স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৪ জানুয়ারি :ত্রিপুরার উত্তর জেলার ধর্মনগরের বরগোল এলাকায় শনিবার অনুষ্ঠিত হল আগর ক্লাস্টার প্রসেসিং সেন্টারের শুভ শিলান্যাস। প্রায় ৮০ কোটি টাকা অর্থ ব্যয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের শিলান্যাস করেন কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। এই প্রকল্পকে ঘিরে উত্তর ত্রিপুরার আগর চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের মন্ত্রী টিংকু রায়, সান্তনা চাকমা, অনিমেষ দেববর্মা সহ বন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
পাশাপাশি গোটা রাজ্যের আগর চাষি, আগর ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক জনসমাবেশে। শিলান্যাসের আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আগরতলা থেকে সরাসরি উত্তর ফুলবাড়ির মামন এন্টারপ্রাইজ আগর ইন্ডাস্ট্রি পরিদর্শন করেন। তিনি আগর বাগান ঘুরে দেখার পাশাপাশি বরগোলের নির্মীয়মান আন্তর্জাতিক আগর মার্কেটও পরিদর্শন করেন। এরপর বরগোল গ্রাম পঞ্চায়েত সংলগ্ন আগর ক্লাস্টার প্রসেসিং সেন্টারের আনুষ্ঠানিক শিলান্যাস সম্পন্ন হয়। শিলান্যাস শেষে আয়োজিত সভায় মুখ্য অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, আজকের দিন ত্রিপুরার আগর চাষি ও ব্যবসায়ীদের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদ ও মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতাতেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি জানান, ত্রিপুরার বরগোল ও অসমের গোলাঘাট—এই দুই জায়গায় সেন্ট্রাল আগর ক্লাস্টার প্রসেসিং সেন্টার গড়ে তোলা হবে। বরগোলের এই প্রকল্পে আগর গাছ থেকে শুরু করে সুগন্ধি পারফিউমের বোতল পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভ্যালু চেঞ্জ—প্রসেসিং, ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং করা হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানান, আগর রপ্তানির ক্ষেত্রেও বড়সড় ছাড় দেওয়া হয়েছে।
আগর চিপসের রপ্তানি কোটা ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১.৫ লক্ষ এবং আগর তেলের কোটা ১,৫০০ কিলো থেকে বাড়িয়ে ৭,৫০০ কিলো করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কৃষকরা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে তাঁদের উৎপাদিত আগর বিক্রি করতে পারেন—সেই ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ভোকাল ফর লোকাল ও ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট-এর বাস্তব উদাহরণ আজ উত্তর ফুলবাড়ি ও বরগোল। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৫ কোটি আগর গাছ রয়েছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। আগামী কয়েক বছরে ত্রিপুরায় আগর উৎপাদন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদী। এই শিল্প থেকে বার্ষিক প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার টার্নওভার হবে বলেও জানান তিনি। ত্রিপুরা সফর প্রসঙ্গে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, তাঁর এই সফরে রাজ্যজুড়ে কয়েকশো কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস হবে। শনিবার রাতেই তিনি ডুম্বুর পর্যটন কেন্দ্রে যাবেন এবং রবিবার মামাবাড়িতে প্রায় ২৯০ কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন। এডিসি নির্বাচন ও পাহাড়ি রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে প্রকাশ্য সভায় তিনি বলেন, “ত্রিপুরা আমার নিজের বাড়ি। প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণের মা আমার পিসি। সূত্রের খবর, এই সফরে তাঁর সঙ্গে প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণের সাক্ষাতের সম্ভাবনাও রয়েছে, যদিও তা পারিবারিক হতে পারে বলেই জানা গেছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য চলাকালীন এক বিতর্কিত দৃশ্যও নজরে আসে। অতিথি আসনে বসেই ঘুমোতে দেখা যায় বাগবাসার বিজেপি বিধায়ক যাদব লাল নাথকে। যাঁর বিরুদ্ধে অতীতে বিধানসভায় আপত্তিকর ভিডিও দেখার অভিযোগ উঠেছিল এবং সেই ঘটনায় বিধানসভা উত্তাল হয়েছিল গঙ্গাজল পর্যন্ত ছিটানো হয়েছিল। সেই বিধায়কের নিদ্রাচ্ছন্ন উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যের জন্য শত কোটি টাকার প্রকল্পের ঘোষণা করছেন, তখন একজন শাসক দলের বিধায়কের এমন আচরণ কতটা শোভনীয়? সব মিলিয়ে বরগোলের আগর ক্লাস্টার প্রসেসিং সেন্টারের শিলান্যাস উত্তর ত্রিপুরা সহ গোটা ত্রিপুরার অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

