স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৩ নভেম্বর : তিপরা সিভিল সোসাইটির পিকেটারদের উৎশৃংখলতায় গত ২৩ অক্টোবর অশান্ত হয়ে উঠেছিল কমলপুর মহকুমা শান্তিরবাজার। ঘটনার ২১ দিন পর শান্তিরবাজারের পরিস্থিতি সরজমিনে দেখতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। বৃহস্পতিবার শান্তির বাজারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কথা বলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত হন মুখ্যমন্ত্রী। স্বচক্ষে দেখেছেন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি ব্যবসায়ীদের। তারপরেও ব্যবসায়ীরা তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অবগত করেন মুখ্যমন্ত্রীকে।
কেউ কেউ চোখের জল ফেলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিচার চান এদিন। প্রশাসনিক গাফিলতির বিষয়ে অবগত করেন। মুখ্যমন্ত্রী সকলের উদ্দেশ্যে বলেন তারা যাতে শান্তি সম্প্রীতি বজায় রাখে। নিঃস্ব হয়ে যাওয়া মানুষদের জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন তাদের জন্য যাতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তী সময়ে সামাজিক মাধ্যমে এ বিষয়টি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট এবং বাড়িঘরের মালিকদের তিন লক্ষাধিক টাকা, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট এবং বাড়ি ঘরের মালিকদের দেড় লক্ষাধিক টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক ও দোকানের মালিকদের ১৫ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর সামাজিক মাধ্যমে আরো জানিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বাড়ানো হবে। উল্লেখ্য, এই ঘটনার জন্য দায়ী তিপরা সিভিল সোসাইটি। তাদের পিকেটাররা গিয়ে শান্তির বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঝামেলা করেছে। ব্যবসায়ীরা কেন দোকান খুলে রেখেছে সেই কারণে এত বড় হাঙ্গামা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্ত বাহিনী। এবং এই সংগঠনের অন্যতম মুখ রাজ্যের প্রাক্তন জঙ্গি রঞ্জিত দেববর্মা। বর্তমানে তিনি বিধায়ক। পরিতাপের বিষয় ঘটনার পর ২১ দিনে শান্তির বাজারে গিয়ে পা রাখেননি তিনি। আর ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করবে সেটা অনেক দূরের কথা। বনধের নাম করে কত বড় অশান্তি এবং সর্বনাশ সংগঠিত করেছে সেটা মুখ্যমন্ত্রী হারে হারে বুঝতে পারছেন। অথচ উনার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে কোনরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

