Thursday, July 30, 2026
বাড়ি রাজ্য ডেলিভারি বয় মৃত্যুকান্ডে নয়া মোড়, যুক্ত হল আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারা, অভিযুক্তদের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ

ডেলিভারি বয় মৃত্যুকান্ডে নয়া মোড়, যুক্ত হল আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারা, অভিযুক্তদের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ

ডেলিভারি বয় মৃত্যুকান্ডে নয়া মোড়, যুক্ত হল আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারা, অভিযুক্তদের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৯ জানুয়ারি : ডেলিভারি বয় প্রসেনজিৎ সরকার মৃত্যু মামলায় আদালতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যুক্ত হল আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারা। পাঁচ অভিযুক্তের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ। ত্রিপুরা উত্তর জেলার ধর্মনগরের ব্লোডার্ট কুরিয়ার সংস্থার ডেলিভারি বয় প্রসেনজিৎ সরকারের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় শুক্রবার বিচার প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিল। ধর্মনগর সিজিএম আদালতে মামলার নির্ধারিত শুনানিতে একের পর এক অভিযুক্তের জামিন আবেদন খারিজ হওয়ায় মামলার গুরুত্ব আরও বেড়ে উঠেছে। জানা গেছে, এই মামলায় অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে প্রথমে তিনজন ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশন জজ কোর্টে জামিন আবেদন(বেল পিটিশন নং– ৭৩/২০২৫) দাখিল করেছিলেন। তবে তদন্তকারী অফিসারের পেশ করা অভ্যন্তরীণ তদন্ত রিপোর্টে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর তথ্য উঠে আসায় মাননীয় ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশন জজ কোর্ট তাদের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর একই মামলার অপর দুই অভিযুক্ত লয়ার কোর্টে পৃথকভাবে জামিন আবেদন জানালেও, শুক্রবার মাননীয় আদালত ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশন জজ কোর্টের পূর্ববর্তী আদেশের মান্যতা দিয়ে সেই আবেদনও খারিজ করে দেন। এদিন মামলার শুনানিতে তদন্তকারী অফিসার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবেদন জানান।

 তিনি প্রসেনজিৎ সরকারের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারা যুক্ত করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন। মামলার নথি ও তদন্তে উঠে আসা তথ্য পর্যালোচনা করে মাননীয় আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে উক্ত ধারা যুক্ত করার নির্দেশ দেন।তদন্তকারী অফিসারের রিপোর্ট অনুযায়ী, মামলার তদন্তে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। অভিযোগ, অভিযুক্তরা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে প্রসেনজিৎ সরকারের মারধর ও হেনস্থার ভিডিও আদান–প্রদান করেছিল এবং পরবর্তীতে সেইগুলি ডিলিট করে দেয়।

 এই প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের আরও গভীরভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারী অফিসার আদালতের কাছে অতিরিক্ত দু’দিন সময় প্রার্থনা করেন। এদিন অপর দুই অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতে তাদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে জামিনের আবেদন জানান। তবে মাননীয় আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, প্রথম তিন অভিযুক্ত যে অপরাধের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হয়েছেন, অপর দুই অভিযুক্তও একই অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ফলে পাঁচজন অভিযুক্তই সমান অপরাধে অভিযুক্ত বলে গণ্য হবেন। সেই যুক্তিতেই আদালত তাদের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। শেষ পর্যন্ত মাননীয় আদালত মামলার পাঁচ অভিযুক্তকে আগামী ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত পুনরায় জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখও ২২ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলার পক্ষের আইনজীবী দেবদাস বক্সি জানান, তদন্তকারী অফিসার যে সমস্ত তথ্য আদালতে পেশ করেছেন, তাতে এটা স্পষ্ট যে অভিযুক্ত পাঁচজনই প্রসেনজিৎ সরকারকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছে। তাঁর মতে, অভিযুক্তদের জামিন খারিজ হওয়া সত্য ও ন্যায়ের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। সব মিলিয়ে প্রসেনজিৎ সরকার মৃত্যু মামলার তদন্ত যে সঠিক দিশায় এগোচ্ছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসছে, শুক্রবারের আদালত কক্ষের ঘটনাপ্রবাহে তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha