স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৪ ডিসেম্বর : রাজ্য পুলিশের সদর কার্যালয়ের নাকের ডগায় বামেদের সভা করার অনুমতি মিলল দুমাস পর, অথচ তারপরও সভার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ পুলিশ প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যায় বামদের সভাস্থলে এসে ৭ রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রের মন্ডল সভাপতি অমিতাভ ভট্টাচার্যীর নেতৃত্বে চলে এই হামলা। সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বাহুবলী রূপ নিয়ে খোদ এসেছেন মন্ডল সভাপতি। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আখাউড়া রোড স্থিত পিয়ারী বাবু বাগান সংলগ্ন এলাকায় সিপিআইএম -এর সদর মহকুমা কমিটির উদ্যোগে এক সভা শুরু হয়।
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআইএম রাজ্য কমিটির সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। বিরোধী দলনেতা ভাষণ দেওয়ার শুরু থেকেই সবার বিপরীত দিকে একদল যুবক জড়ো হয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর পুলিশের সামনেই যুবকদের জমায়েত স্হলে আসেন মন্ডল সভাপতি। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বলেন ত্রিপুরাকে বাঁচাতে হবে। তিনি বলেন, ত্রিপুরা রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা নেই বলে শুধু বিরোধীদের দাবি নয়। এই দাবি রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্য অনিমেষ দেববর্মারও। তিনি বলেছেন রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা নেই। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্ব পেলে তিন মাসের মধ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে দেখিয়ে দেবেন বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ছে।
তিনি আরো বলেন, ২০১৮ সালে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেই প্রতিশ্রুতি গুলি কি হয়েছে সেই জবাব খুঁজছে রাজ্যের জনগণ। এ জনগণকে আচ্ছে দিন, সাবকা সাথ – সবকা বিকাশ, নতুন ত্রিপুরা সহ বিভিন্ন কথা বলা হয়েছিল। তাদের সামনে এখন গিয়ে কিভাবে দাঁড়ান, বিজেপি নেতৃত্বের দিকে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। বিজেপি সরকারের নতুন ত্রিপুরা মানে হলো জনগণের প্রশ্নের জবাব দেবে না সরকার, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে না সরকার। আরো বলেন ত্রিপুরা রাজ্যে অনৈতিক জোট সরকার রয়েছে। বিজেপি, তিপরা মথা এবং আইপিএফটি। এই তিন স্তম্ভের নীতি আলাদা।
তিপরা মথা বলছে গ্রেটার তিপরাল্যান্ড, আইপিএফটি বলছে তিপরাল্যান্ড এবং বিজেপি বলছে নো-তিপরাল্যান্ড। অথচ বামফ্রন্টের চারটি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ সময় ত্রিপুরা রাজ্যে সরকার পরিচালনা করলেও কোনদিন একদল অন্য দলের বিরুদ্ধে যায়নি। আজকে আগরতলা শহরের বুকে মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পুড়ছে সরকারে থাকা শরীরের দল। আবার একদল অন্য দলকে বলছে জোট ধর্ম পালন না করলে সরকার থেকে বের হয়ে যাবে। কিন্তু কেউই সরকার থেকে বের হচ্ছে না। প্রত্যেক সপ্তাহে বিধানসভা, মন্ত্রিসভায় নেতৃত্বের বৈঠক হয়। তখন তাদের মধ্যে কোন মতবিরোধ হচ্ছে না। এভাবেই দীর্ঘক্ষন সমালোচনার ঝড় তুললেন বিরোধী দলনেতা। তারপরই মন্ডল সভাপতি নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা ইট পাটকেল ছুটতে শুরু করে সিপিআইএমের সভার উপর। পাল্টা প্রতিরোধ করে সিপিআইএমের কর্মী সমর্থকরা। পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়ে উঠলে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করে। তারপরও মন্ডল সভাপতি নেতৃত্বে কয়েকজন দুর্বৃত্ত সিপিআইএমের কর্মী সমর্থকদের বাইক ভাঙচুর করে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের সদর কার্যালয়ের বিপরীত পাশে এসে একটি বাইক ভাঙচুর করে শাসক দল আশ্রিত দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগ। তারপর এলাকায় মোতায়েন করা হয় আধা সামরিক বাহিনী।

