে তাদের চাকরি করতে হবে। কোন ধরনের ভুল হলে অফিসারদের আদালতে যেতে হবে। বিষয়টি নিয়ে অফিসারদের কাছে যাওয়ার পর যখন অফিসার সবকিছু বুঝিয়ে দিলেন তখন ঘটনাস্থল থেকে চলে আসেন। তাদের কাজই হলো ঘুম থেকে উঠে ইস্যু তৈরি করা। কাজের মাধ্যমে মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে না তারা। সাম্প্রদায়িক সুরসুরি দিয়ে চলেছে। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টি কাজের মাধ্যমে মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন সারা দেশের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্য এখন উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো দেখায়। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বিভাজন করে রাজ্যকে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বর্তমান সরকার চাইছে এক ত্রিপুরা, নতুন ত্রিপুরা। পুরনো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করছে। আগে উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের দুর্দশা ছিল। বর্তমানে সেটা দেখার মত বানিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর নাম না করে বলেন, আমাদের সঙ্গে আপনারা আছেন, আবার আপনারাই মাঝে মাঝে বলতে শুরু করেছেন আমরা থাকবো না। এগুলি আমরা বলছি না। বিধানসভার মধ্যেও আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলছে।
কখনো কখনো বলছেন মুখ্যমন্ত্রীকে পাল্টে দেবেন, জনজাতি মুখ্যমন্ত্রী আসবে। কিন্তু আপনারা এটা জানেন না মুখ্যমন্ত্রী গোটা রাজ্যবাসীর হয়। আলাদা করে জনজাতির হয় না। এটা নিয়েও সুড়সুড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ভিলেজ কমিটির নির্বাচন নিয়েও কামান দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে মথার দিকেই নিশানা করে বলেন, তাদের কারণেই ভিলেজ কমিটির নির্বাচন হয়নি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নোটিফিকেশন প্রেরণ করছে তারা। কমিটির সম্মতি নিয়ে ১২৩ টি নতুন ভিলেজ কমিটি বানিয়েছে সেটা কোনভাবেই করতে পারে না। কোন কিছু না বুঝেই তারা হইচই করার চেষ্টা করছে। খালি ঠকাই ঠকাই বলে নিজেরাই মানুষকে ঠকাচ্ছে। ফলে এখন কেনে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে আছে। তারপর ২২ জানুয়ারি বাধ্য হয়ে নিয়ম তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে তারা।
তাদের জন্যই ভিলেজ কমিটির নির্বাচন পিছিয়েছে। একই সঙ্গে ককবরক ভাষা নিয়ে যে জ্বলন্ত ইস্যু রয়েছে সেটা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী মুখ করেছেন এই দিন যোগদান সভায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন পর্ষদের পরীক্ষায় কেউ যদি রোমান হরফে পরীক্ষা দিতে চায় তাহলে দিতে পারবে। এটা আগে থেকেই চলে আসছে। এটা নিয়েও বিভ্রান্ত করছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এডিসিতে কি চলছে, তা খবর আছে। ২৮ টি আসনের ফলাফল যখন ব্যয় হবে তখন যা করার তাই করা হবে বলে সতর্ক করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। খুমুলুঙে আয়োজিত যোগদান সভায় ১১৩ পরিবারের ৪৮২ জন ভোটার যোগদান করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী যোগদান কারীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। এদিকে প্রদ্যোতের কেন্দ্রে বিজেপি-র হানা! টাকারজলা জন্মজয়নগরে বিজেপি -র উদ্যোগে এক যোগদান সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহা। ১৯৩ পরিবারের মোট ৪১৩ ভোটার বিজেপিতে যোগদান করেন রবিবার।

