Tuesday, October 4, 2022
বাড়িরাজ্যসংবাদ মাধ্যম সমাজের দর্পণ : মুখ্যমন্ত্রী

সংবাদ মাধ্যম সমাজের দর্পণ : মুখ্যমন্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২১ সেপ্টেম্বর : সংবাদ মাধ্যমের এমন কোন কিছু করা ঠিক নয় যে পূর্বের ৩৫ বছর পুনরায় ফিরে আসে। তাহলে আবার ৩৫ বছর সংযোজন হবে। তাই খবর বিকৃত না করে সত্যি খবর প্রকাশ করা প্রত্যেক সংবাদ মাধ্যমের দায়িত্ব। কারণ সংবাদমাধ্যমের সাহায্য ছাড়া সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়। সংবাদ মাধ্যম সমাজের দর্পণ। বুধবার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে ত্রিপুরা নিউজ পেপার সোসাইটির সম্মেলনে প্রদ্বীপ প্রজ্বলনের পর বক্তব্য রেখে এমনটাই বললেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। তিনি বলেন সংবাদ মাধ্যম গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ।

এতে কোন সন্দেহ কারণ নেই। কিন্তু বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া অত্যন্ত সংযত হয়ে খবর প্রকাশ করা দরকার। যাতে মানুষ বিভ্রান্তের শিকার না হয়। মুখ্যমন্ত্রীর সংবাদ মাধ্যমের প্রশংসা করে বলেন পত্রিকায় না পড়লে সারাদিনের তৃপ্তি আসে না। প্রতিটি অক্ষরের মধ্যে যেন খবরের আনন্দ লুকিয়ে থাকে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন সংবাদ মাধ্যমের কোন গুষ্টি সাথে এমন কোন পিড়িত থাকা ঠিক নয়। সরকার সংবাদ মাধ্যমের প্রতীক যথেষ্ট আন্তরিক। কিন্তু দেখা গেছে সংবাদ মাধ্যমের কিছু ছোট ছোট গ্যাং হয়ে রয়েছে। কিন্তু তাতে সরকার এক চোখে নীতিতে বিশ্বাস থাকবে না। সরকার সংবাদ মাধ্যমের প্রতি সঠিকভাবে দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করতে চায় বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।

এ রাজ্যে সংবাদপত্র নির্বাচিত সরকারের শত্রু নয়। নির্বাচিত সরকারকে পথ দেখাতে চায় সংবাদ মাধ্যম। বিশ্বের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের সংবাদ মাধ্যমে অনেক সুনাম রয়েছে। আর সেই সুনাম ধরে রেখে আগামী দিনে দায়িত্ব পালন করে যেতে চায় সংবাদ মাধ্যম। সম্মেলনে বক্তব্য রেখে এমনটাই বললেন ত্রিপুরা নিউজ পেপার সোসাইটির সভাপতি সুবল কুমার দে। তিনি আরো বলেন ২০১৮ পর ত্রিপুরা রাজ্যের সংবাদ মাধ্যমের সংগঠন টুকরো টুকরো হয়ে সরকারকে সুযোগ দিচ্ছে। এতে করে সাংবাদিকদের স্বার্থে কোন কাজ হচ্ছে না রাজ্যে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব আমলাদের শিকার হয়ে সাংবাদিকদের কোনঠাসা করেছে। সংবাদ মাধ্যমের ওপর দানবীয় বিজ্ঞাপন নীতি চালু করেছে। কাগজগুলিকে সরকার চাপে রাখতে এগুলি করছে। সংবাদ মাধ্যম বর্তমানে সত্যি কথা বলতে পারছে না। কোনরকম নোটিশ ছাড়া সংবাদ মাধ্যমের উপর আঘাত নামিয়ে আনা হচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ করলেই এ ধরনের আক্রমণ সংবাদ মাধ্যমের ওপর করা হচ্ছে। কিন্তু ২০১৮ সালে অহংকারী সরকারচ্যুত করতে সংবাদ মাধ্যম বড় ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি বিপ্লব কুমার দেবের সমালোচনা করে আরো বলেন সাংবাদিকদের মধ্যে বিপ্লব কুমার দেব বিভাজন তৈরি করেছেন। এমন কি বিপ্লব কুমার দেব সংবাদ মাধ্যমকে প্রকাশ্যে হুমকিও দিয়েছেন। এর তীব্র নিন্দা জানান সুবল কুমার দে। তিনি আর বলেন ত্রিপুরা রাজ্যের ইতিহাসে দুই সাংবাদিক খুনের ঘটনার সিবিআই তদন্ত এখনো এগিয়ে যায়নি। এবং দুই প্রয়াত সাংবাদিকের পরিবার সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এমনকি বর্তমানেও সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত রাজ্যে গত দুই তিন বছরে ৪২ জন সাংবাদিক আক্রান্তের ঘটনা সামনে উঠে এসেছে। কিন্তু কোন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নেই। তাই মুখ্যমন্ত্রীকে সুস্থ তদন্তে দাবি জানান তিনি।  

এদিন আয়োজিত সম্মেলনে তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এবং আইনমন্ত্রী রতনলাল নাথ অনুপস্থিত ছিলেন। সরকারের কীর্তি কানভরে শুনতে পারবে না বলে সেদিন উপস্থিত থাকার কথা দিয়েও দুই মন্ত্রী অনুপস্থিত ছিলেন। সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিচার দিলেন সংগঠনের সভাপতি সুবল কুমার দে। তিনি বক্তব্য শেষে মুখ্যমন্ত্রীকে বললেন বিধানসভার দুই মন্ত্রীর কীর্তি দেখুন। এদিনের আয়োজিত সম্মেলনে রাজ্যের বরিষ্ঠ সাংবাদিক এবং সমাজসেবী সত্য রঞ্জন খিসাকে সংবর্ধনা জানানো হয়। আয়োজিত সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক অরুণ নাথ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য