Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্য১৭ দিন পর মায়ের মৃতদেহ সৎকার করল সাত বছরের সন্তান, বাবা মারা...

১৭ দিন পর মায়ের মৃতদেহ সৎকার করল সাত বছরের সন্তান, বাবা মারা গেছে ১১ দিন আগে – অনাথ তাদের শিশু সন্তান

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২০ জানুয়ারি :আজও ভালো মানুষ জীবন্ত! এরই প্রমাণ করলো পুলিশ প্রশাসন এবং সমাজ। ১৭ দিন পর সৎকার হল এক হতদরিদ্র মহিলার মৃতদেহ। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ছয় দিনের মাথায় মৃত্যু হল স্বামীরও। বর্তমানে অনাথ তাদের সাত বছরের শিশু সন্তান। জানা যায়, সোনামুড়া মহকুমার অন্তর্গত মানিকনগর গ্রামের রাধা চরণ নমঃ দীর্ঘ বছর যাবত দরিদ্রতার সাথে লড়াই করেছিলেন।

দরিদ্রতার মধ্যে দিন কাটিয়েছিল অসহায় এই দরিদ্র পরিবারের রাধাচরণ নমঃ। তাদের সাত বছরের একটি ছেলে সন্তানকে নিয়ে কুলু বাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে সরকারি জায়গায় ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনযাপন করছিলেন। শেষ পর্যন্ত বাঁচার লড়াইয়ে হেরে গেলেন রাধা চরণ ও চম্পা দেবনাথের। গত কয়েকদিন আগে রান্না করতে শরীরে আগুন লাগায় রাধা চরণ নমঃ স্ত্রী চম্পা দেবনাথ।

ঘটনার দিন সঙ্গে সঙ্গে মেলাঘর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল চম্পা দেবনাথকে। সেখান থেকে জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয় তাকে। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ছয় দিনের মাথায় মৃত্যু হয় স্বামী রাধাচরনের। তারপর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে রাধা চরণের মৃতদেহ সৎকার করার কয়েক দিন পর গত রবিবার এলাকাবাসীর কাছে আবার খবর আসে শিশুটির মা চম্পা দেবনাথের মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে। সোনামুড়া থানার পুলিশ এবং পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে এগিয়ে আসেন শ্রীজিব নমঃ নামে এক সমাজসেবী। সোমবার শ্রীজিব এবং তার সঙ্গী সাথীরা সাত বছরের অনাথ শিশুটিকে নিয়ে জিবি হাসপাতালের মর্গে এসে চম্পা দেবনাথের মৃতদেহ প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী সৎকার করার বন্দোবস্ত করেন। পরে জিবি হাসপাতালের মর্গ থেকে বটতলা মহাশ্মশানে এনে সৎকার করেন তারা। তারপর শিশুটিকে স্থানীয় একটি শিশু হোমে তুলে দেন।

 শিশুটি বর্তমানে অনাথ। জীবনযুদ্ধে লড়াই করে মা বাবা দুজনের মৃত্যু হয়েছে। রেখে গেছেন তাদের একমাত্র সন্তান। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস শিশুটি দুজনকে হারিয়েছে। পাশে দাঁড়িয়েছে সমাজসেবীরা। তারা জানিয়েছেন পশ্চিম আগরতলা থানার ওসি রানা চ্যাটার্জি পর্যন্ত তাদের অনেক বেশি সহযোগিতা করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন হতদরিদ্র পরিবারের এক সপ্তাহেরও   কম সময়ের ব্যবধানে স্বামী স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু ও একটি শিশুর অনাথ হয়ে যাওয়ার কথা  স্থানীয় পঞ্চায়েতকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। অবাক করার বিষয় হলো অর্থাভাবে পরপর মা বাবার মৃত্যুতে যখন আচমকাই সর্বস্ব হারিয়ে অনাথ হলো ছোট্ট  নয়ন , প্রায় একই সময়ে তাদের অস্থায়ী বাসস্থানের অদূরে চলছিল নাইট ক্রিকেটের জমকালো আসর। দেদার অর্থের বিনিময়ে বিশাল আয়োজন । এই আসরের  ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন দুই মন্ত্রী সমেত এলাকার বিধায়ক। অথচ তারা কেউই এই অসহায় নয়নের খবর নেননি । যা নিয়েও সমালোচনায় মুখর হয়েছেন স্থানীয়রা। যাইহোক এখন শিশুটি যদি সরকারিভাবে সমস্ত সুযোগ সুবিধা পায় তাহলে সে বাঁচার দিশা পাবে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য