স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২ জানুয়ারি : চুরাইবাড়ির নৈশ প্রহরীর উপর হামলা চালায় ডাকাতের দল। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাস্তায় নামল এলাকাবাসী। প্রশাসনের কাছে দাবি তোলে নিরাপত্তা প্রদান করার। ঘটনার বিবরণে জানা যায় চুরাইবাড়ির প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী রূপক দেব। ৪ থেকে ৫ দিন ধরে রূপক দেব তার পুরাতন বাড়ি খোয়াই অবস্থান করছে। রূপক দেবের বাড়িতে নৈশ প্রহরী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিল কৃতিশ রাজবংশি।
বৃহস্পতিবার রাতে এক দল দুষ্কৃতি নৈশ প্রহরী কৃতিশ রাজবংশির উপর প্রাণঘাতী হামলা চালায়। কৃতিশ রাজবংশী জানায় দুষ্কৃতিদের সকলের মুখ কালো কাপড় দিয়ে বাধা ছিল। দুষ্কৃতিরা তাকে মারধরের পর দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। এলাকাবাসী এবং আক্রান্ত নৈশ্য প্রহরীর সহধর্মীনের কাছ থেকে জানা যায়, গভীর রাতে ডাকাতদল সীমানার টিনের বেড়া কেটে বাড়িতে প্রবেশ করে। প্রথমে পাহারাদার কৃতিশ রাজবংশীকে ধরে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে বেধড়ক মারধর করা হয়। এমনকি গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করার চেষ্টাও চালায় দুষ্কৃতকারীরা।
প্রথমে তিনজন আক্রমণ করলেও পরে আরও দু’জন যোগ দেয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে রক্তাক্ত অবস্থায় কোনোমতে টিনের বেড়া ভেঙে পাশের বাড়িতে পালিয়ে গিয়ে চিৎকার করেন আহত যুবক। তার চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাত দল। ঘটনার খবর পেয়ে চুরাইবাড়ি থানার পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। শুক্রবার সকালে শত শত এলাকাবাসীরা জড়ো হলে পুনরায় পুলিশকে ডাকা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে রূপক দেব রায়ের মূল ঘরের তালা খুলে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার চেষ্টা করা হলেও পাসওয়ার্ড থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ফুটেজ দেখা সম্ভব হয়নি। এদিকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর প্রশ্ন- “চোর-পুলিশের এই লুকোচুরি আর কতদিন চলবে?” তাদের অভিযোগ, চুরাইবাড়ি থানা এলাকায় ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ফাঁকা বাড়িগুলিই দুষ্কৃতকারীদের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও পুলিশ আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে, তবুও এলাকাবাসীর দাবি-শুধু তদন্তের পাশাপাশি চাই স্থায়ী নিরাপত্তা ও কঠোর নজরদারি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

