Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ থেকে বরখাস্ত স্পেশাল নার্স, পরে তাদের আটক করল পুলিশ,...

ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ থেকে বরখাস্ত স্পেশাল নার্স, পরে তাদের আটক করল পুলিশ, অসুস্থ তিন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৮ নভেম্বর :হাসপাতালের মধ্যে স্পেশাল নার্সের ছড়াছড়ি। এ বিষয় নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। বরখাস্ত করা হয়েছে এক থেকে দেড় শতাধিক স্পেশাল নার্সকে। দীর্ঘ ২০- ২২ বছর ধরে তারা হাসপাতালে বিনা নিয়োগে রোগীদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা আদায় করে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। শনিবার আচমকাই তাদের মৌখিকভাবে ছাটাই করে দেওয়া হয়।

হাসপাতালে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এসে কাজল নামে এক সিকিউরিটি বলেন, তারা যাতে বাড়ি চলে আসেন। শেষ পর্যন্ত তারা বিষয়টি নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বললে তাদের কাছ থেকে কোনরকম আশ্বাস পাননি। তারপর তারা এলাকার প্রাক্তন বিধায়িকা মিমি মজুমদারের বাড়িতে চলে আসেন। মিমি মজুমদার তাদের সঙ্গে কথা বলার পর তারা যখন বাড়ি ফিরে আসছিলেন তখন পুলিশ এসে তাদের জবরদস্তি ধরে পুলিশ লাইনে নিয়ে আসে।

 পুলিশের আতঙ্ক তারা যদি রাস্তায় থাকে তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় আটকে যাবে। এতে করে তিনজন অসহায় মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে একজন গুরুতর অসুস্থ হন। উনার নাম গীতা দেবনাথ। অভিযোগ, তারা অসুস্থ হয়ে পড়ার পরেও পুলিশ তাদের গাড়ির মধ্যে দীর্ঘ ৩০ মিনিট আটকে রাখে। গাড়ির মধ্যে তোলার সময় তাদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তাদের বাড়ি কোথায়? সে সময় তারা বলেছিলেন হাসপাতালে আশেপাশে তাদের বাড়ি। পুলিশ তাদের আশ্বস্ত করেছিল হাসপাতালে আশপাশে নিয়ে তাদের নামিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু পুলিশ তাদের গাড়িতে তুলে সরাসরি পুলিশ লাইনে নিয়ে আসে বলে অভিযোগ। তাদের বক্তব্য এভাবে কাছ থেকে ছাটাই করে দেওয়া হলে বিকল্প বাঁচার কোন রাস্তা নেই। এই কাজের উপর নির্ভর করে সংসার পরিচালনা করেন তারা। যদি এমন ভাবে অমানবিক হয় সরকার তাহলে তারা আগামী দিন ভোট দেবে না বলেও সরাসরি হুমকি দেন।  এদিকে হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওএসডি নন্দন সরকার জানান, যারা নিজেদের হাসপাতালের স্পেশাল নার্স বলে দাবি করছেন তারা হাসপাতালের কেউ নয়।

বহুবার তাদের হাসপাতালে না আসার জন্য বলা হলেও তারা হাসপাতালের মধ্যেই কাজ করতে আসে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো একজন রোগীকে কিভাবে যত্ন করতে হবে তার কোন প্রশিক্ষণ কিংবা সার্টিফিকেট এই স্পেশাল নার্সদের কাছে নেই। সম্পূর্ণ অযোগ্য। রোগীদের কাছ থেকে জোর করে তারা অর্থ আদায় করছে। এমনকি তারা হাসপাতালে মধ্যে বিভিন্নভাবে চুরির ঘটনা সংঘটিত করে চলেছে। শুধু তাই নয়, রোগীর ঔষধ পর্যন্ত চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয় নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন যদি হাসপাতালে মধ্যে কোন ধরনের ঘটনা সংঘটিত হয় তাহলে এর দায়ভার কে নেবে? আরো বলেন, যেহেতু তারা হাসপাতালের কোন কর্মী নয় তাই তাদের মৌখিকভাবেই বরখাস্ত করা হয়েছে। আগামী দিন যোগ্যতা সম্পন্ন কর্মীদের হাসপাতালে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য