স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৭ নভেম্বর :হাইকোর্টের রায় কার্যকর না করায় সরকারের কাঁধে দোষ চাপিয়ে আন্দোলনে নামতে চলেছে ত্রিপুরা রাজ্য সমগ্র শিক্ষা কর্মচারী সংঘ। শুক্রবার আগরতলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক সম্মেলন করে এই বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরলেন সংগঠনের সভাপতি সেন্টু দাস, সাধারণ সম্পাদক কংস রাম রিয়াং। তারা সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন, ২০১৫ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের সময় সমগ্র শিক্ষার শিক্ষকরা চাকরি নিয়মিতকরণের জন্য ত্রিপুরা হাইকোর্টের ডিভিশন ব্যাঞ্চে মামলা ডায়াল করেছিলেন।
পরবর্তী সময় সমগ্র শিক্ষার শিক্ষকরা ২০১৭ সালে ১ আগস্ট থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত আগরতলা ওরিয়েন্ট চৌমুহনীতে অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে চাকুরী নিয়মিতকরণের জন্য অনশন কর্মসূচি পালন করে। তৎকালীন অনশন মঞ্চে বর্তমান রাষ্ট্র বাদী সরকারের অনেক হেভিওয়েট নেতৃত্ব সমগ্র শিক্ষার শিক্ষকদের দাবির প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে সমর্থন জানিয়েছিল। ২০১৮ সালে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতীয় জনতা পার্টি তাদের ভীষণ ডকুমেন্টের সাত নম্বর পাতার ১০ এবং ১৪ নম্বরে চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিত করন তথা সমগ্র শিক্ষা প্রকল্পের শিক্ষকদের চাকরি অনিশ্চয়তা গুলি দূরীকরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০২১ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরা হাইকোর্ট মামলার রায় দিয়ে নিয়মিতকরণের নির্দেশ দেন। কিন্তু তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রী রতনলাল নাথের উদ্যোগে সমগ্র শিক্ষার শিক্ষকদের জন্য একটি স্কিম চালু করা হয়।
মোতাবেক যে সমস্ত সমগ্র শিক্ষার শিক্ষকরা টেট উত্তীর্ণ ছিল তাদের মধ্যে ১১৩ জনকে নিয়মিত করন করা হয়। বাকিদের জন্য নিয়মিত বেসিক এবং বাৎসরিক ৩ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা হয়। এইচ টিমের বিরুদ্ধে সমগ্র শিক্ষার শিক্ষকরা ২০২১ সালে পুনরায় হাইকোর্টের মামলা করেন। তারপর ২০২৪ সালে ত্রিপুরা রাজ্য সমগ্র শিক্ষা কর্মচারী সংঘ নামক ইউনিয়ন গঠন হয়। তারপর ২০২৪ সালে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্ট এসএলপি দায়ের করে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট থেকে এটি প্রত্যাহার করার দাবিতে আগামী ১২ নভেম্বর সমগ্র শিক্ষা প্রকল্পের অধীনে কর্মরত শিক্ষকরা মিছিল করে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা অধিকর্তার কাছে যাবে। সেখানে ডেপুটেশন প্রদান করা হবে। আরো জানান, সরকার যাতে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন করতে হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করে। একই সাথে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে দাবি ১২ নভেম্বরের আগে যাতে তিনি সমগ্র শিক্ষা শিক্ষকদের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক আলোচনায় বসেন। তারা আরো বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা শিক্ষা দপ্তরের কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না। তাই দাবি-দাওয়া নিয়ে সরব হতে বাধ্য হলো ভারতীয় মজদুর সংঘ অনুমোদিত ত্রিপুরা রাজ্য সমগ্র শিক্ষা কর্মচারী সংঘ। শুক্রবার আগরতলার প্রেস ক্লাবে প্রদেশ কমিটির পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই কথা জানান সংগঠনের নেতৃত্ব। আরো বলেন, তাদের এই অবস্থার জন্য রাজ্যের আমলারা দায়ী।

