স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১১ অক্টোবর :ত্রিপুরা মধ্য শিক্ষা পর্ষদ আগামী বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফি, রিভিউ, রেজিস্ট্রেশন ফি সহ মোট ছয়টি ভাগে ফি বৃদ্ধি করেছে। এআইডিএসও ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি পর্ষদের এই অস্বাভাবিক ফি বৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ জানায়। সাংবাদিক সম্মেলন করে এ কথা জানান সংগঠনের সহ-সভাপতি অরুণ ভৌমিক।
পুরানো ফি স্ট্রাকচারকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে বর্তমানে প্রায় কয়েক গুন ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফি যথাক্রমে ১২০ ও ১৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩০০ এবং ৪০০ টাকা করা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের সমস্ত বিষয়ের প্রেক্টিক্যাল পরীক্ষার মোট ফি ৭৫ টাকার পরিবর্তে প্রতিটি বিষয়ে ৭৫ টাকা করা হয়েছে এবং পরীক্ষার ফলাফলের রিভিউ ফি, সেন্টার ফিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ত্রিপুরা মধ্য শিক্ষা পর্ষদের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক এবং ছাত্র স্বার্থ বিরোধী। এমনিতেই রাজ্যের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্বের চাপে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। সরকারী স্কুলগুলিতে ড্রপ আউটের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিদ্যাজ্যোতি স্কুলে ডেভেলপমেন্ট ফি দিতে না পেরে গরীব ঘরের অনেক ছাত্র ছাত্রীই স্কুল ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
এমতাবস্থায় শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়ে নজর দেওয়ার পরিবর্তে আচমকা এই ব্যাপক ফি বৃদ্ধি করে পর্ষদ ছাত্র সমাজের ওপর বিরাট আক্রমণ নামিয়ে এনেছে।যেখানে সরকারের কর্তব্য ছিল শিক্ষাখাতে রাজ্য বাজেটের বরাদ্দ বৃদ্ধি করে সবার কাছে শিক্ষাকে নিয়ে যাওয়া, সেখানে সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০ প্রণয়নের মাধ্যমে স্কুল স্তর থেকে একেবারে উচ্চ শিক্ষা স্তর পর্যন্ত একাধিক বার শিক্ষাখাতে ফি বৃদ্ধি করেছে। এইভাবে শিক্ষার দায়ভার ঝেড়ে ফেলে বেসরকারীকরণের পথ উন্মুক্ত করছে। এআইডিএসও অবিলম্বে এই বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবি জানায়। পাশাপাশি সাধারণ ছাত্র ছাত্রীর শিক্ষার ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে দলমত নির্বিশেষে সকল স্তরের শিক্ষানুরাগী ও জনসাধারণ প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আবেদন জানান।

