স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২৩ সেপ্টেম্বর : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১১ বছরেরও বেশি শাসনামলে জনস্বার্থের মোড়ক লাগানো প্রায় সকল কর্মসূচির পেছনেই যে গোপন দুরভি সন্ধিমূলক রাজনৈতিক স্বার্থ লুকানো থাকে, তা জাতীয় কংগ্রেসের তরফ থেকে বারবার দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। অনুরূপভাবে প্রদেশ কংগ্রেসের তরফ থেকেও রাজ্যবাসীর জ্ঞাতার্থে সেই সব বিষয় বিভিন্ন সময়েই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।
২০১৭ সালে দানবীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরেই দেশের সংসদে জিএসটি নামক এক কর চাপিয়ে দেওয়া হয় দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীর উপর। মানুষের দৃষ্টিকে ঘুরিয়ে দিতে সেই সময় মোদি, আরএসএস-বিজেপি এবং গোদি মিডিয়া একযোগে প্রচারে নেমেছিলো যেটা গোটা দেশে এক দেশ এক কর এই নীতি স্বাধীন ভারতে নাকি এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। বর্তমান দেশের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি সেই সময়েই বলেছিলো এটা গব্বর সিং ট্যাক্স। এর ফলে দেশের প্রধানত গরিব, শ্রমজীবী, কৃষিজীবী, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত মানুষের রক্ত শুষে নেবে। এটা মানুষের দারিদ্র্যতা আর ক্ষুধাই বাড়িয়ে তুলবে। লাগাতারভাবে জাতীয় কংগ্রেসের তরফ থেকে অন্যান্য জনস্বার্থবাহী বিষয়, দেশ রক্ষা, সংবিধান সুরক্ষা, ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, এসবের সাথে সাথে জিএসটি প্রত্যাহারেরও দাবি করে আসছিল।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী জিএসটির যে স্ল্যাব তার পুনর্বিন্যাস করে বলছে দেশবাসীর জন্য দীপাবলির ধামাকা, দীপাবলি গিফ্ট। নরেন্দ্র মোদি দু’দিন পূর্বে নবরাত্রি উপলক্ষ্যে ঘোষণা করেন জিএসটির এই সংস্কারের ফলে নাকি আত্মনির্ভর ভারত গড়ে উঠবে। এর সূচনা হয় গত সোমবার থেকে। বুধবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনটাই দাবি করলেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী। তিনি বলেন জিএসরটি-র পুনর্বিন্যাস কি করে স্বাধীন ভারতের জনস্বার্থ, জনকল্যাণে এক ঐতিহাসিক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত? যা নিয়ে সরকার, দল আনন্দে মেতে উঠে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে সরকারি কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে নরেন্দ্র মোদির গুণগান প্রচারে মত্ত হয়ে উঠলো। ২০১৭ সালে জিএসটি চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কোষাগারে ৫৫ লক্ষ কোটি টাকা জমা হয়েছে সাধারণের রক্ত শুষে নিয়ে। এছাড়া বিভিন্ন জালিয়াতি সংস্থার মাধ্যমে এই সময়ে কত লক্ষ কোটি টাকা লুপাট হয়েছে তার সঠিক তথ্য জানা না থাকলেও জিএসটি বিষয়ক তদন্তকারী সংস্থা তাদের ২০২৪ সালের রিপোর্টে উল্লেখ করেছিলো ইমপুট ট্যাক্স জালিয়াতির মাধ্যমে ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জিএসটির করের ৩.০২ লক্ষ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দেশের জালিয়াতি সংস্থাগুলো। যে এই জালিয়াতি সংস্থাগুলি সবই নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে তৈরি। এ থেকে জিএসটির কর বিন্যাস করে মোদিজী যে ‘সেভিংস ফেস্টিবল’এর লক্ষ্যে যে ছাড় মিলতে পারে তার পরিমাণ হচ্ছে ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা। যা তাদের সৃষ্টি গভীর ক্ষতে সামান্য ব্যান্ডেজ লাগানার শামিল।
এতে গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের সমস্যা কতটা সমাধান হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এই পরিবর্তন যে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর সমস্যা নিরসনে দ্রুত সমাধানে কোনও স্পষ্ট রূপ দেখা যাচ্ছে না। এতে বেসরকারি লগ্নী বাড়িয়ে জিডিপি-র হার বাড়ানো সম্ভব কিনা এও সন্দেহের। এতে রাজ্যগুলির যে ক্ষতিসাধন হবে তা পূরণের কোনও সুস্পষ্ট প্রস্তাবও নেই। ফলে এই জিএসটি সংস্কারের পেছনেও অন্য কি উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে তা সন্দেহ করার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে জানান তিনি। গত ১১ বছরে প্রমাণিত নরেন্দ্র মোদি দেশের মাত্র এক শতাংশ মানুষের স্বার্থ রক্ষাকারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি গোটা দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠতে পারেন নি। তাই নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ তীব্র প্রতিরোধ আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

