বাড়িরাজ্যযুবক অপহরণ, বাড়িতে আটকে রেখে ৫ লক্ষ মুক্তিপণ দাবি, জেল হাজতে স্বামী-স্ত্রী

যুবক অপহরণ, বাড়িতে আটকে রেখে ৫ লক্ষ মুক্তিপণ দাবি, জেল হাজতে স্বামী-স্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৯ জানুয়ারি: ধর্মনগরের চন্দ্রপুর এলাকায় হরিনাম সংকীর্তন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এক যুবক অপহরণের ঘটনায় সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অপহরণের পর প্রথমে গভীর জঙ্গলে আটকে রেখে পরে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল অপহৃত যুবকের পরিবারের কাছ থেকে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটের নিবেদি এলাকার বাসিন্দা বছর ২৯-এর বিশ্বনাথ দাস গত ২৬ জানুয়ারি ধর্মনগর থানাধীন গর্জন টিলা এলাকায় হরিনাম সংকীর্তনে আসেন। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফেরার সময় চন্দ্রপুর রোড ক্রসিং সংলগ্ন এলাকায় আচমকাই দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি তার চোখ বেঁধে জোরপূর্বক অপহরণ করে তাকে জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, অপহরণকারীরা সারারাত তাকে জঙ্গলে আটকে রাখে। পরদিন অর্থাৎ ২৭ জানুয়ারি ভোর আনুমানিক চারটা নাগাদ তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার পরিবারের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সুযোগ বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন বিশ্বনাথ দাস। পরে তিনি স্থানীয়দের সাহায্য চান এবং অপহরণকারীদের ব্যবহৃত বাড়িটি চিহ্নিত করেন। এরপর কদমতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই যুবককে উদ্ধার করে এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তারপর পুলিশের তদন্তে উঠে আসে— বাড়িটির মালিক চিতলডর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালিক এবং তার স্ত্রী নাসিমা বেগম। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে আব্দুল খালিকের শ্যালক নুরুল ইসলাম জড়িত থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে।

যদিও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কয়েকজন অভিযুক্ত পালিয়ে যায়, তবে বাড়ির মালিক আব্দুল খালিক ও তার স্ত্রী নাসিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে তাঁদের জেল হাজতে পাঠানো হয়। তিনি জানান,ওই বাড়ির লোকজনদের প্রতি স্হানীয় মানুষের চরম ক্ষোভ রয়েছে। পুলিশ জানায়, কদমতলা থানায় অপহরণ, বেআইনি আটক, মুক্তিপণ দাবি এবং অপরাধে আশ্রয় দেওয়ার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে আরও দুই অজ্ঞাত ব্যক্তির জড়িত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।তিনি আরো জানান, এটি নিছক একটি অপহরণের ঘটনা। একটি দুষ্টচক্র উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সাম্প্রদায়িক রং লাগিয়ে মিথ্যে প্রচার চালিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে সচেতন থাকার আবেদন জানান তিনি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য