Tuesday, February 3, 2026
বাড়িরাজ্যউত্তপ্ত ফটিকরায়ে গিয়ে বাঁধার মুখে পড়লেন বীরজিৎ, বিস্ফোরক মন্তব্য মন্ত্রী সুধাংশুর মুখে

উত্তপ্ত ফটিকরায়ে গিয়ে বাঁধার মুখে পড়লেন বীরজিৎ, বিস্ফোরক মন্তব্য মন্ত্রী সুধাংশুর মুখে

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১১ জানুয়ারি :  ভৈরব মেলার জন্য চাঁদাবাজি ঘিরে শনিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠে ফটিকরায় বিধানসভা কেন্দ্রের সায়দার পার স্থিত শিমুলতলী এলাকা। একদল উত্তেজিত দুষ্কৃতিকারী জ্বালিয়ে দেয় দোকানপাট, বাড়িঘর, গাড়ি এবং স্থানীয় একটি মসজিদ। ঘটনার পর এলাকায় যাতে কোনরকম সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হতে পারে তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কুমারঘাট মহকুমায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়, পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৬৩ ধারা লাগু করা হয়। পাঁচজনের অধিক একসাথে চলাফেরা করতে পারবে না এবং কেউ কোন অস্ত্র নিয়ে যাতায়াত করতে পারবে না।

এরই মধ্যে রবিবার ২৪ ঘন্টা পর কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল বিধায়ক বীরজিৎ সিনহার নেতৃত্বে এলাকা পরিদর্শনে যান। তখন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকে বাধা দেন। কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলের জানান ১৬৩ ধারা বলবৎ রয়েছে বলে অবগত রয়েছে তারা। কিন্তু, এই দুঃসময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান তারা। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে পায়ে হেঁটে তিনজন কংগ্রেস নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে গিয়ে মানুষের খোঁজখবর নিতে এসেছেন। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বাধা দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা বলেন, প্রশাসন দুর্বল। কেন এক অংশের মানুষ পূজা করলে অন্য অংশের মানুষকে চাঁদা দিতে হবে? তিনি আরো অভিযোগ তুলে বলেন, যারা চাঁদা আদায় করে পূজা করে তারা এক টাকাও পূজার জন্য দেয় না। মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে তারা পূজা করছে। সুতরাং, এগুলি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি। মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকার পরেও বিভিন্নভাবে চাঁদা নিয়ে উস্কানিমূলক কথা বলে বিভ্রান্ত করা চেষ্টা করা হচ্ছে।

 কিন্তু, মূলত ঘটনা চাঁদা সংক্রান্ত নয়। একটি বাইকের সঙ্গে কাঠ বুঝাইকারী লরির ধাক্কা লেগেছিল। তখন চুরির কাঠ কিনা জানতে চাইলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়, মসব্বীর আলী নামে একজন এসে দাবি করেন এই কাঠ সেই ব্যক্তির। তখন ঝামেলা এমন পর্যায়ে যায় মসব্বীর আলীর পাড়ার লোকেরা এসে স্থানীয় তিনজন লোকের উপর আক্রমণ করে। তারপরেই এই ঘটনা বৃহদাকার ধারণ করে। তারপর কে বা কারা গিয়ে এক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনাঙ্কিতভাবে ঢিল ছুড়ে। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। পাশাপাশি মসব্বীর আলীর দোকান আংশিকভাবে জ্বলেছে। এছাড়াও দুটি ঘর আগুন দিয়ে ঝালানো হয়েছে। পরে দমকল কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ঘটনার পর থেকে কংগ্রেস এবং সিপিআইএম দাবি করছে একটা নির্দিষ্ট অংশের মানুষের বাড়ি ঘর চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের মিথ্যা গুজব না ছড়িয়ে প্রয়োজনে ঘটনাস্থলে যেতে আহ্বান করেন মন্ত্রী সুধাংশু দাস। মন্ত্রী আরো জানান, কংগ্রেস দল হিন্দু বিরোধী। তাদের জন্মই হয়েছে সনাতনের বিরোধিতা করার জন্য। বাংলাদেশ যেভাবে সংখ্যালঘুর উপর নির্যাতন হচ্ছে এর প্রতিবাদ কি করা হবে না? তারা চাইছে তাদের ভোট ব্যাংক হিসেব রাখতে। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টি ভোট ব্যাংকের হিসাব করে না। আরো বলেন, বীরজিৎ বাবুরা সবসময় জঙ্গিগোষ্ঠী মৌলবাদীদের সমর্থনে আছেন। উত্তরাঞ্চলে তার কিছু লালিত পালিত গুন্ডা পান্ডা আছে। তাদের দিয়ে কৈলাশহরে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ তুলেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য