Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যএকই সময়ে, একই রাস্তায় একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে উত্তপ্ত ধর্মনগর,...

একই সময়ে, একই রাস্তায় একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে উত্তপ্ত ধর্মনগর, প্রশাসনিক ব্যর্থতায় রক্তে ভিজল পথঘাট

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৬ নভেম্বর : প্রশাসনের চরম গাফিলতিতে রক্তাক্ত ধর্মনগর! সিপিআইএমের মিছিলের উপর আক্রমণ শাসক দলের বলে অভিযোগ। অপরদিকে কংগ্রেস কার্যালয়ে প্রবেশ করে শাসক দল আশ্রিত দুর্বৃত্তরা ভয়াবহ হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনায় সিপিআইএম এবং কংগ্রেসের ১০ থেকে ১২ জন আহত। এর মধ্যে আশঙ্কাজনক তিনজনের। পরিস্থিতি থমথমে। জানা যায়, বুধবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে ধর্মনগরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। মঙ্গলবার গভীর রাতে ধর্মনগর জেলা কংগ্রেস ভবনে নাশকতার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। এদিন সকালে জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে কংগ্রেস ভবনের সামনে রাস্তা অবরোধে বসে কংগ্রেস কর্মী–সমর্থকেরা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ প্রশাসন দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই একই স্থানে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কর্মীরাও রাস্তা অবরোধে বসে। তাদের অভিযোগ, মঙ্গলবার দুপুরে এবিভিপি নেতা অনিকেত দেবের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত জেলা যুব কংগ্রেস নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। এদিকে জেলা কংগ্রেস সভাপতি দিগ্বিজয় চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, বুধবার দুপুরে বিজেপি-আশ্রিত কয়েক শতাধিক দুষ্কৃতিকারী কংগ্রেস ভবনে ঢুকে হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর করে। ঘটনায় এক কংগ্রেস কর্মী আহত হন। তিনি বর্তমানে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশের সামনেই এই হামলার ঘটনা ঘটে, অথচ প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, যখন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা তিপ্রা মথার হাতে আক্রান্ত হন, তখন মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন। কিন্তু বিরোধীদের উপর হামলার ঘটনায় তিনি নীরব থাকেন। তার দাবি, রাজ্যে বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা ও গণতন্ত্র ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে ধর্মনগর সিপিআইএম দলীয় কার্যালয় থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিলটি জেলা শাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে এক পথসভা করে।

 ঠিক সে সময় কালীদিঘির পাড় থেকে বিজেপির একটি মিছিল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরাই সিপিআইএম মিছিলে হামলা চালায়। এতে সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অমিতাভ দত্ত, জেলা নেতা রতন রায়-সহ একাধিক কর্মী আহত হন। পুলিশের সামনেই এই সংঘর্ষ ঘটে বলে অভিযোগ উঠে। পরে আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ধর্মনগর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত কর্মকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কমল দেববর্মা এবং জেলা পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।

 তবে স্থানীয়দের আঙ্গুল প্রশাসনের দিকেই। কারণ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এদিন ছিল চূড়ান্ত গাফিলতি। যেহেতু মঙ্গলবার থেকেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে আছে ধর্মনগরে সেই জায়গায় কিভাবে একাধিক রাজনৈতিক দলকে বুধবার মাঠে নামার সুযোগ দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন? শুধু তাই নয়, রোড ম্যাপ পরিবর্তন না করে একই রোডে একাধিক রাজনৈতিক দলকে মিছিল করার সুযোগ দিয়েছে পুলিশ। যার কারনে এই দিনের ঘটনা বলে মনে করছে। আরো লক্ষ্য করা গেছে পুলিশের সামনেই দুর্বৃত্তরা হাতে দলীয় পতাকা নিয়ে সিপিআইএম কর্মী সমর্থকের উপর আক্রমণ চালিয়েছে। পাশাপাশি ভাঙচুর করেছে বিরোধী দলের প্রচার সজ্জার গাড়ি। পুলিশ পুরোপুরি নীরব দর্শক থাকায় দুর্বৃত্তরা এদিন নগ্ন চেহারা দেখাতে পেরেছে। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে প্রশাসনিক অধিকারিকদের। কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে আইন শৃঙ্খলা? আক্রমণের শিকার হয়ে রাস্তার পাশে রক্তে ভেজা শরীর নিয়ে পড়েছিল বিরোধী দলের নেতৃত্ব অমিতাভ দত্ত সহ অন্যান্যরা। যা দেখে স্থানীয়দের মনে স্বাভাবিকভাবে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট, বাজার হাট সর্বত্র। এ যেন এক ৯০ দশকের চেহারা। খবর লেখা পর্যন্ত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করে নি। এ বিষয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা বলেন, যে কোন রাজনৈতিক দলের কাছে তাদের দলীয় কার্যালয় মন্দির হিসেবে মনে করা হয়। সেই জায়গায় ধর্মনগরে কংগ্রেসদের দলীয় কার্যালয়ে আক্রমণ এবং কর্মী সমর্থকদের উপরে আক্রমণ হয়েছে। এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি আরো বলেন, আজকে সংবিধান দিবসের মতো একটি পবিত্র দিনে কংগ্রেসকে রক্ত ঝরাতে হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব ছিল। তাদের সামনে ধর্মনগরে এই ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। তারপরেও কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য