স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩০ নভেম্বর : রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে একাংশ স্বাস্থ্য কর্মীদের মর্জি মাফিক পরিষেবা। এই অভিযোগ রাজ্যে জিবি এবং আইজিএম হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহকুমা হাসপাতাল গুলির মধ্যেও কান পাতলে শোনা যায়। সুশাসন এবং বিকাশ ত্রিপুরায় তাদের পা মাটিতে লাগেনা। এমনই এক অভিযোগ এবার উঠে এসেছে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগে কর্মরত টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মুক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে।
উনার দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় চরম অসন্তোষ হাসপাতালের অন্যান্য রোগীদের মধ্যে। রোগী পরিষেবার ক্ষেত্রে তার চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা নিয়ে ইতিমধ্যেই চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মুক্তার হোসেন প্রায়শই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তিনি এক্স-রে বিভাগের কাজেও গাফিলতি করেন। ফলে বাধ্য হয়ে তার পরিবর্তে প্রায়শই জিডিএ কর্মী প্রবীণ কুমার জমাতিয়া এক্স-রে বিভাগে রোগীদের সেবা দিয়ে চলেছেন।
বাম আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে কর্মসংস্কৃতির অভাব ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের, কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে মানুষ প্রতিদিন গল্প শুনছে হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছে সরকার। হাসপাতালের সৌন্দর্যায়ন থেকে শুরু করে রোগীদের জন্য উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক স্তরে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে বাস্তবে হাসপাতালে এসে মানুষ ভিন্ন চিত্র পরিদর্শন করছেন। শনিবার রোগীরা হাসপাতালে গিয়ে প্রত্যক্ষ করেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা ৯ টা হলেও মুক্তার হোসেন হাসপাতালে পৌঁছেছেন প্রায় সাড়ে দশটার নাগাদ। ফলে এক মুমূর্ষ রোগীর এক্স-রে করছেন জিডিএ কর্মী প্রবীণ কুমার জমাতিয়া। এ বিষয়ে মোক্তার হোসেনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে, তিনি অনেকটা “ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি” অবস্থা। আমতা আমতা করে সংবাদমাধ্যমের সামনে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এর কারণে আগরতলায় ছিলেন, বাইক নষ্ট ইত্যাদি পাহাড় সমান অজুহাত তুলে ধরেন। অন্যদিকে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালের এম.ও.আই.সি অজিত দেববর্মার নিকট এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ছুটি নেওয়া হয়েছে বলে উনার কাছে কোন খবর নেই, পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমের সামনে তিনি। তবে এক্ষেত্রে জনগণের করের টাকায় বেতন পাওয়া কর্মচারীদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত।

