স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৮ জানুয়ারি: সামাজিক মাধ্যমে প্রেমিকার ছবির সঙ্গে সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করল এক প্রমিক। মৃত যুবকের নাম সুমন ঘোষ (৩২)। তাঁর বাড়ি পশ্চিম কুপিলং এলাকায়। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে টেপানিয়া ব্লক সংলগ্ন নিবারণ দেবনাথের রাবার বাগানে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে বিলোনিয়া থানাধীন এলাকার এক যুবতীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সুমন ঘোষের। তবে সম্প্রতি সেই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ শুরু হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই যুবতী সুমন ঘোষকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে, যার জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ বিলোনিয়া মহিলা থানা থেকে সুমন ঘোষ ও তার বোনের মোবাইলে ফোন আসে। পরিবারের দাবি, ফোনে জানানো হয় – যদি ওই যুবতীকে আর কোনওভাবে যন্ত্রণা দেয়, তাহলে সুমন ঘোষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। এরপর থেকেই সুমন ঘোষ অত্যন্ত মানসিক চাপে পড়ে যান বলে পরিবারের দাবি। মঙ্গলবার দুপুর প্রায় তিনটে নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিষ হয়ে যান সুমন ঘোষ। পরিবারের লোকজনকে জানান, সে বাইরে যাচ্ছে। কিন্তু রাত ঘনিয়ে আসলেও বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর টেপানিয়াস্থিত নিবারণ দেবনাথের রাবার বাগানে অচেতন অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তৎক্ষণাৎ তাঁকে গোমতী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে বলেই চিকিৎসকদের অনুমান। বুধবার মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে মৃত যুবকের পরিবার এই ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট যুবতীকে দায়ী করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পরিবারের বক্তব্য, মানসিক নির্যাতনের ফলেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে সুমন ঘোষ। এমনকি আত্মহত্যার আগে সমান সামাজিক মাধ্যমে প্রেমিকার ছবির সঙ্গে তার ছবি পোস্ট করে লিখেছেন মানসিক নির্যাতনের কারণে সে এই পথ বেছে নিচ্ছে। এর জন্য দায়ী তার প্রেমিকা শ্রাবন্তির পরিবার। অন্যদিকে, ঘটনার তদন্তে নেমেছে রাধাকিশোরপুর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

