Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যশিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য বিদ্যালয়ের পঠন পাঠন লাটে

শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য বিদ্যালয়ের পঠন পাঠন লাটে

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৭ জানুয়ারি: মর্জি মাফিক আসা-যাওয়া চলছে চড়িলাম রামনগর ভিলেজের রাম নারায়ণ ঠাকুরপাড়া হাইস্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। দিনের অর্ধেক সময় গেলে বিদ্যালয়ে আসেন জনগণের পয়সায় মাইনে পাওয়া শিক্ষক শিক্ষিকারা। চরম খামখেয়ালিপনা সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়লো মঙ্গলবার। কিন্তু, রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তর শিক্ষা দপ্তর। দপ্তরের আধিকারিকরা সকাল থেকে অনুষ্ঠান আর মন্ত্রীদের পেছনে পেছনে ঘোরার ফলে যে পরিণতি হওয়ার, সেই পরিণতিই হচ্ছে দপ্তরের অন্দরে। চরম খামখেয়ালি পাড়া অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রতিদিন। শহর-গ্রাম সর্বত্র যেন এক অরাজকতা সৃষ্টি হয়ে আছে বিদ্যালয়গুলির মধ্যে। চড়িলাম বিদ্যালয় পরিদর্শকের অধীন রামনগর ভিলেজের রাম নারায়ণ ঠাকুরপাড়া হাই স্কুলের পঠন পাঠন যে কতটা দুর্বল হচ্ছে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় শিক্ষকদের গাফিলতি ধরা পড়েছে। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনিল দেববর্মা সহ অন্যান্য শিক্ষকরা প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসেন নির্ধারিত সময় থেকে অনেক বেশি দেরিতে। বিদ্যালয়ের প্রার্থনা সভা শেষ হওয়ার পর তারা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। এই অভিযোগ বহু দিনের। মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা অন ক্যামেরায় ধরা পড়ে যাওয়ার ফলে শিক্ষকরা মহাবিপদে পড়ে যায়।বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা অপেক্ষা করছিল কোন সময় শিক্ষকরা স্কুলে আসবে। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা জানায় প্রতিদিন বিদ্যালয়ে প্রার্থনা সভা হয় ১০:৪৫ মিনিটে। কিন্তু মঙ্গলবার দিন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় ঘড়িতে ১০: ৫৫ বাজছে অথচ শিক্ষক-শিক্ষিকা কেউ বিদ্যালয়ে আসেনি। ১০.৫৫ মিনিট প্রথম দুইজন শিক্ষক এক বাইকে করে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয় বিদ্যালয়ের প্রার্থনা সভা কয়টা সময়। তারা সাংবাদিকের ক্যামেরা দেখে তারা বলে বিদ্যালয়ে দশটা ১০:৫৫ মিনিটে প্রার্থনা সভা হয়।

অথচ ছাত্র-ছাত্রীরা বলছে দশটা পঁয়তাল্লিশ মিনিটে প্রার্থনা সভা হয়। প্রধান শিক্ষক বলছেন বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী রয়েছে ১১২ জন। অথচ প্রার্থনা সভায় উপস্থিত শুধুমাত্র ছয় জন। বুঝাই যাচ্ছে বিদ্যালয়ের নিয়ম শৃঙ্খলার কোন বালাই নেই। যাইহোক প্রথম দুই শিক্ষক প্রার্থনা সভা শেষ করেছে ছয়জন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে। প্রার্থনা সভা শেষ হওয়ার অনেকক্ষণ সময় পর প্রধান শিক্ষক অনিল দেববর্মা সহ আরো বেশ কয়েকজন শিক্ষক বাইক নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন বিদ্যালয়ে প্রার্থনা সভা হয় পৌনে ১১ টায়। অথচ বিদ্যালয়ের অন্য দুইজন শিক্ষক বলেছেন প্রার্থনা সভা হয় ১০: ৫৫ মিনিটে। ছাত্র-ছাত্রী বলছেন এক কথা শিক্ষক-শিক্ষিকারা বলছেন এক কথা। অথচ এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রতিদিন এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রার্থনা সবার পরে স্কুলে যায়। পাহাড়ি এলাকার প্রত্যেকটি স্কুলে একই অবস্থা। মর্জি মাফিক শিক্ষক শিক্ষিকারা বিদ্যালয়ে যায়, আবার বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে আসেন। তাদের মধ্যে নিয়ম-শৃংখলার কোন ধরনের বালাই নেই। আধিকারিকদের কোন ধরনের পরিদর্শন নেই বিদ্যালয় গুলিতে। চড়িলাম বিদ্যালয় পরিদর্শক উত্তম কুমার দত্ত পাহাড়ি এলাকার স্কুলগুলিতে কোন ধরনের তদারকি করেন না বলে অভিযোগ। তিনি সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শোকজ করেন। তবে যাই হোক সেদিন সংবাদ মাধ্যমের সামনে পড়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনীল দেববর্মা বারবারই দাবি করছিলেন আজকেই দেরি হয়েছে। তবে এ ধরনের চরম উদাসীনতা আগামী দিন দূর করার জন্য দপ্তরের আধিকারিকরা পদক্ষেপ নেয় কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়? কারণ তাদের কারণে বিদ্যালয়ের পড়াশোনা লাটে উঠেছে। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা বিগত দিনে তুলনায় কমছে বলে অনেকের অভিমত। পড়াশোনা একেবারেই হয় না বলা চলে। তবে যাই হোক সেদিন সংবাদ মাধ্যমের সামনে পড়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনীল দেববর্মা বারবারই দাবি করছিলেন আজকেই দেরি হয়েছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য