স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৫ জানুয়ারি : সুশাসন জামানায় চারিদিকে শুধু উন্নয়নের ঢাক পেটানো হচ্ছে। অথচ বাস্তবে জনগণ অন্য কথা বলছে। মন্ত্রীর এলাকাতেই উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে নি। উন্নয়নের আশা থেকে নিরাশ জোলাইবাড়ী বাসী। জোলাইবাড়ী বিধানসভার মধুলা সদ্দাড় পাড়া ও চরমপাই পাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বলে অভিযোগ উঠছে। বাম আমল থেকে শুরু করে রাম আমলেও এলাকার সার্বিক উন্নয়ন কার্যত অধরাই থেকে গেছে বলে মত সাধারণ মানুষের। ২০২৩ সালে রাজ্যে বিজেপি জোট সরকারের প্রত্যাবর্তনের পর জোলাইবাড়ী বিধানসভার বিধায়ক শুক্লা চরন নোয়াতিয়া মন্ত্রী হওয়ায় পর এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়।
অনেকেই ভেবেছিলেন, মন্ত্রীর নিজস্ব বিধানসভা হওয়ায় এবার অন্তত রাস্তা, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র যেন সেই আশাকে আজ নিরাশায় পরিণত করেছে। মধুলা সদ্দার পাড়া ও চরমপাই পাড়ার এলাকার লোকজন জোলাইবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতি চেয়ারম্যান তাপস দত্তকে পরিস্থিতি জানানো পরেও কোনো পদক্ষেপ করেননি এমন যে, কোথাও কোথাও দেখে মনে হয় যেন এখানে মানুষের বসবাসই নেই। এই অঞ্চলটি বিগত কয়েক বছর আগে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় ভয়াবহ বন্যার সময় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ক্ষত আজও পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ।
কাঁচা ও ভাঙাচুরা রাস্তার কারণে এলাকাবাসীর নিত্যদিনের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে এলাকার শিশুদের স্কুলে আসা-যাওয়া এক বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। মধুলা সদ্দাড় পাড়া ও চরমপাই পাড়ার এলাকায় অবস্থিত কালমা হাই স্কুলে পড়ুয়াদের যেতে হয় কাদামাটি ও জল জমা রাস্তা পেরিয়ে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক সময় অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে শিশুদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ রাখেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকরি কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। ড্রেন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবস্থাও শোচনীয়। এলাকাবাসীর একটাই দাবি, কাজ না করে উন্নয়নের ঢাক না পিটিয়ে বাস্তব উন্নয়ন করার জন্য নজর দেওয়া হোক। এখন প্রশ্ন উঠছে—মন্ত্রী শুক্লা চরন নোয়াতিয়া কি মধুলা সদ্দাড় পাড়া ও চরমপাই পাড়ার এলাকার এই দীর্ঘদিনের সমস্যার দিকে নজর দেবেন? মন্ত্রী হওয়ার পর কি এই অবহেলিত অঞ্চলের জন্য বিশেষ কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হবে? নাকি জোলাইবাড়ীর এই অংশটি উন্নয়নের মানচিত্রেই থেকে যাবে উপেক্ষিত?

